দু’গ্রুপের দখলে মুন্সীগঞ্জ বিএনপির পার্টি অফিস

মুন্সীগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত অবস্থায় রয়েছে মুন্সীগঞ্জ বিএনপি। জেলা ও উপজেলার পার্টি অফিসগুলো বিবদমান দু’গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাই। অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলাম ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে,

জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় পার্টি অফিস নেই। পাঁচ উপজেলা অফিসের মধ্যে তিনটি আবদুল হাই গ্রুপের দখলে। বাকি দুটি উপজেলা পার্টি অফিস রয়েছে এম শামসুল ইসলাম গ্রুপের দখলে।

এদিকে জেলা পার্টি অফিস দখলে রয়েছে আবদুল হাই অনুসারীদের। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে পার্টি অফিসগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্বিধাবিভক্ত দু’গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে। লৌহজং উপজেলার ঘোরদৌড় এলাকার দলীয় কার্যালয়টি রয়েছে সাবেক তথ্যমন্ত্রী গ্রুপের লৌহজং বিএনপির সভাপতি সিরাজুল আলম ফুকুর দখলে। গজারিয়া উপজেলার ভবেরচরে পার্টি অফিস রয়েছে একই গ্রুপের উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম পিন্টুর নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে শ্রীনগর উপজেলার বাজার এলাকার দলীয় কার্যালয়টি শ্রীনগর বিএনপির সভাপতি মমিন আলীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি মিজান সিনহা-আবদুল হাইপন্থী। এছাড়া এই পন্থী সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপি অফিসটি সেখানকার সভাপতি আবদুস কুদ্দুস ধীরনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। টঙ্গীবাড়ি উপজেল পার্টি অফিস না থাকলেও উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলী আজগর রিপন মল্লিক মিজানুর রহমান সিনহা-আবদুল হাই ঘরানার বলে সম্প্রতি পরিচিত হয়ে ওঠেছেন। এর আগে তিনি এম শামসুল ইসলামের কাছের লোক হিসেবেই সবাই জানতো। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির পার্টি অফিসের অবস্থান শহরের প্রাণকেন্দ্র থানারপুল এলাকায়। জেলা শহরের এই দলীয় কার্যালয়টি রয়েছে মিজান সিনহা-আবদুল হাই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। প্রায় প্রতিদিন এই দলীয় কার্যালয়টি খোলা থাকে। জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আতোয়ার হোসেন বাবুল, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুুল আজিম স্বপনসহ সিনহা-হাইয়ের অনুসারীদরে জেলা পার্টি অফিসে দেখা যায়।

[ad#co-1]