পদ্মার পানি আজ কমতে পারে : নদী ভাঙন বৃদ্ধি

এ বছরও থেমে নেই পদ্মার ভাঙন। ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্রমেই বিলীন হচ্ছে প্রাচীন জনপদ বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতোমধ্যে জেলার তিনটি উপজেলা টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও শ্রীনগরের শতাধিক গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বদলে গেছে গোটা জেলার মানচিত্র। এদিকে টঙ্গিবাড়ী হাসাইল বানারী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩ কোটি টাকার নামমাত্র বাঁধটি নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। একই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করেছে। তবে এ বাঁধেরও টিকে থাকার গ্যারান্টি নেই। এ ছাড়া শ্রীনগরেও এ বোর্ডের লাখ লাখ টাকার প্রকল্প বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পদ্মার প্রবল স্রোতে কোনো কিছুই যেন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প শুধু কিছু মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়। কিন্তু নদীভাঙনের শিকার হাজার হাজার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন কাটালেও তাদের ভাগ্যের বদল হচ্ছে না। এটাই তাদের নিয়তি।

এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বাঁধ নির্মাণে টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল-বানারী এলাকায় নদীভাঙন কিছুটা স্তিমিত হলেও শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল, উত্তর কামারগাঁও, পূর্ব বাঘরা, বাঘরা, কেদারপুর, মাগডাল, মান্দ্রা, কবুতরখোলা গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর নদীভাঙনের মুখে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে ভাগ্যকুল ও বাঘরা বাজারের সাত শতাধিক দোকানঘর-সহস্রাধিক বাড়িঘর। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চবিদ্যালয়, বাঘরা বাসুদেব মন্দির, স্বরূপ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, কামারগাঁও রাধা গোবিন্দ মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঢাকা-দোহারের দুই কিলোমিটার সড়ক ভাঙনের মুখে। ভাগ্যকুল ও বাঘরা বাজার রক্ষায় সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ পেলেও ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো রক্ষায় কোনো ব্যবস্খা করা হয়নি।

লৌহজং উপজেলায় গত এক সপ্তাহে পদ্মা গ্রাস করেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। লৌহজং থানা, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস ভাঙনের মুখে রয়েছে। ডহুরী, কলমা, সামুরবাড়ি এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্খানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্খা না নেয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা নানা পন্থায় ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ১৫ বছরে এ উপজেলার ৩৮টি গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছেন্ধ ধাইদা, তেওটিয়া, লৌহজং, গাওদিয়া, কনকসার ও কুমারভোগ।

মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ নয়া দিগন্তকে জানান শ্রীনগরের নদীতীরবর্তী কবুতরখোলা-ভাগ্যকুল-বাঘরা এলাকায় ৪৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রয়েছে। শিগগিরই তা একনেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আশা করি এ বাঁধ নির্মাণ হলে পদ্মার ভাঙন থেকে এলাকার জনগণকে রক্ষা করা আরো সহজ হবে।

[ad#co-1]