অভিযোগের আঙুল আহ্বায়কের দিকে

পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে মুন্সীগঞ্জ বিএনপি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। আহ্বায়কের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ব্যক্তিবিশেষের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করে দলীয় রাজনীতিতে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে কমিটির একটি পক্ষ অভিযোগ তুলেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা তার একক সিদ্ধান্তে সব যুগ্ম আহ্বায়কের পরামর্শ ছাড়া ৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন বলে ওই পক্ষ জানিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী এম শামসুল ইসলামের পরামর্শক্রমে মুন্সীগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির ছয় যুগ্ম আহ্বায়ক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ জুন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহাকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যবিশিষ্ট মুন্সীগঞ্জ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশমতে বৃহস্পতিবার ৫১ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। নতুন তিনজন আহ্বায়কসহ বাকি ৪১ সদস্য নিয়ে আপত্তি তোলেন ছয় যুগ্ম আহ্বায়ক। তারা হলেন শাহজাহান সিকদার, মীর সরাফত আলী সপু, ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম, রহিমা সিকদার, শফি বিক্রমপুরী ও শেখ আতাউর রহমান। তারা অভিযোগ আনেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশ পরিপন্থীভাবে নিজস্ব রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টির লক্ষ্যে আহ্বায়ক তার একক সিদ্ধান্তে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটিতে অনেক ত্যাগী নেতাকে স্থান দেয়া হয়নি। নতুন যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন নজরুল ইসলাম বাচ্চু, শাহজাহন খান ও শ্রীনগর বিএনপির সভাপতি মমিন আলী। এদিকে মিজানুর রহমানের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে লৌহজং উপজেলা বিএনপি সভাপতি সিরাজুল আলম ফুকুকে এ কমিটিতে রাখা হয়নি। এ ব্যাপারে সিরাজুল আলম ফুকু বলেন, মিজানুর রহমান সিনহা একজন জনবিচ্ছিন্ন মানুষ। সে আমাকে কমিটিতে রাখলো কি না রাখলো তাতে কিছু যায় আসে না।
দলীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাইয়ের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিকাদর হলেন এম শামসুল ইসলামের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত। আর ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম হলেন এম শামসুল ইসলামের বড় ছেলে। অন্যদিকে আবদুল হাইয়ের কাছের লোক হলেন বর্তমান আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা। নতুন যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন মিজানুর রহমান ও আবদুল হাইয়ের ঘনিষ্ঠজন।
জেলা বিএনপি আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা জানান, নতুন যুগ্ম আহ্বায়ক সম্পর্কে আমার কোনো মন্তব্য নেই। যারা অভিযোগ করেছে এটা তাদের ব্যাপার। দলের চেয়ারপারসন যে সিদ্ধান্ত নেন তাই হবে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিকদার জানান, আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা তার একক সিদ্ধান্তে কমিটি গঠন করেছেন, যা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।

____________________________________________________________________________________

ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপিকে যারা চোরের দল বলেছিল তারা এখন মুন্সীগঞ্জ আহ্বায়ক কমিটিতে

কাজী দীপু মুন্সীগঞ্জ থেকে: ওয়ান-ইলেভেনের সময় মুন্সীগঞ্জের যে সব নেতা বিএনপিকে চোরের দল, খালেদা জিয়ার পরিবার চোরের পরিবার ও হাওয়া ভবন চোরের ভবন বলে প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখেছিলেন তাদের জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়েছে। বিএনপি ছেড়ে পিডিবি ও সেনাবাহিনীর সমর্থনে দলের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালনকারীরা কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত হয়ে এখন তারা নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আর যারা দলের ত্যাগী ও পরিক্ষীত নেতা তাদেরকে এই কমিটিতে রাখা হয়নি। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মুন্সীগঞ্জ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ৬ যুগ্ম আহ্বায়ক লিখিতভাবে এ অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

তারা লিখিতপত্রে আরো বলেছেন, আহ্বায়ক কমিটিতে যাদের অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে তারা বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে দলের সংস্কার চেয়েছিল। সে সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলো আজ দলিল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

দলের যে নেতারা এসব তথ্য তুলে ধরেন তারা হলেন, আহবায়ক কমিটির যুগ্ন আহ্বায়ক শফি বিক্রমপুরী, মীর শরাফত আলী সপু, ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম, শাহজাহান সিকদার, রহিমা সিকদার, ও আতাউর রহমান। সম্পাদনা: হাসান জাকির