মাদকের ছোবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যা করণীয়

59537_Drugগোলাম কাদের
বাংলাদেশের যুব সমাজকে কর্মক্ষম, উদ্যমী তারুণ্যে উজ্জীবিত করতে হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজাতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত বাতিল কর্মচারী দিয়ে দিনবদল এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে না।

মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি, নেশা মানবসভ্যতার মতোই একটি পুরনো ও প্রাচীন বিষয়। মানবসভ্যতার ঊষালগ্নে যৌনকর্মী এবং মাদকদ্রব্য যা আজো সত্যতার চূড়ান্ত পর্যায়ে মানুষের পাশাপাশি তাল মিলিয়ে টিকে আছে।
প্রাচীনকাল থেকে এ দুটি বিষয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে কখনো আনন্দ, কখনো ধর্মীয় উৎসবের আবহের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মাদকদ্রব্য হিসেবে ভারতবর্ষে পপির নির্যাস গ্রহণ করা হতো, তখনো মরফিন ও হেরোইন আবিষ্কৃত হয়নি। দক্ষিণ আমেরিকার কোকো গাছ থেকে কোকেন প্রস্তুত হওয়ার বহু আগে সেখানকার আদিম অধিবাসীরা কোকো পাতা চিবিয়ে খেতো।
মেক্সিকোতে ইন্ডিয়ানরা (অতঞঊপ) ১০০ খ্রিস্টা পূর্বাব্দে ঐধষষঁপরহড়মবহরপ ঢ়ংরষড়পুনরহ সঁংযৎড়ড়সং নামের উদ্ভিদের নির্যাস গ্রহণ করতো। আমেরিকার গির্জাগুলোতে গাছের নির্যাসও ব্যবহার করতো। ওই এলাকার ক্যাকটাস শুকিয়ে খেতো। এসব উদ্ভিদজাত নেশাদ্রব্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক বিপর্যয়, দুঃখ-বেদনা থেকে সাময়িক পরিত্রাণের অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই বহুবিধ ব্যবহার বিভিন্ন ধর্মী কৃষ্টি এবং সামাজিক রীতিনীতি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
মাদকের ব্যবহার আধুনিক যুগের ব্যবহার উপকরণ নয়। প্রাচীনকাল থেকে হয়ে আসছে। তবে আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বিধিতেও আধুনিকতা ঢুকেছে, বিষয় ও ব্যবহারে বৈচিত্র্য এসেছে। আর আধুনিক যুগের সৃষ্টি প্রযুক্তির উন্নয়ন সঙ্গে নিয়ে মাদকদ্রব্যের বিশ্বব্যাপী এক ধ্বংসাত্মক ও সর্বগ্রাসী মূর্তি নিয়ে আবির্ভাব ঘটেছে, যা পৃথিবীর দেশে দেশে সবাইকে আতঙ্কগ্রস্ত করে রেখেছে। এমনকি যারা পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে তারাও আজ এই আসক্তির স্বীকার যে, কোনো সময় মাদকের কারণে ভুল বাটনে টিপ দিয়ে বসলে আমাদের প্রিয় পৃথিবী ধ্বংস করার মতো যাদের কাছে পরমাণু অস্ত্র আছে, নিমেষেই সব শেষ হয়ে যাবে। তাদের কাছে তো এ রকম ১০টি পৃথিবী ধ্বংস করার অস্ত্র মজুদ আছে।
উল্লেখ করা প্রয়োজন, ১৯৮৬ সালে সেপ্টেম্বরে সোভিয়েত প্রেস জানায়, সাইবেরিয়ায় সংঘটিত হাইজ্যাকিংয়ের ঘটনাটির সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিরা যারা গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল, তার কারণ মাদকদ্রব্য। আমেরিকায় ১৯০৫ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ৫০টি ট্রেন দুর্ঘটনার কারণও মাদক। ১৯৮৩ সালে নিউইয়র্ক এয়ারপোর্টে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তাও মাদকের কারণে। ওই পাইলটের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়, বিমান চালনার সময় তিনি মারিজুয়ানা গ্রহণ করেছিলেন।
এখন প্রতিদিন মাদকজনিত সর্বনাশা নানা ঘটনা ঘটছে। কোনো সংবাদের শিরোনাম মাদকের কারণে মাকে অথবা বাবাকে পুত্র জবাই করে হত্যা করেছে। আর যতো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে তার অধিকাংশই মাদকজনিত। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এগুলোর মূল সূত্র মাদকদ্রব্য।
মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতার সৃষ্টি হয় প্রাচীনকাল থেকেই। খ্রিস্টপূর্ব ১৭০০ অব্দে ব্যাবিলনে ড্রাগের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। চীনের অধিকাংশ লোকই আফিমে আসক্ত ছিল। ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে আফিম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্বীকৃত হয়। কিন্তু ততোদিনে ড্রাগ ব্যবসা বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট প্রসার ঘটে। এ সময়ে আফিম আমদানির ওপর কড়া নজর জারি করা হয়। কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থনৈতিক কৌশলের জন্য তাও ব্যর্থ হয়।
ইসলামে মাদককে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘কুল্লু মুশফিরুন হারামুন’ অর্থাৎ সব নেশাদ্রব্য হারাম। বৈজ্ঞানিকভাবে ধূমপানও নেশা, অতএব ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপানও হারাম।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ওহে মুমিনগণ! নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ণয়ক বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো (সুরা আল মায়িদা, আয়াত-৯০)
রাসূলে করিম (সা.) আরো বলেছেন, ‘তোমরা মাদক ও নেশা থেকে দূরে থেকো, কেননা এটা সব অপকর্ম ও সব অশ্লীলতার মূল। আর কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ইমানদার হতে পারে না।’ (মুসলিম)
আঠারো ও উনিশ শতকে বৃটেনে ওষুধ তৈরির প্রধান উপাদান ছিল আফিম। উনিশ শতকের শেষে ইউরোপ-আমেরিকায় আফিমের ব্যবহার খুব বেড়ে যায়, এমনকি শিশুদের ওষুধেও ব্যাপকভাবে আফিম ব্যবহৃত হতে থাকে।
আঠারো ও উনিশ শতকে রসায়ন ফার্মেসি শাস্ত্রের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আগের চেয়ে ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রাগসের আবিষ্কার হয়। ১৮০৩ সালের দিকে আফিম থেকে আবিষ্কৃত হয় মরফিন। প্রথম বেদনানাশকরূপে মরফিনের প্রচলন শুরু হয়। ১৮৭৮ সালে ভয়াবহ মরফিন আসক্তদের চিকিৎসার জন্য কোকেন (সোডারূপে) ব্যবহার শুরু হয়। ১৮৮০-এর দিকে সমগ্র ইউরোপে কোকেন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮৮৪ সালে সিগমন্ড ফ্রয়েড মানসিক অবসাদের চিকিৎসার জন্য কোকেন ব্যবহার করেন। ১৮৯৮ সালে একজন জার্মান ফার্মেসি গবেষক যন্ত্রণা নিবারণের জন্য হেরোইন আবিষ্কার করেন। পরে এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পরিণত হয় নেশার বস্তুতে। প্যাথেডিনও তাই বেদনানাশক এবং অস্ত্রোপচারে ব্যবহার হয়। এখানে অপব্যবহারের কারণে প্যাথিডিন এখন নেশা বা মাদকের তালিকায়।
মাদকদ্রব্যের এ অপব্যবহার এখন আর উন্নত নয়, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহরূপে। মাদক এখন একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা।
বাংলাদেশেও এর ভয়াবহ রূপ প্রতিনিয়ত লক্ষ্যগোচর। বাংলাদেশে গাঁজা, চরস, আফিম ইত্যাদির প্রচলন নতুন নয়, প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত ইয়াবা নয়, শুধু ফেনসিডিল এমনকি এনার্জির নামে বাংলাদেশে বহু ড্রিঙ্কস বাজারে সয়লাব। দেখার কেউ নেই। মাদক অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা এই ভয়াবহ সর্বগ্রাসী তরুণ প্রজন্ম বিনষ্টকারী মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। গণসচেতনতামূলক কাজগুলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোই করে যাচ্ছে। গণমাধ্যম ২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস হিসেবে একটি র‌্যালির ব্যবস্থাও তারা করার অপারগতা প্রকাশ করে। কিছু কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আনুষ্ঠানিকতায় তাদের ডেকেও সাড়া পায় না। সারা বছরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে তাদের তেমন যোগাযোগ হয় না। ২৬ জুন এলে তারা নড়েচড়ে বসেন, একটি সেমিনার করেন। আর ওই সেমিনারে তারা প্রতি বছর একই বক্তব্য রাখেনÑ তাদের অস্ত্র নেই, লোকবল নেই, পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। অনেক সংগঠন যদি প্রস্তাব করে আজকাল বড় বড় কোম্পানি তো এসব ব্যাপারে স্পন্সর করে, তারা দুর্নীতির প্রশ্নে অনীহা প্রকাশ করে। অথচ ইন্সপেক্টর লেভেলের অনেক কর্মকর্তার ঢাকা শহরে দুই-তিনটি বাড়ি আছে। কারো আবার ১০০ বিঘা নিয়ে ইকো পার্কও আছে। অধিদপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত বৈদেশিক ট্রেনিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ট্রেনিং কর্মশালার ব্যবস্থা না করে তারা সারা বছর বৈদেশিক কর্মশালায় ব্যস্ত সময় কাটান। এ সময় দেখা যায়, অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলির কারণে তার এ দক্ষতা তার নিজের এবং পরিবারের কারো কাজে এলো না। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে তাদের আচরণ সঠিক নয়। অধিদপ্তরে নিবন্ধিত কিছু সংগঠন আছে যারা তোষামোদ করে তাদের কাছে ভালো অবস্থানে থাকে, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে তাদের ডাক পড়ে। তারা মাদক নিরোধের চেয়ে অধিদপ্তরের অন্য কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন যেখানে, লাইসেন্স, পারমিট বারগুলো দেখাশোনা এবং মাদক রিলেট কিছু উপাদান আমদানি এগুলো নিয়েই কাজ করতে অধিদপ্তরের কাজের উৎসাহের কমতি নেই। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তো সচরাচর পত্রপত্রিকায় দেখা যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় এ দপ্তর নিয়ে অনেক সাংবাদিকও ঘাঁটাঘাঁটি করতে তেমন চান না। ২৬ জুন সামনে রেখে কিছু ভালো কর্ম তাদের দৃষ্টিতে উপস্থাপন করতে হয়, বাহ্বা পাওয়ার জন্য কিছু মাদক ব্যবসায়ী ও পরিত্যক্ত ফেনসিডিল ধরা পড়ে ফলাও করে পত্রপত্রিকা সাফল্যগাথা প্রচার হয়। তারপর তারা ক্লান্ত পথিক। দেখা যায় বিডিআর, র‌্যাব, পুলিশ সারা বছর কমবেশি মাদক নিরোধ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনও নজির আছে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে, দুই-তিন কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার। পরে পরীক্ষা প্রমাণ মিলেছে পাউডার। আসামিকে তখন তো আর কিছু করার থাকে না।
বাংলাদেশের যুব সমাজকে কর্মক্ষম, উদ্যমী তারুণ্যে উজ্জীবিত করতে হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজাতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত বাতিল কর্মচারী দিয়ে দিনবদল এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্ভবত একবারও অধিদপ্তর পরিদর্শন করেননি, দুর্নীতির অতীত ও বর্তমান ফাইলগুলো নাড়া দেননি। আশা করি, দিনবদলের গতিশীল দেশ গড়তে হলে প্রধানমন্ত্রীকে নিমজ্জিত মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে উদ্ধার করতে হলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেই এই সেক্টরে নজর দিতে হবে। হাত লাগাতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির আগে প্রধানমন্ত্রীকে সৎ, যোগ্য, দক্ষ যুব শক্তি খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী কার্যকর সংস্থা হিসেবে আগে দাঁড় করাতে হবে। দুর্নীতির ধুলোবালি ছেড়ে একটি কার্যকর সংস্থা হিসেবে দাঁড় করাতে পারলে অবশ্যই মাদকমুক্ত বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন মডারেট মুসলিম হিসেবে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সা.) নিম্নলিখিত কথাগুলো আজ আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন এবং প্রায় শুক্রবার মসজিদে জুমার নামাজের আগে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও পাচারবিরোধী বক্তব্য সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে। মদ ও মাদকদ্রব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ১০ ব্যক্তির প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.) অভিসম্পাত দিয়েছেন। তারা হলোÑ ১. মদ পানকারী, ২. মদ প্রস্তুতকারী, ৩. মাদকের মূল্য গ্রহণকারী, ৪. মাদক প্রস্তুতের উপদেষ্টা, ৫. মাদক বহনকারী, ৬. যে মাদক পান করায়, ৭. মাদক বিক্রেতা, ৮. মাদকের মূল্য গ্রহণকারী, ৯. মাদক ক্রয়-বিক্রয়কারী, ১০. যার জন্য মাদক ক্রয় করা হয়। (তিরমিজি)
শুধু ইসলামে নয়, ইনজিল শরিফে মাদককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মে এবং হিন্দু ধর্মেও মাদক নিষিদ্ধ। স্পষ্টত উল্লেখ আছে, মাদকাসক্তের নির্বাণ লাভ হবে না। আর ভগবানের অধিষ্ঠান যেহেতু হৃদয়ে, মাদকাসক্তের অপাত্র হৃদয়ে ভগবান আসন নেবেন না। যে যে ধর্মেই আমরা থাকি না কেন, শিশু-কিশোরদের মাদকবিরোধী ধর্মীয় পরিবেশে লালন-পালন করলে মাদকের করাল গ্রাস থেকে আমরা মুক্তি পাবো। আমাদের প্রতিটি ঘর হোক ধূমপান এবং মাদকমুক্ত। সময়ক্ষেপণ ও বদল করলেই চলবে না। প্রকৃত অর্থেই দিনবদল করতে হবে। মাদকের গ্রাস থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হবে।

গোলাম কাদের: সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

http://www.munshigonj.com/MGarticles/2009/GkaderDrug.htm