মুন্সীগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের নকশা পরিবর্তন অর্ধশত পরিবার উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কা

আবু সাঈদ সোহান মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে আগের নকশা পরিবর্তন করায় উত্তর ইসলামপুর এলাকায় অর্ধশত পরিবারের উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেশ কয়েক দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকজন জমি মাপতে গেলে এলাকাবাসীর বাধার মুখে তারা ফিরে আসেন। এলাকাবাসী যেকোনো মূল্যে তাদের বাড়িঘর রক্ষার আলটিমেটাম দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসী ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসক মো: মোশারফ হোসেন গত ১২ জুন সরেজমিন গিয়ে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্খা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কর্র্তৃপক্ষের খামখেয়ালির কারণে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাধীন উত্তর ইসলামপুর গ্রামের অর্ধশত পরিবারের উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাউবো শুকনা মৌসুমে উত্তর ইসলামপুর এলাকার রজত রেখা নদীর পাড় ঘেঁষে বাঁধ নির্মাণের সীমানা নির্ধারণ করেছিল। সম্প্রতি তারা আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নতুন করে নদীর পাড় থেকে অনেক ভেতরে বাঁধ নির্মাণের সীমানা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জমির মালিকদের নোটিশ প্রদান করা হয়। এলাকাবাসী আরো জানান, সে নোটিশ পেয়ে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিতভাবে আপত্তি জানান। কিন্তু তাদের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড টালবাহানা শুরু করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল মতিন বলেন, বিদেশী কনসালটেন্ট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের উপস্খিতিতে শহর রক্ষা বাঁধের জন্য উত্তর ইসলামপুর এলাকার জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের দায়িত্ব সরকারের, তারা এটা করলেই আমরা শহর রক্ষা বাঁধ দ্রুত নির্মাণ করতে পারব।
উল্লেখ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও ওপেকের আর্থিক সহায়তায় এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ফ্লাড ওয়ালসহ প্রায় ২২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে শহর রক্ষা বাঁধে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।