মুন্সীগঞ্জে ফসলি জমিতে এপিআই শিল্প পার্ক আন্দোলনে যাচ্ছে কৃষকরা

কাজী দীপু : মুন্সীগঞ্জ থেকে: গজারিয়া উপজেলার মধ্য বাউশিয়া গ্রামে তিন ফসলি জমিতে এপিআই শিল্প পার্ক নির্মাণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ৪ শতাধিক কৃষক। তাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে আন্দোলনের যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। একইসঙ্গে তিন ফসলি জমিতে শিল্প পার্ক না করার জন্য তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব এম ইদ্রিস আলীর সহযোগিতা চেয়েছে।

শিল্পমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গজারিয়া উপজেলার মধ্য বাউশিয়া গ্রামের ২শ একর জমিতে এপিআই শিল্প পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এরইমধ্যে প্রশাসন জমি অধিগ্রহণের জন্য ৪১০ কৃষকের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে। কৃষকরা মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে অনাপত্তির আবেদন করে । এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার শুনানী গ্রহণ করা হয়। কিন্তুু প্রশাসনের কার্যক্রমে সন্তুুষ্ট হতে না পেরে কৃষকরা মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলীর কাছে আবেদন করে কৃষকের জমি রক্ষার আকুল আবেদন করে। কৃষকরা দাবী করেন, গজারিয়া উপজেলার মধ্য বাউশিয়া গ্রামের জমিতে ধান, পাট, আলু, শীতকালীন শাকসব্জি সহ বছরে ৩ বার ফসল ফলানো যায়। এসব তিন জমিতে ফসল ফলিয়ে কৃষকদের সংসার চলে। এই তিন ফসলী জমিই তাদের জীবন জীবীকার উৎস। কৃষকের আয়ের একমাত্র খাত। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দর জীবন যাপন ও জীবীকা নির্বাহের তাগিতে এই তিন ফসলী জমিই তাদের ভরসা।

[ad#co-1]
কৃষকরা আরো বলেন, গজারিয়া উপজেলায় অনেক অনাবাদি জমি রয়েছে। ওই সব বিস্তীর্ণ জমিতে ফসল ফলে না- এমনই জমিতে এপিআই শিল্প পার্ক হলে সরকার ও কৃষক উভয়েই লাভবান হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে শিল্প মন্ত্র¿ণালয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়-য়া আগামী এক বছরের মধ্যে গজারিয়া উপজেলার অধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বাউশিয়া এলাকায় ওষুধ শিল্প পাকর্ (এপিআই) স্থাপনের কাজ সমাপ্ত হবে বলে জানান। ২১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ একর জায়গায় এই শিল্প পার্ক স্থাপন করার কথা। এতে ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য ৪২টি শিল্প প্লট থাকবে। এসব প্লটে শিল্প স্থাপিত হলে প্রত্যক্ষভাবে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এমন ঘোষণার পরই কৃষকরা আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়। সম্পাদনা: শাহজাহান কমর