গ্যাসসহ বিভিন্ন দাবিতে মুন্সীগঞ্জে মানববন্ধন

2009-07-06-17-21-33-Munshiganj 01গ্যাস সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে।
সকাল ১১ টার দিকে শহরের পুরনো কাছারী এলাকা থেকে প্রেসক্লাব চত্বর পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে এ মানববন্ধনে রাজনীতিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর মুন্সীগঞ্জ শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার বহন করেন।

গ্যাস সংকট নিরসন ছাড়া অন্য দাবিগুলো হল- নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া-মুক্তারপুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ, পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত মিটার ভাড়া বাতিল, শহরের জলবদ্ধতা নিরসন এবং দ্রুত রাস্তা-ঘাট মেরামত।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে থানা প্রাঙ্গণে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন ও মুন্সীগঞ্জ শাখা ক্যাব এর সভাপতি জাহাঙ্গীর সরকার।

http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?id=53332&cid=2&aoth=1

————————————————-

মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সঙ্কট
শিল্পকারখানা বìধ : বাসাবাড়িতে রান্না বিঘিíত
আবুসাঈদ সোহান মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে গ্যাসচালিত শিল্পকারখানা বìধ হয়ে গেছে। অনেক বাসাবাড়ির রান্না বিঘিíত হচ্ছে। খড়ি দিয়ে কিছু পরিবার রান্না করলেও অনেকে বাইরে থেকে খাবার এনে জীবনধারণ করছেন। গ্যাস সঙ্কটের ব্যাপারে তিতাস গ্যাস আঞ্চলিক ব্যবস্খাপক অজিত চন্দ্র দেব জানান, মুন্সীগঞ্জ সংযোগ পাইপলাইন সরু থাকায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম হওয়ায় এ অবস্খার সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিগগিরই এর সমাধানে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার ১২ ইঞ্চি প্যারালাল গ্যাস লাইনের কাজ শেষ হবে বলে তিনি জানান।

প্রায় আট হাজার সংযোগ রয়েছে মুন্সীগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায়। এর মধ্যে ৩৭টি শিল্পকারখানা গ্যাসচালিত। প্রায় এক কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২০-২৫ শতাংশ সরবরাহ হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন এবং নারায়ণগঞ্জ হয়ে ধলেশ্বরী নদীর তলদেশ দিয়ে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস আসে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়ায় এবং নারায়ণগঞ্জে চাহিদা অনেক বেশি থাকায় মুন্সীগঞ্জের এ অবস্খা বলে তিনি জানান।

শহরের শ্রীপল্লী বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, কিছু দিন ধরেই গ্যাসের সঙ্কট চলছে। তবে রাতে কিছু গ্যাস পাওয়া যেত। রাতের রান্না করা খাবারে সারা দিন চলত। কিন্তু এখন গ্যাস একবারেই আসছে না। তাই চুলা কিনে এখন খড়ি দিয়ে কোনোমতে রান্না চলছে। একই অবস্খার কথা জানান নয়াপাড়ার গৃহবধূ সুবিতা রানী। মধ্য কোর্টগাঁও বাসিন্দা হামিদা খাতুন জানান, গ্যাসের জন্য প্রহর গুনতে হয়। সময় সময় গ্যাস যখন আসে, তখনই রান্না সেরে নিতে হয়। নতুবা বাইরের পাউরুটি, পরোটা বা বিþুকট খেয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে দিন কাটাতে হয়।

শহরের খালইস্ট, মাঠপাড়া, ইসলামপুর, দেওভোগ, শিলমন্দি, কাটাখালী, রনছ, মালপাড়া, গোয়ালপাড়া, কোর্টগাঁও, গণকপাড়া, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, ইদ্রাকপুর, মানিকপুর, থানা কাউন্সিল, জমিদারপাড়ায়ও একই অবস্খা। এ পরিস্খিতিতে মুক্তারপুরের গ্যাসচালিত শিল্পকারখানর উৎপাদন বìধপ্রায়। এশিয়ান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক শাহ আলম জানান, গ্যাস না থাকায় তার ফ্যাক্টরির উৎপাদন এখন বìধই বলা চলে। এ ছাড়া ক্রাউন, শাহ সিমেন্ট, প্রিমিয়ার ও এমিরাত সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে গ্যাসচালিত জেনারেটর বìধ হয়ে গেছে। তাই এখন ডেসার বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে এখানকার সিমেন্ট কারখানাগুলো চলছে।

স্বাভাবিক অবস্খা থাকতেও শহরের শ্রীপল্লীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘিíত হচ্ছিল। এ পরিস্খিতি নিরসনে এম ইদ্রিস আলী উদ্যোগ নেন। এখানে নতুন পাইপলাইন স্খাপনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও পদ্ধতিগত কারণে বিলম্বিত হচ্ছে।

গ্যাসের পরিস্খিতির কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মোশারফ হোসেন জানান, সমস্যা সমাধানে তিতাস গ্যাসের এমডি’র সাথে তার দফায় দফায় আলোচনা হচ্ছে। পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন পাইপলাইন স্খাপনের ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সব রকম চেষ্টা চলছে।

[ad#co-1]