নাইট ক্লাব বারে হামলা করে ট্যুরিজম হবে না

নঈম নিজাম:
টেলিফোন পেলাম আমার সিঙ্গাপুরের বন্ধু ক্রিসের। আমি তাকে আমন্ত্রণ জানালাম বাংলাদেশে আসতে। ক্রিস হাসলেন ও বললেন, তোমাদের দেশে এসে কী হবে? শুনেছি নাইট ক্লাব আর বারে পুলিশ ও র‌্যাব হামলা করছে। জানতে চাই, ক্রিস একথা কোথায় শুনেছে। জবাবে ক্রিস জানান, ওয়েবসাইটে পেয়েছে।

কয়েকদিন আগে পত্রিকায় এমন অভিযানের খবর পড়েছি। এর ধাক্কা সিঙ্গাপুর পর্যন্ত যাবে তা ভাবিনি। আমি জানি ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশিরা বৃহস্পতিবার চলে যান নেপাল, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর আর সিঙ্গাপুরে। শনিবার ফিরে আসেন। দুদিন থাকেন। বাংলাদেশে আয় করেন। অন্য দেশে খরচ করেন। একজন আমাকে বললেন, তারা কক্সবাজার গেলেই পারেন। কক্সবাজার গিয়ে করবেটা কী? মিনারেল ওয়াটার খেয়ে, সমুদ্র সৈকত দেখার শখও তাদের নেই। সন্ধ্যার পর তারা খোঁজেন নাইট ক্লাব, ডিসকো, ক্যাসিনো ক্লাব আর চান পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। এর কোনোটাই নেই। বরং নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিতরা প্রতিরাতে বৈধ বারে হামলা করছে। নিস্তার নেই কোরিয়ান ক্লাবগুলোতেও। কোন দুঃখে বিদেশিরা এখানে হলিডে কাটাবে!

আমাদের ট্যুরিজম মন্ত্রণালয় বিদেশি পর্যটকের সন্ধানে নানামুখী প্রচারণা চালাচ্ছে। ভালো কথা। কিন্তু তারা একবারও ভাবেন না বিদেশিরা এখানে করবেন কী? কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। বরং আছে পুলিশ, র‌্যাবের অভিযান, মাস্তান, ছিনতাইকারী আর সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়। একজন বললেন, আমরা মুসলিম দেশ। মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, তুরস্ক, কাতার কি খ্রিস্টান দেশ? ঘরে বসে কক্সবাজার বিশ্বের বড় সমুদ্র সৈকত ভোট দিলেই চলবে না। ট্যুরিজম নিয়ে একটু পরিকল্পনা নিন। বদলে যাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন করুন ইনানী থেকে টেকনাফ, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সেন্টমার্টিন, টাঙ্গাইলে যমুনার তীরে। রাখতে হবে ক্যাসিনো ক্লাব, ডিসকো, বারসহ পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত শুধুমাত্র বিদেশি এবং দেশীয় সদস্যদের জন্য। দেশীয়রা নির্ধারিত অর্থ দিয়ে সদস্যপদ নেবেন। আর বিদেশি পর্যটকদের দিতে হবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা। মনে রাখতে হবে প্রার্থনা সভায় যোগ দিয়ে মিনারেল ওয়াটার খেতে বিদেশিরা আসবে না। বিদেশিদের টানলে কক্সবাজার হবে ব্যাংকক সিঙ্গাপুর, কুনমিং সিটির মতো ট্যুরিস্ট জোন। কক্সবাজার থেকে ফুকেতের ফ্লাইং দূরত্ব এক ঘণ্টা, ইয়াঙ্গুন ৩০ মিনিট আর কুনমিং দেড় ঘণ্টা। এই শহরগুলোতে ট্যুরিস্টদের মেলা বসে। সুযোগ দিন। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করুন। ঘণ্টায় ঘণ্টায় উড়োজাহাজ নামবে। হোটেলে বিদেশিদের জায়গা দিতে পারবে না।

মাহাথির মুহাম্মদ পশ্চিমা দেশে যেতেন। নিজ দেশে ফিরে তাদের অনুকরণে উন্নয়ন করতেন। ইসলামিক দেশে রমজান মাসে যার খুশি ইফতার কিনছে, যার খুশি মদ কিনছে। কেউ বাধা দিচ্ছে না। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার নির্মাণ করা যায় কোস্টাল হাইওয়ে। আনোয়ারা, বাঁশখালী, চকরিয়ার উপর দিয়ে যাবে এই হাইওয়ে। কোস্টাল হাইওয়ের পাশে থাকবে ট্যুরিস্ট জোন। কতুবদিয়া, মহেশখালীকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। অসম্ভব কিছুই নয়। ফ্লোরিডার টেম্পায় দেখেছি কীভাবে তারা ছোট ছোট দ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে। মালদ্বীপও তাই। গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রয়োজনীয়তা ভবিষ্যতে দেখা দেবে। কুতুবদিয়া, মহেশখালীকে ঘিরে মাস্টার প্ল্যান নিন। বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা করুন দুটি দ্বীপকে। বদলে যাবে বাংলাদেশ। বাস্তবায়ন হবে দিন বদলের সনদ।

পুনশ্চ: কোরিয়ান নাইট ক্লাব, বারে পুলিশ, র‌্যাবের অভিযানের কারণ জানতে খবর নিলাম। না কোনো কারণ নেই। সরকারের কোনো বিশেষ নির্দেশও নেই। থানায় থানায় পুলিশের নতুন কর্তারা এসেছেন। অধিকহারে মাসোহারা আদায়ের লক্ষ্যেই চলছে এই অভিযান। হায়রে ট্যুরিজম!!!