আইডিবি’র কাছে পদ্মা সেতুর জন্য ১৩ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ পদ্মা সেতু নির্মাণে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) কাছে ১৩ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা চেয়েছে। এ ছাড়া সংস্খার সদস্য গরিব দেশগুলোর জন্য সহজশর্তে ঋণ প্রদানের প্রস্তাব রেখেছে বাংলাদেশ। আইডিবি’র বোর্ড অব গভর্নরের ৩৪তম বার্ষিক সভা থেকে ফিরে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্খিত ছিলেন ইআরডি সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আইডিবি থেকে মূলত ট্রেড ফাইন্যান্সই নিয়ে থাকে। লিজ ফাইন্যান্সসহ অন্য প্রকল্প সাহায্য কিছুটা কঠিন বিধায় এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাধারণত আইডিবি’র অর্থ সহায়তা নেয় না। এর আগে এ খাতে আইডিবি বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে, যার মধ্যে ১৫ কোটি ডলার ইতোমধ্যে বাংলাদেশ গ্রহণ করেছে।
তুর্কিমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাদে অনুষ্ঠিত আইডিবি’র এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সে দেশের অর্থমন্ত্রী। আইডিবি প্রেসিডেন্ট ড. আহমেদ মোহাম্মদ আলী, তিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ৫৬ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেন। অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় সদস্য দেশগুলোর জন্য প্রকল্প খাতের ঋণ সহজ করা, দেশগুলোর জন্য বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, কৃষি ও শিল্প খাতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনে ব্যাংকের নতুন তহবিল গঠনসহ স্বল্পোন্নত সদস্য দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্খানের জন্য সেবা খাতকে সহায়তা দিতে জেদ্দা ঘোষণার আলোকে ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ডকে আরো সংহত করার প্রস্তাব করেন।
এবারের বাজেট অন্য বছরগুলোর চেয়ে বড়­ এ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছরের বাজেটই তার পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে বড়ই হয়। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্খান বাড়ানোর পদক্ষেপ চাইলে বাজেটকে বড় করতে হয়। এবারের বাজেটে ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম নামে যে প্রকল্পের প্রস্তাব থাকবে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রকল্প চালু করা হবে। এতে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর দুই বছরের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে ছয় মাস বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্খা থাকবে, যার মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণও যুক্ত থাকবে। এর পর এক বছর ছয় মাসের জন্য তারা সরকারি চাকরি পাবে। পরে নিজেদের পছন্দমতো তারা চাকরি বা উচ্চশিক্ষা লাভে চলে যেতে পারবে।
কালো টাকা সাদা করাসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি এর পক্ষে বিপক্ষে দুই দিকেই আছি। ১১ জুন বাজেট ঘোষণার পরই তা সবাই জানতে পারবেন।