পদ্মার পাড়ে বাস করেও পানির অভাবে চারদিকে হাহাকার

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানি সমস্যার সৃষ্টি
আকবর হোসেন, ফরিদপুর: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদ নদীগুলোতে পানি থাকছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমস্যা। খাল-বিল, পুকুর, জলায়শ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে দেশ মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। ভূ-গভস্থ থেকে পানির ¯ক্সর ক্রমশ নিচের দিকে নেমে যাওয়ার কারণে টিউবওয়েলগুলোতে ঠিকমতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ সব নদী ও খালগুলোতে স্থায়ীভাবে পানি ধরে রাখতে হলে পুনঃখনন করতে হবে।

আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে এখন আর আগের মতো বৃষ্টি হয় না। নদীতে পানি থাকে না। নদীর নাব্যতা না থাকার কারণে পলির পরিবর্তে বালুর স্তর জমে নদী ভরাট হয়ে গেছে। মৌসুমী বায়ুর পরিবর্তনের সময় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি আমাদের দেশের নদ-নদীতে প্রবেশ করলেও নদীতে গভীরতা না থাকার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি আরো চরম আকার ধারন করছে।

গত ২০ মে এনজিও ফোরাম ফরিদপুর স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক কার্যকর করে ওয়াটসান উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নে মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে। এনজিও ফোরাম ফর ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশন এর এডভোকেসি কর্মকর্তা সাহা দিপক কুমার, এনজিও ফোরম ফরিদপুর এর আঞ্চলিক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম এক সহকারী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদ-নদীর পানির সমস্যার ব্যাপারে নিয়ে আলোচনা করেন। ২১ মে গণমাধ্যম কর্মীরা সদর উপজেলার পদ্মা নদী সংলগ্ন নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে বসবাস কারীদের সঙ্গে তাদের পানি সমস্যা জানার জন্য সরজমিনে গেলে, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান ৩০ বছর আগেও এই স্থান দিয়ে স্টিমার লঞ্চ প্রভৃতি চলাচল করতো। নদী পাড়ের মানুষরা মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো। ইরি মৌসুমে পদ্মার পানি দিয়ে সেচ কার্য চালাতো। এখন নদী শুকিয়ে গেছে। ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তলোন করে ব্লকে পানির ব্যবস্থা করতে হয়। আগামীতে এই পানিও পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ আছে।

গ্রামবাসী শেখ রফিক জানান, পদ্মার পানির গর্জনে ভয়ে আমরা পদ্মায় নামতে চাই নাই। এই নদীতে নৌকা বাইচ হচ্ছে। হিন্দুরা প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছে। সেই পদ্মায় এখন পানি নাই। মাঝ পদ্মায় ছেলেরা খেলাধুলা করে, গরু-ছাগল চরে, ভাবতে অবাক লাগে।

মোতালেব জানান, গত বিশ বছর আগে কয়েক মাইল জায়গা নিয়ে এই চর জেগেছে। এখন প্রায় তিনশ পরিবার বসবাস করে। দিন দিন পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে গরু, ছাগল গুলিও গোসল করাতে পারি না। পুকুর, খাল, জলাশয় শুকিয়ে গেছে। শুকনো মৌসুমেএগুলোতে এখন আর পানি থাকে না। কি বলব, পদ্মায় বসবাস করি শুকনো মৌসুমে বাড়ি ঘরে আগুন লাগলে পানির অভাবে আগুন নিভাতে পারি না। বাড়ি ঘর পুড়ে যায়। এর চেয়ে দুঃখের কথা আর কি হতে পারে?

পানি সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে স্থানীয় জনসাধারণ মনে করেন, আমাদের দেশে পানি সংকট দিন দিন আরো তীব্র আকার ধারণ করছে। এখন এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা অত্যন্ত জরুরি। খাবার পানি, কৃষিখাত এবং গৃহস্থালির কাজের জন্য আমাদের পানির কোনো বিকল্প নেই। তাই স্থায়ীভাবে পানি ধরে রাখার জন্য খাল-বিল, নদী-নালা এবং পুকুর গুলো পুনঃখননের ব্যবস্থা করতে হবে। এর কোন বিকল্প হতে পারে না।