মুন্সীগঞ্জে চাঁই শিল্পের সুদিন

পদ্মা- মেঘনা-ধলেশ্বরী আর ইছামতি নদী পরিবেষ্টিত মুন্সীগঞ্জের অভ্যন্তরে জালের মতো ছড়িয়ে আছে আরো অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল। ভরাবর্ষায় নদ-নদী, খাল-বিলে জেলেরা মাছ শিকারে চাঁই ফেলেও মাছ ধরে। চাঁই জেলেদের মাছ শিকারের অন্যতম কৌশল। চাঁই দেখতে খাঁচার মতো এবং এমনভাবে তৈরি হয়ে থাকে যার ভেতরে ফাঁদ তৈরি করা থাকে। এতে নদ-নদীতে মাছের অবাধে চলাচলের সময় চাঁইয়ের ওই ফাঁদে ধরা পড়ে।

রমজানবেগের চাঁই শিল্পের শিল্পীদের হাতে তাই অনেক কাজ। দম ফেলার ফুসরত নেই। এখানে ১ হাজার নারী-পুরুষ এই শিল্পের জড়িত। প্রায় ৭৫টি পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। চাঁই তৈরিই এদের পেশা। যারা চাঁই তৈরির সঙ্গে জড়িত তাদের বলা হয় সৈয়াল। মুন্সীগঞ্জে চাঁই শিল্পের সঙ্গে অনেকেই বংশানুক্রমে জড়িয়ে আছেন। যে যত চাঁই বানাতে পারেন সে ততো বেশি মজুরি পান। তবে এক একজন শ্রমিক চাঁই তৈরি করে কমপক্ষে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা উপার্জন করতে পারেন।

সরেজমিন রমজানবেগ এলাকা ঘুরে জানা গেছে, চাঁই শিল্পের কাজ চলে বছরের ৬-৭ মাস। বর্ষায় চাইয়ের বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। মূলত ফেব্র“য়ারি মাসে চাঁই শিল্পের কাজ শুরু হয়ে থাকে। তবে এই বর্ষা মৌসুমে তারা দিন রাত অবিরামভাবে চাঁই বানান। আর এ থেকে যা পান চাঁই শিল্পের শ্রমিকরা বছরের বাকি ৫-৬ মাস ওই উপার্জিত টাকায় সংসারের খরচ চালান। এ কারণে মুন্সীগঞ্জের রমজানবেগের চাঁই শিল্পের সোনালী দিনের শ্রমিকদের এখন সুদিন।

[ad#co-1]