মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার কক্ষে তালা

এক মাস ধরে অপারেশন বন্ধ রয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। অপারেশন থিয়েটারের দরজায় এখন তালা ঝুলছে। অসহায় হয়ে পড়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আগত দরিদ্র রোগীরা। চিকিৎসা সেবা না পেয়ে রোগীরা খালি হাতে ফিরছে। গর্ভবতী মায়ের সিজার, পাকস্থলীতে পাথর, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, টিউমার সহ বিভিন্ন অপারেশনের রোগীরা তাই ছুটছে প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে। এতে করে দরিদ্র রোগীদের এক বিশাল অর্থের অপচয় হচ্ছে। রোগী পাঠিয়ে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও দালালরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জনপ্রতি ১-২ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বাড়তি টাকা ক্লিনিকগুলো রোগীদের কাছ থেকেই আদায় করে নেয়। মুন্সীগঞ্জের এই হাসপাতালে এনেসথেসিয়ার পদটি দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য থাকায় এই পরিস্থিতি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের এনেসথেসিয়া ডা. মানষ কুমার বসু ঢাকার পিজি হাসপাতালে বদলি হয়ে যাওয়ার পর আর কেউ আসেনি। এতে অপারেশন করার জন্য অজ্ঞান করার চিকিৎসক না থাকায় এখানে ছোট-বড় সব ধরনের অপারেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের সার্জন বিভাগের সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এ কে এম শফিউল আলম বলেন, দীর্ঘদিন এনেসথেসিয়া না থাকার কারণে অপারেশন সেবা বন্ধ রয়েছে। এদিকে, মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এহসানুল করিম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা আশ্বাস দিলেও এর কোন সুরাহা আজও হয়নি। অপরদিকে, এই হাসপাতালে অপারেশন বিভাগে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন রোগী এসে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে বাড়ি। জেলা সদরের চরাঞ্চলের টরকী গ্রামের আমিনুন্নেছা তীব্র প্রসব বেদনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার এই হাসপাতালে আসেন। কিন্তু এখানে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে শুনে তার অভিভাবকরা মুষড়ে পড়েন। তাকে তাৎক্ষণিক সিজারের দরকার হলে পরে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।