মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস : বৃত্তভাঙা নারী

চঞ্চল কুমার বোস
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৯০৮-১৯৫৬) উপন্যাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর অবয় ও তচিহ্নিত মানব-অস্তিত্বের লিপিভাষ্য অঙ্কিত হয়েছে। মনোগহনের সংগুপ্ত প্রতিক্রিয়া, সজীব দেহের নিগূঢ় প্রবৃত্তি ও রহস্যময় রতিবাসনার বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস স্বতন্ত্র। নরনারীর জটিল জৈবজীবন ও তার অঙ্কুশবিদ্ধ অস্তিত্বের রূপায়ণে ঔপন্যাসিক পর্যবেণ করেছেন মনোদৈহিক চৈতন্যের গভীর প্রদেশ পর্যন্ত। অবচেতনার তীব্র টানে সংস্কারের বেড়ি বিদীর্ণ করে ঋজু রেখায় দণ্ডায়মান হয়েছে তাঁর উপন্যাসের মানবমানবীকুল। এেেত্র পুরুষ অপো নারীরা প্রদীপ্ত ও প্রাতিস্বিক। মনোগভীরের অতলে তারা কেউ নিমজ্জমান, কেউ অবচেতনার আদিম প্রেরণায় উন্মুখ, রহস্যের ঘেরাজালে কেউবা বৃত্তবন্দি। দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫), পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬) কিংবা পুতুল নাচের ইতিকথায় (১৯৩৬) নারীর যে-রূপ রূপান্বিত হয়েছে তা যেন বৃত্তভাঙা জীবনপ্রবাহের নতুন গতিবীজ। এয়োতী নারীর দেহ-শুচিতার অনুগত নয় তারা কেউ। এশীয় নারীর আবহমান প্যারাডাইমের বাইরে তারা, জৈব জীবনের ভিন্ন সূত্রের সন্ধানী, কখনো-বা দেহবাদী সৌগন্ধে উচ্ছল Ñ যৌনবিদ্রোহী।
দিবারাত্রির কাব্য উপন্যাসের আনন্দ, পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের কপিলা, পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসের কুসুম প্রথাগত নারী-আইডিয়ার চূর্ণছায়া, সমাজ ও শাস্ত্রধৃত নারী-আইডিয়ার বিপ্রতীপ এন্টিটি।
দিবারাত্রির কাব্যে আনন্দ সংসার-রূপকের অধরা নারী। নিরাবেগ জীবন-চোরাবালির নীরন্ধ্র গর্ভে দাম্পত্য-অভিনয়ের পরিবর্তে আনন্দময় আত্মবিনাশই তার কাম্য। মালতী ও অনাথের আবেগহীন অভ্যস্ত দাম্পত্যজীবন আনন্দের কাছে ছিল আপতিক, অগ্রহণীয়। মনোভুবনে কান্তি ও ভীতির যুগল দ্বন্দ্বে প্রতিমুহূর্তে রক্তাক্ত আনন্দ একসময় হেরম্বকে প্রশ্ন করেছে :
‘আমাদের ভালবাসা কি মরে যাচ্ছে?’
হেরম্ব জোর দিয়ে বলল, ‘তা যাচ্ছে না, আনন্দ। আমাদের ভালবাসা কি বেশীদিনের যে মরে যাবে? এখনো যে ভাল করে আরম্ভই হয় নি?’ আনন্দ হতাশার সুরে বলল, ‘আমি কিছুই বুঝতে পারি না। সব হেঁয়ালির মতো লাগে। তুমি, আমি, আমাদের ভালবাসা, সব মিথ্যে মনে হয়। আচ্ছা, আমাদের ভালবাসাকে অনেকদিন, খুব অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখা যায় না?’১ (পৃ ১১৭)
গৃহবৃত্তে বন্দি প্রাত্যহিক অভ্যাসে নিঃশেষিত সংসারজীবন আনন্দকে আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। চন্দ্রকলা নৃত্য আনন্দর স্বপ্নময় জীবন ও মৃত্যুর শৈল্পিক রূপক। এই নৃত্যের প্রতিটি ভঙ্গিমায় প্রকাশ পেয়েছে তার উজ্জীবিত প্রাণের বিকাশ ও য় :
আনন্দ বলল, ‘ধরুন, আমি যেন মরে গেছি। অমাবস্যার চাঁদের মতো আমি যেন নেই। প্রতিপদে আমার মধ্যে একটুখানি জীবনের সঞ্চার হল। ভাল করে বোঝা যায় না এমনি এক ফোঁটা একটু জীবন। তারপর চাঁদ যেমন কলায় কলায় একটু একটু করে বাড়ে আমার জীবনও তেমনি করে বাড়ছে। বাড়তে বাড়তে যখন পূর্ণিমা এল, আমি পূর্ণযাত্রায় বেঁচে উঠেছি। তারপর একটু একটু করে মরে …’২ (পৃ ৭৪)

জীবনযাপনে ও উপভোগে আনন্দ নির্বিশেষ শুদ্ধ অস্তিত্বে উপনীত হতে চেয়েছিল বলে মালতী ও অনাথের দাম্পত্য জীবনকে সে ‘পাগলা-গারদ’ বলেছে। তাদের কিন্ন কদর্য সম্পর্ক তার মধ্যে একসময়ে জন্ম দেয় গভীর হতাশা ও অবিশ্বাসের এবং এক পর্যায়ে তা রূপ নেয় মনোবিকারে। এ-পর্বে আনন্দের দৃষ্টিতে পুরুষমাত্রই হয়ে ওঠে নেতিবাচক এবং নিজেই যেন নিজের প্রতিপ হয়ে দাঁড়ায় (গধহ ধমধরহংঃ যরসংবষভ)।
হেরম্ব সম্পর্কে তার উক্তিতে আনন্দের সেই অসরল বক্র মনস্তত্ত্বের পরিচয় পাওয়া যায় :
আনন্দ আঙুল দিয়ে মেঝেতে দাগ কাটতে কাটতে বলল, ‘বলা আমার উচিত নয়। অন্য মেয়ে হয়তো বলত না। তুমি তো জান আমি অন্য মেয়ের সঙ্গে বেশি মিশি নি। বলা অন্যায় হলে রাগ ক’রো না, আমায় মা ক’রো। দেখ, আমি এত ছোট হয়ে গেছি, একটু আগে তোমাকে খারাপ লোক মনে করেছিলাম।’৩ (পৃ ১৫৯)

মাতৃরক্তের ব্যাধিগ্রস্ত উত্তরাধিকার হিসেবে আনন্দ পেয়েছে শূন্যতাময় কটু জীবনের স্বাদ এবং সেই তিক্ততার বোধ থেকেই সে হয়ে ওঠে সন্দেহপ্রবণ, জীবন-পলাতক এবং আত্ময়ী। বিুব্ধ ভাঙনমত্ত এই জীবনপ্রবাহের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আনন্দ প্রত্য করেছে তার য়িষ্ণু ভালোবাসাকে। প্রথাগত দাম্পত্য ভালোবাসার
সাধ্য ছিল না আনন্দকে গ্রন্থি দিয়ে বাঁধে। বৈষয়িক নারী চেতনা
বা স্ত্রী-আইডিয়ার কাছে আনন্দ হয়ে ওঠে বহিরাগত,
অচেনা। আতঙ্কিত দৃষ্টি নিয়ে সে উপলব্ধি করছে তার মৃতকল্প ভালোবাসাকে :

আমার চারপাশে কি ঘটত ভাল জ্ঞান ছিল না। কলের
মতো নড়াচড়া করতাম। তারপর যেদিন থেকে মনে হল আমাদের ভালবাসা মরে যাচ্ছে সেদিন থেকে কি কষ্ট যে পাচ্ছি!৪ (পৃ ১৬২)
হয়তো আমিও একদিন তোমার দুচোখের বিষ হয়ে দাঁড়াব। প্রথম দিন তুমি আর আমি কত উঁচুতে উঠে গিয়েছিলাম, স্বর্গের কিনারায়। আজ কোথায় নেমে এসেছি!৫ (পৃ ১৭১)

আনন্দের এই ক্রমিক নিরাবেগের পটভূমিকায় দাঁড়িয়ে হেরম্ব তাকে চেষ্টা করেছে জীবনমুখী করে তুলতে। এই পর্যায়ে আনন্দ ও হেরম্বের দ্বন্দ্ব যেন জীবনমুখিতার সঙ্গে জীবনহীনতার, আসক্তির সঙ্গে বীতমোহের, আঁধারের সঙ্গে জ্যোতির্ময়তার। দুজনের এই বিপ্রতীপ মানসভূমির পরিচয় ফুটে উঠেছে নিম্নোদ্ধৃতিতে :

‘আমরা নামি নি, আনন্দ, সবাই মিলে আমাদের টেনে নামিয়েছে। আমরা আবার উঠব। লোকালয়ের বাইরে আমরা ঘর বাঁধব, কেউ আমাদের বিরক্ত করতে পারবে না।’
আনন্দ বলল, ‘বিরক্ত আমরা নিজেদের নিজেরাই করব। আমরা মানুষ যে!’৬ (পৃ ১৭১)

ফাঁপা শূন্যগর্ভ অস্তিত্ব নিয়ে আনন্দ নিজের সঙ্গে প্রতারণা করতে চায়নি। আবেগহীন যান্ত্রিক জীবনের ভার বহনে অম আনন্দ চন্দ্রকলা নৃত্যের মধ্যে দিয়ে তার বেদনার উপশম পেতে চেয়েছে। উপন্যাসের শেষ পর্যায়ে বিপুল ব্যাপক যজ্ঞানলে যে নারী আহুতি দিয়েছে সে আনন্দ নয়, আনন্দের আসক্তিরহিত বিবিক্ত জীবনের কায়া।
পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসে কপিলার ব্যক্তি-কাঠামোর মধ্যে দিয়ে নারী-সম্পর্কিত সনাতন প্রতœ-আইডিয়াকে ভিন্নভাবে অবলোকন করা হয়েছে। গৃহনিবিড় আদর্শায়িত জীবনের যে বাঁধা ছকে এদেশীয় নারীর নিয়তি ও জৈব বাস্তবতাকে প্রধান করে দেখা হয়েছে তার বাইরে এসে কপিলা তার প্রত্য জীবনকে নতুন মূল্যে গ্রহণ করতে চেয়েছে। স্বামী-সন্তানকেন্দ্রিক স্বপ্নলালিত সংসারের বাইরেও যে অন্যরকম কোনো জীবন অস্তিত্বশীল হতে পারে, সে জীবন হয়তো চিরচেনা নয়, ভাঙাচোরা অন্ধিসন্ধিতে হয়তো তা অনিশ্চিত কিন্তু ওই জীবনও যে সর্বতোভাবে যাপনযোগ্য Ñ এই বোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসে। শাস্ত্র ও সমাজশাসিত নরনারীর আটপৌরে সম্পর্কের অন্তঃগভীরে লিবিডো-বাসনার সুতীব্র টান কোনোভাবেই উপেণীয় নয়, বরং তা জীবনের এড়িয়ে-যাওয়া সত্যের অন্য রূপ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কপিলা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে তা উপস্থাপন করেছেন।
উপন্যাসে এ-কথা মনে হয় না যে, বিপর্যস্ত দাম্পত্য জীবনের তীব্র ব্যর্থতাবোধ থেকে কপিলা কুবেরের মধ্যে আবিষ্কার করে ভালোলাগার ভিন্ন কোনো পুরুষকে। বরং কপিলার মধ্যে জীবন-সম্পর্কিত কোনো নৈরাশ্য বা ব্যর্থতাবোধ প্রবল ছিল বলে প্রতীয়মান হয় না। কুবের-কপিলার লিরিক বস্তুত তাদের প্রতিঘাতসংকুল জীবনপটের অজানা এক অধ্যায় Ñ যে অজ্ঞাত অধ্যায় ধীরে ধীরে প্রকাশ পেয়েছে তাদের অবচেতন মনের অকস্মাৎ উৎসারে। বর্ষানিমজ্জিত চরডাঙ্গার প্লাবন-পটভূমিকায় উন্মোচিত হয় কুবের কপিলার রহস্যময় জীবনাচরণের প্রথম সূত্র :
তুমি আইলা কবে কপিলা?
কপিলা রূঢ়স্বরে বলিল, হাসলা যে মাঝি?
সহসা স্বাভাবিক প্রশ্নে কপিলার বিরক্তি দেখিয়া কুবের একটু অবাক হইয়া বৈকুণ্ঠের দিকে চাহিল। একমুখ ধোঁয়া ছাড়িয়া বৈকুণ্ঠ চোখ মটকাইয়া তাকে কী যেন ইশারা করিল। কিছুই বুঝিতে না পারিয়া কুবের করিল কি মৃদু একটু হাসিয়া বলিল, অ!
কপিলা রূঢ়স্বরে বলিল, হাসলা যে মাঝি?
কুবের বলিল, হাসি নাই কপিলা, হাসুম ক্যান।৭ (পৃ ৩৭-৩৮)

শ্যামাদাসের পুরুষসুলভ আচরণ ও আধিপত্যবোধের কারণে কপিলার স্ত্রী-অধিকার অস্বীকৃত। বিগত স্বামী-গৃহ কিংবা আঁতুড়ে মৃত কন্যার কোনো স্মৃতি তাকে কখনো উতলা উন্মনা করে কিনা তাও স্পষ্ট নয়। কিন্তু তার কাঁচা বয়সের গোপন ভুবনে জেগে ওঠে অন্য কোনো সুর, তার উদ্ভিন্ন যৌবনের প্রচ্ছন্ন প্রান্তে জন্ম নেয় নতুন কপিলা। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এই নতুন কপিলার জন্ম-ইতিহাসকে প্রত্য করেছেন সচেতনভাবে :

খাওয়া-দাওয়ার পর কপিলা ও তাহার ভাইবোনেদের সঙ্গে করিয়া কুবের কেতুপুরের উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া পড়িল। কপিলা খুব সাজিয়াছে। চুলে চপচপে করিয়া দিয়াছে নারিকেল তেল, হলুদ মাখিয়া করিয়াছে স্নান, পরিয়াছে তার বেগুনে রঙের শাড়িখানা। স্বামী ত্যাগ করিয়াছে বটে, বয়েস তো তার কাঁচা। আহা, কুটুমবাড়ি যাওয়ার নামে মেয়েটা আহাদে আটখানা হইয়া উঠিয়াছে।৮ (পৃ ৩৯)

ধীবর জনগোষ্ঠীর সংগ্রামশীল জীবনের যে মহাকাব্যিক প্রচ্ছদপট ঔপন্যাসিক সূচনাতে অঙ্কন করেছেন সেই অভিজ্ঞতালোক ক্রমে গৌণ হয়ে ওঠে এবং কপিলার অনিশ্চিত জীবনাচরণই সেখানে ছায়া বিস্তার করে। ফলে এ-উপন্যাসের জগৎ হয়ে ওঠে কপিলাময়। কেতুপুর গ্রামে কপিলার আগমনের পর থেকেই কুবেরের চিরচেনা জীবনচক্রে ভিন্ন গতি দেখা
দেয়। প্রাত্যহিক ুধা, দারিদ্র্য আর টানাটানির জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কপিলার রহস্যময় হাসি, ছলনা এবং দুর্জ্ঞেয়তা। কপিলা এবং কুবেরের এই রূপান্তরশীল মানসিকতার রূপায়ণে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহার করেছেন গাঢ় অন্ধকারাচ্ছন্ন নদীর পরিপ্রেতি :
নদীর ঢেউয়ে নৌকা দোল খায়। হু হু করিয়া বহে বাতাস, অন্ধকার এত গাঢ় যে মনে হয় ধোঁয়ার মতই বুঝি বাতাসে উড়িয়া যাইবে।
কপিলা যে পিছু পিছু আসিয়াছে তাহা কি কুবের জানে?
তাহার আকস্মিক হাসির শব্দে কুবের ভয়ে আধমরা হইয়া যায়। ঠকঠক করিয়া সে কাঁপিতে থাকে। নির্জন নদীতীরে সন্ধ্যারাত্রে কে হাসিবে? মানুষ নয়, নিশ্চয় নয়।
কপিলা বলে, তামুক ফেইল্যা আইছ মাঝি।
কুবের নামিয়া আসিয়া তামাকের দলাটা গ্রহণ করে।
বলে, খাটাসের মত হাসিস ক্যান কপিলা, আঁই?
কপিলা বলে, ডরাইছিলা, হ? আরে পুরুষ!
তারপর বলে, আমারে নিবা মাঝি লগে?
বলে কপিলা আব্দার করিয়া কুবেরের হাত ধরিয়া টানাটানি করে, চিরদিনের শান্ত নিরীহ কুবেরকে কোথায় যেন সে লইয়া যাইবে।৯ (পৃ ৪০)

কপিলার এই দুঃসাহসী আচরণ প্রথাগত জীবনযাত্রার ছককে বিচূর্ণই কেবল করেনি, ‘অবাধ্য বাঁশের কঞ্চির মত’ কপিলা কুবেরকেও এক অজানা মনোগহনের সন্ধান দিয়েছে।
কেতুপুর গ্রামে এক সন্ধ্যায় পূজার উৎসব উপলে উন্মোচিত হয় কপিলার দুর্জ্ঞেয় মনোজগতের নিগূঢ় দ্বন্দ্ব। কপিলার চেতন ও অবচেতন সত্তার নিরন্তর ঘাত-প্রতিঘাতের আকস্মিক প্রকাশে ঔপন্যাসিক নরনারীর চিরন্তন লিবিডো-সংকটকে রূপায়িত করেছেন :

বলিতে বলিতে আর কপিলা আঁচল টানাটানি করে না, কুবের তাহাকে জড়াইয়া ধরিলে শান্ত হইয়া থাকে, হঠাৎ বড় যেন করুণ কণ্ঠে বলে, মনডা ভাল না মাঝি, ছাড়বা না? মনডা কাতর বড়।
কুবের তাকে ছাড়িয়া দেয়।
চলিতে চলিতে জিজ্ঞাসা করে, মন কাতর ক্যান রে কপিলা?
কে জানিত কপিলা এমন উত্তর দিবে।
সোয়ামীরে মনে পড়ে মাঝি।১০ (পৃ ৪৯)
কপিলা নিজেই এখানে কেবল সাহসী হয়ে ওঠেনি, ‘চিরকালের শান্ত নিরীহ কুবেরকে’ও সে সক্রিয় উদ্দাম করে তুলতে পেরেছে। এ-উপন্যাসে কপিলার ব্যক্তিত্ব-কাঠামোর মধ্যে দ্বৈত সত্তার উপস্থিতি প্রথম থেকে সক্রিয় বলে মনে হয়। আমিনবাড়ীতে গোপীর চিকিৎসার প্রয়োজনে কপিলা অনায়াসে কুবেরের সঙ্গে হোটেলে রাত কাটায়। কোনো লোকভীতি বা সমাজভীতি তাকে নিবৃত্ত করতে পারে না, অথচ শ্যামাদাসের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর পর কপিলাকে গ্রহণ করতে চাইলে বিনাদ্বিধায় কুবেরকে উপো করে সে শ্যামাদাসের সঙ্গে আকুরটাকুরে যাত্রা করে।
ফ্রয়েডীয় দেহকামনার জটিল বহিঃপ্রকাশে কপিলা এক অনিশ্চিত কালযাপনে ব্যাপৃত হয়। এই অন্তর্গত দেহতাড়না কিংবা মনোজটিলতার দ্বৈত টানে কপিলার আচরণ হয়ে ওঠে অনিশ্চিত এবং রহস্যঘন। কুবেরের প্রতি তার অকস্মাৎ অনুরাগ এবং স্বামী শ্যামাদাসের আহ্বান Ñ এই উভয় পরিস্থিতির মধ্যে কপিলার নিগূঢ় আগ্রহ প্রায়শ থেকেছে অনির্ণেয়। তার মনোদ্বন্দ্বের এই তীব্র রূপ উন্মোচিত হয় দোলযাত্রার উৎসবকে কেন্দ্র করে। দোলযাত্রার দিনে চরডাঙ্গার আনন্দময় পরিবেশে কুবের-কপিলা মেতে ওঠে রতিময় ‘পুকুর-উপাখ্যানে’ :
পাক দিতে বারণ করে কপিলা কিন্তু পা পিছলাইয়া কাদা মাখিয়া জলে সে গড়াইয়া পড়ে।
হাতের ঠেলায় কলসী ভাসিয়া যায় কুবেরের দিকে। কপিলা বলে, ধর মাঝি, কলস ধর।
বলে, আমারে ধর ক্যান? কলস ধর।
হ, ভীতচোখে চারিদিকে চাহিয়া কলসীর মতই আলগোছে কপিলা ভাসিয়া থাকে, তেমনি ত্রাসের ভঙ্গিতে স্তনদুটি ভাসে আর ডোবে। চোখের পলকে বুকে কাপড় টানিয়া হাসিবার ভান করিয়া কপিলা বলে, কথা যে কও না মাঝি?
কুবের বলে, তর লাইগা দিবারাত্র পরানডা পোড়ায় কপিলা।
কপিলা চোখ বুঝিয়া বলে, ক্যান মাঝি ক্যান? আমারে ভাব ক্যান? সোয়ামীর ঘরে না গেছি আমি? আমারে ভুইলো মাঝি Ñ পুরুষের পরান পোড়ে কয়দিন?১১ (পৃ ৯১)
‘পুকুর-উপাখ্যানের’ পর কেতুপুর প্রত্যাবর্তন করলেও কুবেরের মনোজগতে কপিলার দুর্নিবার আকর্ষণ অুণœই থাকে। কপিলাই যেন হয়ে ওঠে কুবেরের নিয়তি। তাই হোসেনের কূটচক্রে কুবেরকে যখন ময়নাদ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করতে হয় তখন কপিলাই তার নিঃসঙ্গ যাত্রার একমাত্র সঙ্গী হয়ে ওঠে :
কপিলা চুপি চুপি বলে, না গেলা মাঝি, জেল খাট।
কুবের বলে, হোসেন মিয়া দ্বীপে আমারে নিবই কপিলা। একবার জেল খাইটা পার পামু না। ফিরা আবার জেল খাটাইব।
কপিলা আর কথা বলে না।
ঘাটের খানিক তফাতে হোসেনের প্রকাণ্ড নৌকাটি নোঙর করা ছিল। একজন মাঝি ঘুমাইয়া ছিল নৌকায়। তাহাকে ডাকিয়া তুলিলে সে নৌকা তীরে ভিড়াইল। কুবের নীরবে নৌকায় উঠিয়া গেল। সঙ্গে গেল কপিলা।
ছই-এর মধ্যে গিয়া সে বসিল। কুবেরকে ডাকিয়া বলিল, আমারে নিবা মাঝি লগে?
হ, কপিলা চলুক সঙ্গে। একা অতদূরে কুবের পাড়ি দিতে পারিবে না।১২ (পৃ ৯৫)
মনোদৈহিক অন্তর্দ্বদ্বের প্রান্তিক অবস্থানে পৌঁছে কপিলা ও কুবের মীমাংসিত চৈতন্যে উপনীত হয়। কেতুপুরের ধূসর পটভূমি ছেড়ে আদিম লিবিডো-কামনার অপ্রতিরোধ্য টানে কুবের-কপিলা সুদূরবর্তী দ্বীপখণ্ডের বাসিন্দা হয়।
পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসে নারীর জীবন্মৃত অস্তিত্বের ভিন্নমাত্রিক উন্মোচন কেবল চেনাশোনা মানবীয় সম্পর্কেই রূপান্তর আনেনি, নারী-সম্পর্কে বহমান মূল্যবোধের ফ্রেমকে ভেঙে নতুন আকার দিয়েছে। এ-উপন্যাসের কুসুম কেবল পটচিত্রের বিমূর্ত রূপ নয়, সে প্রবলভাবে প্রাণবিহ্বল। দেহ ও মনের দাবি তার কাছে সমানভাবে অস্তিত্ববান। আত্মোন্মোচনে অসংকোচ কুসুম তার মনোদৈহিক আকাক্সার পরিপূর্ণতার জন্যে প্রচলিত সংস্কারের বাইরে আসতেও দ্বিধাহীন।
পরানের স্ত্রী ‘তেইশ বছরের বাঁজা মেয়ে’ কুসুম অবচেতন মনে অস্থির, বেপরোয়া, দুর্বোধ্য। গাওদিয়ার একঘেয়ে জীবনে অভ্যস্ত কুসুমের মৃতপ্রায় মনোজগৎ নতুনভাবে জেগে ওঠে কলকাতাফেরত ডাক্তার শশীর আবির্ভাবে। অব্যক্ত অথচ অদম্য কুসুম শশীর প্রতি গোপনে লালন করে গভীর আসক্তি। কিন্তু তা প্রকাশের যৌক্তিক পরিপ্রেতিহীন বাস্তবতায় কুসুম হয়ে পড়ে নিঃসঙ্গ। মনোগহনে ক্রিয়াশীল কুসুমের রহস্যময়তা, অস্থিরতা, আকস্মিক চাঞ্চল্য ও অদ্ভুত বিরাগ কাহিনির কেন্দ্রে সৃষ্টি করে প্রবল ঘূর্ণাবর্ত। কুসুমের ননদ মতির প্রতি শশীর সহজাত আগ্রহকে কুসুম ঈর্ষা করে। কুসুমের এই জটিল মনস্তত্ত্বের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া উন্মোচনে ঔপন্যাসিক ব্যবহার করেছেন আবহমান গ্রামজীবনের লোকজ প্যারাডাইম। নিম্নোদ্ধৃত গ্রামীণ উপকথার গর্ভে যে-নারীর অনুক্ত বেদনা রূপ পেয়েছে সে আর কেউ নয়, সে কুসুম :
শশী চলিয়া গেলে অন্ধকারে বেগুনখেতে দাঁড়াইয়া কুসুম একটু হাসিল। সামনে গাছের মাথার কাছে একটু আলো হইয়াছে। কুসুম জানে ওখানে চাঁদ উঠিবে। চাঁদ উঠিলে, চাঁদ উঠিবার আভাস দেখিলে কুসুম যেন শুনিতে পায় :
ভিনদেশী পুরুষ দেখি চাঁদের মতন
লাজরক্ত হইয়া কন্যা পরথম, যৌবন।১৩ (পৃ ১৮)
ঔপনিবেশিক শিার সংকুচিত আবর্তে বেড়ে ওঠা শশী কুসুমের জীবনাকাক্সার পরিপূরক হতে পারেনি। তার মনোজগতের দ্বৈত সংকট তাকে কোনো স্থির গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারেনি। একদিকে গাওদিয়ার চলমান জীবনপ্রবাহের সঙ্গে একাত্ম হবার ব্যর্থতা অন্যদিকে তার আত্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার েেত্র গভীর অতৃপ্তি Ñ এই দ্বিবিধ প্রতিক্রিয়ায় শশী মনোজগতে হয়ে ওঠে বিচ্ছিন্ন, নিরবলম্ব এবং অমীমাংসিত।
মনোজগতে গ্রামজীবন নিয়ে বিতৃষ্ণা থাকলেও নতুন কোনো জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোনো উদ্যোগ শশীর মধ্যে দেখা যায় না। ফলে গাওদিয়ার পরিবেশ ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে তার এই অসন্তুষ্টি যতটা অনুভূতিগত, ততটা বস্তুগত নয়।
কুসুমকেন্দ্রিক শশীর যে অনুভূতি তাকেও কোনো সুনির্দিষ্ট রূপ দেওয়ার সাধ্য শশীর ছিল না। ‘তালপুকুর-উপাখ্যান’ বস্তুত শশীর উদ্যোগহীন আকাশকুসুম চয়নের ইতিকথা। কুসুমের মনোদৈহিক আকাক্সা আত্মপ্রকাশের পথ খুঁজলেও তাকে সফল করার সামর্থ্য শশীর ছিল না। শশীর সঙ্গে দেখা করতে এসে কুসুম দু’দুবার শশীর গোলাপের চারা পায়ে মাড়িয়ে দেয়। এই পুষ্পবিনাশের মধ্যে দিয়ে কুসুম আসলে নিশ্চিহ্ন করেছে তার অতৃপ্ত রোমান্টিক জীবনাকাক্সাকে। কুসুম পরানের গৃহগত সংস্কার ও সামাজিক নিয়তিকে উপো করে তার অবদমিত অভিপ্রায়ের কথা ব্যক্ত করেছে অকপটে। কুসুম অনায়াসে অতিক্রম করে বহমান স্ত্রী-সংস্কারের বৃত্তকে। কুসুম শশীকে বলেছে :
এমনি চাঁদনী রাতে আপনার সঙ্গে কোথাও চলে যেতে সাধ হয় ছোটবাবু।১৪ (পৃ ৯৩)
নারীর ভীরু অস্তিত্বের দ্বিধাকে অস্বীকার করে সে আরো বলেছে :
আপনার কাছে দাঁড়ালে আমার শরীর এমন করে কেন ছোটবাবু?১৫ (পৃ ৯৩)

গ্রামীণ আর্থ-সমাজ কাঠামোয় লালিত কুসুম সমাজ-পরিস্থিতিকে উপো করে, সামন্ত নীতি-নৈতিকতা ও স্বামী-আইডিয়ার চিরায়ত ধারণাকে পাশ কাটিয়ে যেভাবে অগ্রসর হয়েছে তা গ্রহণ করার শক্তি শশীর ছিল না। কুসুমের কাছে কেবল অনুভূতিসর্বস্ব হৃদয় নয়, দেহের মূল্যও তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শশী কুসুমকে নিয়ে ভাববিলাস যতটা করেছে, তাকে নিয়ে ঘর ছাড়ার পৌরুষ তার মধ্যে ততটা ল করা যায় না। এজন্য অনেকটা স্বগতোক্তির মতোই সে বলেছে :
শরীর! শরীর! তোমার মন নাই কুসুম?১৬ (পৃ ৯৪)

কুসুমের কাছে দেহ-মন দুই-ই অমূল্য। কুসুমের রোমান্টিকতা দেহবিবিক্ত নয়, দেহের আনন্দও তার কাছে মহার্ঘ। কুসুমের ওপর শশীর যে-আধিপত্য তার মধ্যে পুরুষের মতায়নের একপেশে মনোভাব ল করা গেলেও কুসুম প্রান্তিক পর্বে নিজেই নিজের পথ তৈরি করে নিয়েছে।
কুসুম সর্বতোভাবে শশীর জন্য উন্মুখ হয়ে থাকলেও শশী কুসুমের মনোগত অভিপ্রায় অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে। এজন্যেই গাওদিয়া ত্যাগ করে যাওয়ার পূর্বে তালপুকুরের বনে ভূপাতিত তালগাছের উপর কুসুম উন্মোচন করে তার জৈবনিক ট্র্যাজেডিকে। কুসুমের এই ব্যর্থ জীবনাকাক্সার মূলে শশীর নিরবলম্ব ব্যক্তিত্বের নিষ্ক্রিয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কুসুম তার পিতৃগৃহে ফিরে যাওয়ার স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শশী সচেতন হয় এবং দূরে কোথাও নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু একদা শশীময় কুসুমের পে আর সম্ভব ছিল না এ-প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া। বরং শশীর এই আকস্মিক আগ্রহ কুসুমের কাছে ছিল বিদ্রƒপের মতো।
এ কারণেই কুসুম বলেছে :

চিরদিন কি একরকম যায়? মানুষ কি লোহার গড়া, যে চিরকাল সে একরকম থাকবে, বদলাবে না? বলতে বসেছি যখন কড়া করেই বলি, আজ হাত ধরে টানলেও আমি যাব না।১৭ (পৃ ১৯১)

শশীর ক্রমাগত নিস্পৃহতার আঘাতে কুসুমের পল্লবিত আবেগ পরিণত হয় মৃত অনুভূতিতে। তাই শশী যখন মরিয়া হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেছে Ñ
চিরকাল আমার জন্যে ঘর ছাড়তে তুমি পাগল ছিলে, আজকে হঠাৎ বিরূপ হলে কেন?১৮ (পৃ ১৯২)

উত্তরে কুসুম বলেছে :
লাল টকটকে করে তাতানো লোহা ফেলে রাখলে তাও আস্তে আস্তে ঠান্ডা হয়ে যায়, যায় না? সাধ আহাদ আমার কিছু নেই, নিজের জন্য কোনও সুখ চাই না Ñ বাকি জীবনটা ভাত রেঁধে ঘরের লোকের সেবা করে কাটিয়ে দেব ভেবেছি Ñ আর কোনও আশা নেই, ইচ্ছে নেই, সব ভোঁতা হয়ে গেছে ছোটবাবু।১৯ (পৃ ১৯২)

সামন্তসমাজ-উত্তর সাহিত্যে নারীর দেহনিয়তি অতিক্রম করে তার মনোজাগতিক মূল্যও কীর্তিত হয়েছে। যুদ্ধোত্তর পৃথিবীর বস্তুগত অভিঘাত ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক অন্তর্দেশে যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে সেই তবিদ্ধ নরনারীর অণুসূক্ষ্ম বাস্তবতার রূপায়ণে মানিক-উপন্যাস অগ্রগণ্য। যুদ্ধোত্তর পৃথিবীর সংশয়-পরিকীর্ণ বাস্তবতায় গড়ে ওঠে নতুন পরিপ্রেতি, তৈরি হয় ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির পারস্পরিক সম্পর্কের দুর্জ্ঞেয় সূত্র। প্রত্যেকের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার যৌন-মনস্তত্ত্বের সমীকরণে ব্যক্তি পরিণত হয় এক একটি জটিল প্রোজেকশনে। আনন্দ, কপিলা, কুসুম যুদ্ধোত্তর বিশ্বের সেই কুণ্ডলায়িত আর্থ-সামাজিক নান্দনিক কাঠামোর অনিবার্য শিল্পরূপ। দেহের স্বাধীন উল্লাস ও রতিবাসনা পূরণে তারা নিরাপস কিন্তু তা আত্মস্বাতন্ত্র্য বিসর্জন দিয়ে নয়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম পর্বের উপন্যাসে এই তিন নারী চরিত্রই প্রাতিস্বিক। আনন্দের কাছে অগ্নিতে আত্মবিসর্জনের অর্থ আত্মমুক্তি, কপিলার ময়নাদ্বীপ যাত্রার মধ্যে দিয়ে সূচিত হয়েছে তার নিজস্ব জীবনসন্ধানের আকাক্সা, আর কুসুমের অকপট আচরণের মধ্যে দিয়ে উদ্ভাসিত হয়েছে তার প্রতিস্পর্ধী ব্যক্তিত্বের নিরংকুশ দ্যুতি। দেহব্রতে বিশ্বাসী এই বৃত্তভাঙা নারীরাই মানিক-উপন্যাসে তৈরি করেছে এক ভিন্ন ছক, নিজস্ব জীবনযাপনের স্বাদে ও সৌগন্ধে তারা স্বতন্ত্র ভূখণ্ডের অধিবাসী।

নির্ঘণ্ট

১। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, দিবারাত্রির কাব্য, পঞ্চম মু., কলকাতা : লেখাপড়া, ১৩৯৫, পৃ ১১৭।
২। ঐ, পৃ ৭৪।
৩। ঐ, পৃ ১৫৯।
৪। ঐ, পৃ ১৬২।
৫। ঐ, পৃ ১৭১।
৬। ঐ, পৃ ১৭১।
৭। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, পদ্মানদীর মাঝি, পঞ্চবিংশ মু., কলকাতা : বেঙ্গল পাবলিশার্স, ১৩৯৫, পৃ ৩৭-৩৮।
৮। ঐ, পৃ ৩৯।
৯। ঐ, পৃ ৪০।
১০। ঐ, পৃ ৪৯।
১১। ঐ, পৃ ৯১।
১২। ঐ, পৃ ৯৫।
১৩। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, পুতুল নাচের ইতিকথা, ঊনবিংশ মু., কলকাতা : প্রকাশ ভবন, ১৩৯৪, পৃ ১৮।
১৪। ঐ, পৃ ৯৩।
১৫। ঐ, পৃ ৯৩।
১৬। ঐ, পৃ ৯৪।
১৭। ঐ, পৃ ১৯১।
১৮। প্রাগুক্ত, পৃ ১৯২।
১৯। প্রাগুক্ত, পৃ ১৯২।

http://www.munshigonj.com/Special/Manik100/Manik100.htm