শ্রীনগরে বিদ্যুৎ অফিসে সীমাহীন

দুর্নীতি : গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। যাতায়াত, বকশিশ, বসের সালামি নানা অজুহাতে এখানে ঘুষের মহড়া চলে প্রতিনিয়ত। নতুন সংযোগ দেয়া কিংবা পুরনো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নামে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যুৎ অফিসের সামনে প্রতিদিনই ভিড় জমায় বিদ্যুতের নানা সমস্যার জর্জরিত সাধারণ মানুষ। এক শ্রেণীর অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে লাখ লাখ টাকা লুটে নিচ্ছে দালাল চক্র। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা দিনের পর দিন ঘুরেও নতুন সংযোগ পাচ্ছে না। তবে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করলে ত্বরিতগতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায় বলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য মেলে। এ সময় দর্শনা সুগার মিলের সাবেক কর্মচারী উপজেলার উত্তর কামারগাঁওয়ের ওয়াজেদ আলী জানান, গত ৫ মাস আগে বিনারশিদে নতুন সংযোগের জন্য ৩ হাজার টাকা বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মচারীকে দেন। কিন্তু অদ্যাবধি কোনো সাড়া নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ৫ তলা বিল্ডিংয়ের মালিক অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরির পর অফিসের এক কর্তা বলেন, ‘এত বড় বিল্ডিং বানাতে পারেন আর আমাদের দিকে একটু দেখতে পারেন না। তবে বিদ্যুৎ যাবে কি করে?’ তিনি আরো অভিযোগ করেন, তার দাবিকৃত সমুদয় টাকা দেয়া হয়নি বলেই নতুন সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। অন্য আরেক ব্যবসায়ী জানান, ৪ হাজার টাকা দিয়েই বিদ্যুৎ পেতে হয় ৫-৬ মাস পর, আর আপনাদের কাছে নাম বললে তো বিদ্যুৎই পাবো না। ট্রান্সফর্মার খোয়া বা নষ্ট হয়ে গেলে তার জন্যও গ্রাহকদের বিরাট অঙ্কের টাকা গচ্চা দিতে হয়। সম্প্রতি উপজেলার একটি স-মিলের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বহাল রাখা নিয়ে মোটা দফারফা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েকবার স-মিলের অবৈধ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে পকেট ভারী করে ফিরে আসেন বিদ্যুৎ অফিসের ২ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে শ্রীনগর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. আহছান উল্লা উপজেলা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্তটি ৩১/১০/০৮ তারিখে পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও স-মিলের ৩৫৬ অবৈধ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। গ্রাহকদের ভোগান্তি ও অফিস কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো তার জানা আছে। সবাই মুখে বলে, কেউ লিখিত দেয় না। তাই তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।