হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

মুন্সীগঞ্জে ফেনসিডিল আটক
মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের চাঞ্চল্যকর ফেনসিডিলবাহী বাস আটক এবং ১ হাজার ফেনসিডিল উদ্ধার হলেও এ ঘটনায় জড়িত মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। পুলিশ এ পর্যন্ত আটক ফেনসিডিলের আমদানিকারক সিন্ডিকেটের কাউকে শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা এ ফেনসিডিল আমদানির সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মুন্সীগঞ্জ শহরের অদূরে কাটাখালী-ভিটিশিলমন্দি এলাকায় আটক ফেনসিডিলবাহী বনফুল পরিবহনের বাসটি ২৯ মে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাসটির মালিক মঞ্জুর মোর্শেদ। তিনি এ ব্যাপারে ৩ জুন মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে জানিয়েছেন। বাসটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য রিজার্ভ করা হয়েছে বলে এর চালক রিয়াজ জানিয়ে বাসটি নিয়ে চম্পট দেয়। এ ঘটনায় তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় ওই রাতেই বাসটি চুরি হয়েছে বলে জিডি করেছেন।
এদিকে এ ফেনসিডিল আমদানির সঙ্গে শহরের একটি শক্ত সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে বলে নানা আলোচনা চলছে শহরজুড়ে। শহরবাসী এর সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ্যেই আলোচনায় আনছেন। তবে তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকেই পুলিশ এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে শহরবাসীর প্রশ্ন, তবে কি ফেনসিডিল আমদানির হোতারা ঘটনার অন্তরালে থেকে যাবে?
এলাকাবাসী জানায়, এ ব্যবসার সঙ্গে শহরের স্বনামধন্য ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছেন। দেশের সীমান্ত অঞ্চল থেকে সরাসরি বিভিন্ন মাধ্যমে শহরে এ মাদক আমদানি হচ্ছে। কাটাখালী এলাকায় অভিনব কায়দায় ফেনসিডিল এনে মজুত রেখে জেলার অন্তত ২০টি স্পটে সরবরাহ করা হয়।
খুলনার বাগেরহাট থেকে এ বাসে কম করে হলেও ৫ হাজার বোতল ফেনসিডিল লোড করা হয়েছে। এ চালান বিভিন্ন স্থানে নামানোর পর ভিটিশিলমন্দি এলাকায় এসে বাসটি আটক হয়। এর সঙ্গে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শ্রমিক লীগের এক প্রভাবশালী নেতা জড়িত।
জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম পুলিশের কাছে আছে। তবে যথাযথ প্রমাণ হাতে এলেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করবে।