এ সরকারের আমলেই পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচল করবে: যোগাযোগ মন্ত্রী

35820_1১৩৫ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর
এমএকে জিলানী
পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রয়োজনে অধিগ্রহণকৃত ভূমির ক্ষতিপূরণ দেয়া শুরু করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন গতকাল ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে মাদারীপুর জেলায় অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য মাদারিপুরের জেলা প্রশাসকের হাতে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন। এছাড়াও আরো ১১ কোটি টাকা মাদারীপুর জেলায় প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থ প্রদানের মধ্যদিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের অনানুষ্ঠানিক কাজ শুরু হলো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যোগাযোগ মন্ত্রী।

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর জন্য মাদারীপুর জেলা থেকে অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল মিলিয়ে মোট ২৯৮ হেক্টর ভুমি নেয়া হয়েছে এবং এর ক্ষতিপূরণ মূল্যবাবদ সরকারকে প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ সেতুর জন্য শরিয়তপূর জেলা থেকে নেয়া হচ্ছে প্রায় ৩৯৭ হেক্টর ভুমি, এর ক্ষতিপূরণ মূল্য প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে নেয়া হচ্ছে ২১৪ হেক্টর ভূমি এবং এ জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে প্রায় ৫১৮ কোটি টাকা। শরিয়তপূর জেলায় আগামী জুন মাসে এবং মুন্সীগঞ্জ জেলায় জুলাই মাসে ক্ষতি পূরণের টাকা দেয়া হবে। এই তিন জেলার মধ্যে মাদারীপুর জেলায় ভুমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম আগে শেষ হওয়ায় এ জেলায় ক্ষতিপূরণের টাকা আগে প্রদান করা হলো।

চেক প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, এসরকারের আমলেই এ সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণকৃত ভুমির মালিকদের সরকার যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করেছে। সড়ক ও রেলপথ বিভাগের সচিব এএসএম আলী কবীর, সেতু বিভাগের সচিব মো. আব্দুল করিম, ভুমি সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ এ সেতু নির্মাণের অর্থায়নকারী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এসময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিশ্বব্যাংকের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন ও জনপথ অধিদফতরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বিষয় নিয়ে কথা বলেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে সচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণসহ প্রকল্পসমূহ যাতে যথাসময়ে বাস্তবায়িত হয় এ বিষয়টির ওপর আলোচনাকালে গুরুত্বারোপ করা হয়। 35820_135820_1