মুন্সীগঞ্জের নৌপথে চোরাচালন

মুন্সীগঞ্জের নৌপথে চোরাকারবারিদের অবৈধ ব্যবসার মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে অনায়াসেই সরকারি জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরির কাঁচামাল খালাস করে নিচ্ছে। চোরাকারবারিরা অবৈধ মালামাল খালাসের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে মুন্সীগঞ্জ সদরের ধলেশ্বরী, গজারিয়া, মেঘনা, বন্দর ও সোনারগাঁও থানার শীতলক্ষ্যা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা। তত্ত্বাবধায়ক জমানায় এ অবৈধ ব্যবসা বন্ধ ছিল। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে সরকারি জাহাজে ফতুল্লার মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে জ্বালানি তেল খালাসের আগেই মেঘনা, ধলেশ্বরী শীতলক্ষ্যা নদীতে জাহাজ এসে নোঙর করে। এরপর জাহাজের কর্মচারীদের সহযোগিতায় চোরাকারবারিরা নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি তেল খালাস করে নেয়। জাহাজের কর্মচারীদের বিক্রি করে দেয়া এ জ্বালানি তেল তারা ট্রলারের মাধ্যমে নিয়ে যায়। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত যে কোন সময়ে এ জ্বালানি তেল খালাস হয়। এ তেল সরানোর কাজে প্রধান গজারিয়া উপজেলার টানবলাকির গিয়াস ইম্মানিরচরের রিপন, গোয়ালগাঁওয়ের মাসুম গং বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এরা মেঘনাঘাট, ইম্মানিরচর, হোসেন্দি বাজার, ফতুল্লা খেয়াঘাট, নারায়ণগঞ্জের ধর্মগঞ্জ এলাকায় গড়ে তুলে জ্বালানি তেল চুরির পয়েন্ট। এর মধ্যে সোনারগাঁ থানার চরকিশোরগঞ্জ (বালুরঘাট), মুন্সীগঞ্জ শহরের চরকিশোরগঞ্জ (মোল্লারচর), হাটলক্ষীগঞ্জ ও বলেশ্বরী শীতলক্ষ্যা মোহনায় তেল খালাস করার নিরাপদস্থান। চোরচালান সিন্ডিকেটের প্রধান নুর মোহাম্মদ ওরফে নুরু যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলের প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যায়। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে জেলা বিএনপি’র সাবেক সহসভাপতি গুলজার হাজী ও তার ভাই আমির সওদাগর গংকে সঙ্গে নিয়ে এ ব্যবসা মাতিয়ে তুলে। বন্দরের একরামপুর গ্রামের নুরু ও গজারিয়ার টানবলাকি গ্রামের গিয়াসউদ্দিন ওরফে গিয়াস জাতীয় পার্টির আমল থেকে জ্বালানি তেল, ক্লিঙ্কার, সার পাচারসহ নৌপথে নানা রকম চোরাচালান ব্যবসা করে আসছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা নেতা পরিবর্তন করে। চোরাচালান ব্যবসা করে তারা এখন কয়েক শ’ কোটি টাকার মালিক। জানা গেছে, সরকারি জাহাজ থেকে পাচার করে নেয়া ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন ট্যাঙ্ক লরির মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি, নারায়ণগঞ্জসহ ১০-১২টি পেট্রোল পাম্প এবং বড় বাজারগুলোতে ওই মালামাল সরবরাহ করে। একই সঙ্গে অবৈধ ক্লিঙ্কার সরবরাহ করে গজারিয়ার বিভিন্ন সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে।