মুন্সীগঞ্জে খেয়াঘাটের টেন্ডার স্থগিত

পেছনে ক্ষমতাসীন সিন্ডিকেট
মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের খেয়াঘাটের টেন্ডার রহস্যজনকভাবে স্থগিত করে খাস কালেকশন করা হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া খেয়াঘাটের টেন্ডার দু’বার আহ্বান করে জেলা পরিষদ কোনো কারণ উল্লেখ না করে স্থগিত করে দেয়। খাস কালেকশনে জেলা পরিষদের জনবল নিয়োজিত থাকলেও মূলত এর পেছনে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আর ওই সিন্ডিকেটের হাত হয়ে খাস কালেকশনের নামে জেলা পরিষদের তহবিলে জমা পড়ছে প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা। এতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এদিকে প্রতিদিন ৬১ হাজার টাকা জমা দেয়া সাপেক্ষে টোল আদায়ের দায়িত্ব চেয়ে আবেদন করলে জেলা পরিষদ তা গ্রাহ্য করেনি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদুল হক মুন্না।

জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে মাওয়া খেয়াঘাটের খাস কালেকশন শুরু হয়। মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে খেয়াঘাটের মাওয়াপাড় অংশের টোল আদায়ের ২০০৯-১০ আর্থিক বছরের জন্য ইজারা দিতে দরপত্র আহ্বান করে জেলা পরিষদ। ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা সম্ভাব্য মূল্য উল্লেখ করে গত ৭ জুন জেলা পরিষদ মাওয়া খেয়াঘাট ইজারার শিডিউল বিক্রি শুরু করে। ৯ জুন শিডিউল বিক্রির শেষ দিন ছিল। ১০ জুন শিডিউল জমা ও দরপত্র খোলার দিন টেন্ডার স্থগিত করে দেয়া হয়। এর আগে ২৪ মে জেলা পরিষদ এ ঘাটের ইজারার প্রথম দফা দরপত্র আহ্বান করে। ২ জুন ওই দরপত্রের শিডিউল জমার শেষ দিনে এসে অনির্বায কারণে তা স্থগিত করে দেয়া হয়। প্রথমবার আহ্বানের পর ১ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইজারার দর ওঠে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন সিকদার মাওয়া বোট মালিক সমিতির নামে প্রথম টেন্ডার দাখিল করেন। দর কম হওয়ায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মানুযায়ী দ্বিতীয়বার দরপত্র আহ্বান করেন। অন্যদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি রাশিদুল হক মুন্না খেয়াঘাটের সম্ভাব্য মূল্য দেয়ার কথা বলে ২৮ জুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী নূরের বরাবর আবেদন করেন। এ জন্য তিনি সিকিউরিটি মানি হিসেবে ২৫ লাখ টাকা জেলা পরিষদের তহবিলে জমা দেন। এর কয়েকদিন পর তাকে বদলি করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খেয়াঘাটে জেলা পরিষদ নিয়োজিত লোক থাকলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ক্যাডার মাহাবুব, পাভেল ও রনি লঞ্চঘাটের, শিপন সিবোট কাওড়াকান্দি ও সোহেল মাঝিকান্দি সিবোট ঘাটের টোল আদায় করছে।

মেদিনীম-ল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রাশিদুল হক মুন্না জানান, উত্তোলনকৃত টাকা প্রতিদিন জমা দেয়া হচ্ছে স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি মেহেদী হোসেনের কাছে। তারা প্রতিদিন জেলা পরিষদের তহবিলে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করছে। তিনি আরো জানান, তাকে ইজারা দেয়া হলে প্রতিদিন ৬১ হাজার টাকা দেয়া হতো, যা খাস কালেকশনের দ্বিগুণ। এতে বছরে সরকার এক কোটি টাকার ওপর রাজস্ববঞ্চিত হবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, মাওয়া খেয়াঘাটের দরপত্র স্থগিত হওয়ায় বর্তমানে খাস কালেকশন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে দু’বার দরপত্র আহ্বান করেছিলেন সে সময়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী নূর। অনিবার্য কারণে টেন্ডার দুটি স্থগিত করা হয়েছে বলে আলী নূর উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ওপরের নির্দেশে টেন্ডার স্থগিত করা হয়েছিল।

[ad#co-1]