একজন রাষ্ট্রপতিকে মানসিক রোগী বলার আগে আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের প্রয়োজন

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এএইচ মোহাম্মদ ফিরোজ মনে করেন
প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ একজন সাধারণ নাগরিক নন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে ৭ বছর দেশ পরিচালনা করেছেন। তখন তার একটি স্বাক্ষর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় চার্লস বোনেল সিনড্রমে (জটিল মানসিক রোগ) ভুগলে তিনি দেশ পরিচালনা করেছেন কিভাবে? রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন সভা-সেমিনারের বক্তব্য এবং সম্প্রতি বাংলাভিশনে সাক্ষাৎকারের বক্তব্যে তাকে জটিল মানসিক রোগী মনে হয়নি। আমি মনে করছি একজন রাষ্ট্রপতিকে মানসিক রোগী বলার আগে আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল বোর্ড গঠনসহ ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। হুট করে টকশো বা কারো কাছে তাকে মানসিক রোগী বলা উচিত হবে না। গতকাল এই প্রতিবেদককে এ কথাগুলো বলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এএইচ মোহাম্মদ ফিরোজ।

সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তার মনোরোগ চিকিৎসক কর্নেল (প্রফেসর) নুরুল আজিম (অব.) চার্লস বোনেল সিনড্রম বা জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি এটাও বলেছেন যে স্যাটেলাইট চ্যানেল বাংলাভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা বিশ্বাস করা বোকার কাজ। গতকাল দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত ডা. নুরুল আজিমের এসব মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক ফিরোজ উল্লেখিত অভিমত দেন।

তিনি বলেন, একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের নাম চার্লস বোনেল। চার্লস বোনেল সিনড্রম দেখা দেয়া মানে রাষ্ট্রপতি জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়া। এ রোগে মানুষের মগজের ভেতরের øায়ুবিক ক্রিয়াকর্ম ও রাসায়নিক পদার্থের পরিবর্তন হয়। বিবেক, বিচারবুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি কমে যায়। কারো কারো একই আচরণ ও একই কথা বারবার বলার অভ্যাস থাকে। বিষণœতা, চঞ্চলতা, উত্তেজনা দেখা দেয়। কারো কারো মাথা নষ্ট হয়ে যায়। তখন তাদের কেউ কেউ বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় ঘুরতে থাকে। বাংলাদেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে ১৬ দশমিক ০৫ ভাগ বিভিন্ন মানসিক রোগে ভুগছে। এরমধ্যে ৯ থেকে ১০ ভাগ মৃদু মানসিক রোগী। বাকিরা জটিল মানসিক রোগী। মৃদু মানসিক রোগের লক্ষণ হচ্ছে, দুশ্চিন্তা, ভয় পাওয়া, খুঁতখুঁত স্বভাব, হিস্টিরিয়া ইত্যাদি। মৃদু মানসিক রোগ অনেকটা সর্দি-কাশির মতোই যেকোনো মানুষের যেকোনো সময় হতে পারে।

ফিরোজ বলেন, জীবনে সবসময়ই কোনো মানুষ স্বাভাবিক বলতে পারে না। আবার সবসময় অস্বাভাবিকও বলতে পারেনা। দুটো মিলিয়েই মানুষের জীবন চলে। যেমন দুটি বা তিনটি মিথ্যা কথা স্বাভাবিক আচরণ ধরে নেয়া হলেও একটানা দশটি মিথ্যা কথা বলা নিশ্চয়ই স্বাভাবিক আচরণ নয়।

এদিকে গতকাল যুগান্তরের একই প্রতিবেদনে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী, একজন শারীরিক ও মানসিক অসমর্থ ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না। অপর সংবিধান বিশেষজ্ঞ এম জহির বলেন, রাষ্ট্রপতি থাকাকালে প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন কিনা তা তো কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। তাই এ প্রশ্ন তোলা অবান্তর। একই প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির স্ত্রী প্রফেসর আনোয়ারা বেগম তার স্বামী ২ মাস ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন বলে যে দাবি করেছেন তাও উল্লেখ করা হয়।