ছোটবেলায়, বড়বেলায় : সরকার মাসুদ

ছোটবেলায় বড় ছুটি ছিল; আমকাঁঠালের ছুটি, ঝড়-বাদলের ছুটি
গোলসার টুঁটি চিপে তোলা মাছ বড়শিতে
ছোটবেলায় গোল আগুন, মিস্টি আলু সিদ্ধ
গোয়ালঘরের চাল-ফুঁড়ে-ওঠা-ধোঁয়া প্রাথমিক শীতে
রঙের কৌটা খুলে গেছে ছোট ছোট ঢেউয়ের পানিতে,
শান্ত প্রেমালাপ হাসি-মশকরার ডোঙা
ভেসে গেছে; দিন ভালোয় ভালোয় কেটেছে রঙিন।

ছোটবেলায় দিনগুলো বেশি লম্বা ছিল। দিনের ভেতর থেকে
বিকেলবেলা বেরিয়ে এসেছে আরো একটা দিন!
দীর্ঘ দীর্ঘ গ্রীষ্মদিন লম্বা সময় ধরে আটকা থাকতো দাদিমা’র কাঠের সিন্দুকে
প্রতিবিকেল খেলা হতো, ফড়িংমারির মাঠে রঙ-তামাশার মেলা
কিন্তু বেলা কাটতো না; ওহো, বেলা কিছুতেই নামতে চাইতো না
শ্যাওলাধরা পাথর!

বড়বেলায় সূর্যের চাকা বড়। দৌড়ায় বড়।
বড়বেলায় বড় আগুন আছে; গোল-হয়ে-পোড়া তুষের বেদনা নেই,
চালের লাউপাতা-ফুঁড়ে-ওঠা নীল ধোঁয়া নেই
বড়বেলায় বড় নদী আছে নৌকা নেই যখন তখন
হঠাৎ হঠাৎ ভারি হয়ে থাকে মন
চৈত্র বাতাসে দোল খাওয়া সোনালু ফুল ভালো করে দেয় না বিষাদ
আর খালি পাতায় ঢাকা ফাঁদ স্থলে-জঙ্গলে।

বড়বেলায় এই দ্যাখো দৌড়ের ওপর আছি
দৌড়ের ওপর থাকি ট্রেন আর বাসের জানালায়
আমার সাথে-সাথে চাঁদ দৌড়ে-দৌড়ে যায় অশান্ত ইছাপুরায়;
বড়বেলায় বড়দিনও বেশি বড় নয়
চোখের পলকে বাদুড়েরা সব নেমে আসে
পাতার আগুন ধীরে ধীরে একদম ক্ষয়ে আসে
বড়বেলায় এক-একটি দিন এক-একটি লিলিপুট!