দোহার পয়েন্টে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হলে ১ হাজার মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে

সংবাদ সম্মেলনে অভিমত
মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতু নির্মাণ না করে দোহার-চর ভদ্রাসন পয়েন্টে সেতুটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছে দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চ নামের সংগঠন। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, দোহার পয়েন্টে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হলে সরকারের ১ হাজার মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর পরিবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র্রে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান। নেতারা বলেন, দোহার-চর ভদ্রাসনে নদী সবচেয়ে কম প্রশস্ত হওয়ায় সেতুর দৈর্ঘ্য কম হবে। তাই খরচ অনেক কম হবে। পাশাপাশি এ পয়েন্টের বেশ কিছু স্থানে পাড় প্রতিরক্ষা কাজ করা আছে। এজন্য পাড় প্রতিরক্ষার জন্য খুব বেশি ব্যয় হবে না। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, দেশপ্রেমিক জনগণের মঞ্চের চেয়ারম্যান পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ড. ইনামুল হক ও মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী শফিউদ্দিন সরকার, আব্দুল ওয়াহেদ মজুমদার, হাকিম মহিবুল্লাহ শান্তিপুরী।
পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ড. ইনামুল হক বলেন, ২০০৭ সালের জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে সেতু নির্মাণ করতে খরচ হবে ১ হাজার ৭৪ মিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে যুক্ত হবে পাড় প্রতিরক্ষা খরচ। অন্যদিকে দোহার-চর ভদ্রাসন পয়েন্টে খরচ হবে ৬৬৬ মিলিয়ন ডলার। এ পয়েন্টে পাড় প্রতিরক্ষা ব্যয় অনেক কম হবে। তিনি বলেন, মাওয়া পয়েন্টে পাড় প্রতিরক্ষা ব্যয় হবে ৩১০ মিলিয়ন ডলার। তবে এক্ষেত্রে ব্যয় অনেক বেশি হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাইকা ই”ছা করে ব্যয় কম দেখিয়েছে। এ স্থানটি প্রচুর বালুযুক্ত হওয়ায় সবসময়ই ভাঙনের সম্মুখীন হয়। তাছাড়া পয়েন্টের দক্ষিণ তীরে আড়িয়াল খাঁ নদীর খাঁড়ি। এ কারণে সেতুর স্থানটি অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ। তাই পাড় প্রতিরক্ষার জন্য এ পয়েন্টে সবসময়ই সরকারকে ব্যয় করতে হবে। অন্যদিকে দোহার পয়েন্টে পাড় প্রতিরক্ষা ব্যয় হবে ২২৪ মিলিয়ন ডলার। এ পয়েন্টের উজানে উত্তর তীরে মানিকগঞ্জের ধূলসরায় শক্ত মাটির পাড় এবং দক্ষিণে ফরিদপুরের হাজীগঞ্জে সিরাজগঞ্জের মতো পাড় প্রতিরক্ষা রয়েছে। ড. ইনামুল হক আরো বলেন, দোহার-চর ভদ্রাসন পয়েন্টে ৫০ কি.মি. সেতু সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ করতে হবে। মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে মাত্র ১৬ কি.মি. সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। তবে নদীর দৈর্ঘ্য কম হওয়ায় তারপরও এ পয়েন্টে সেতু নির্মাণে খরচ কম পড়বে। তিনি বলেন, দোহার-চর ভদ্রাসন পয়েন্ট দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সব যানবাহন চলাচল করতে পারবে। কিন্তু মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন পার করবে না। এজন্য পাটুরিয়া-গোয়ালন্দেও একটি সেতু নির্মাণের কথা বলছে সরকার। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ড. ইনামুল হক বলেন, ২২০ কি.মি. যমুনা নদীতে একটি সেতু যথেষ্ট হলে ১০৪ কি.মি. পদ্মা সেতুর জন্য ২টি সেতু কেন নির্মাণ করা হবে।
আবুল খায়ের বলেন, মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতু নির্মাণ না করে দোহার-চর ভদ্রাসন পয়েন্টে নির্মাণ করলে ১টি সেতু নির্মাণের খরচ বেঁচে যায়। এর ফলে সরকারের ১ হাজার মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়।