সাদেক হোসেন খোকার দুর্নীতির তদন্ত শুরু

ডিসিসিতে বসছে তদন্ত কমিটির অফিস
ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে সাত বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির তদন্ত শুরু করেছে সংসদীয় উপ-কমিটি। গতকাল উপ-কমিটি প্রথম বৈঠকে এর কার্যপরিধি চূড়ান্ত করেছে। কমিটি বলছে, তদন্তের স্বার্থে ডিসিসির মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ডাকা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট সুপারিশ আকারে মূল কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবলয়ে সাব-কমিটির বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান কমিটি প্রধান মনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বৈঠকে কমিটির সদস্য আশরাফ আলী খান খসরু ও বিএনপি দলীয় এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া উপস্থিত থাকলেও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন অনুপস্থিত। এর আগে গত ১ জুলাই ডিসিসির অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত করতে এ সাব কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে তদন্ত কমিটি তাদের কাজের সুবিধার জন্য ডিসিসিতে একটি অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটি প্রধান বলেন, এরইমধ্যে কমিটির কাছে ডিসিসিকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে। তিনি বলেন, ডিসিসিতে ওই সময়ে নিয়োগ, বদলি, ঠিকাদার নিয়োগ, রাজধানিতে জলাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনা, কুরবানি উপলক্ষে গরুর হাট ইজারায় অনিয়ম, কমিউনিটি সেন্টারের বণ্টনে অনিয়ম, বাস টার্মিনালে অব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডিসিসির সমন্বয়হীনতা (যেমন: তিতাস, ওয়াসা ও টিএন্ডটি) নিয়ে এই কমিটি কাজ করবে। সেবাদানকারী এ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে গতিশীলতা আনতে এ কমিটি ভূমিকা রাখবে। কাউকে হেয় কিংবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানী করতে নয়।

মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ডিসিসিতে টেন্ডারে বড় ঘাপলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দেখা গেছে, একই ব্যক্তি বারবার টেন্ডার পেয়ে যাচ্ছেন। এটা একটি দুর্নীতি। এমনকি ওয়াসা, তিতাস ও টিএন্ডটি এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজের বিল ডিসিসিকে আগেই পরিশোধ করা হলেও তারা ওই প্রতিষ্ঠানকে বকেয়া নিয়ে টালবাহানা করে-যা একটি দুর্নীতি। এছাড়া রাজধানীতে বর্জ্য অপসারণসহ নানা কাজে ব্যবহৃত ট্রাকের সংখ্যা ১০০ হলেও বিল করানোর সময় দেখানো হয় দুশ। এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করে সেবামূলক এ প্রতিষ্ঠানের কাজে গতিশীলতা দেখভাল করবে সংসদীয় সাব-কমিটি।

তত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরে টাস্কর্ফোস ডিসিসির যে অনিয়ম ও দুর্নীতির রিপোর্ট তৈরি করে তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান সাব-কমিটি প্রধান। তিনি বলেন, আবার টাস্কর্ফোসের বিরুদ্ধেকোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে সেটাও তদন্ত করা হবে। বৈঠকে জানানো হয় গুলিস্থান থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা থাকলেও অনিয়মের কারণে সেটা বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে

[ad#co-1]