পদ্মা সেতুর ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা

গোলাম মাওলা আকন্দ, মাদারীপুর থেকে
পদ্মা বহুমুখী সেতুু প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার ভূমি অধিগ্রহণ করার আগ মুহূর্তে হঠাৎ করেই ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। যেমনটি হয়েছিল কাওড়াকান্দি-ভাঙ্গা সড়কের (এশিয়ান হাইওয়ে) শিবচর অংশে। সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের আগ মুহূর্তে প্রকল্প এলাকায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করে গাছপালা লাগিয়ে সরকারের কাছ থেকে জমির মূল্যের বাইরেও আদায় করা হয়েছিল লাখ লাখ টাকা। ঠিক তেমনিভাবে পূর্ব অভিজ্ঞতার সূত্র ধরে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প এলাকায় হঠাৎ করেই বসতির সংখ্যা বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, সেতু প্রকল্প এলাকার আশপাশের জমির মূল্যও হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ ও জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ভূমি অধিগ্রহণের ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও যথাযথ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সেতু ও সেতুর এপ্রোচ সড়ক এলাকার জমির মালিকরা যখন জানতে পেরেছেন পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকার মধ্যে তাদের জমি পড়েছে তখন থেকেই ওইসব ভূমিতে শুরু হয়ে যায় অপ্রয়োজনীয় ঘরবাড়ি নির্মাণ ও গাছপালা লাগানো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানিয়েছেন, এসব অপকর্মে সহায়তা করেছেন ভূমি সংক্রান্ত দফতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রকল্প এলাকার জমির মালিকানা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে কিছু কিছু জটিলতা। এসব জটিলতার কারণে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প এলাকার জন্য জমি অধিগ্রহণ এখন কর্তৃপক্ষের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সেতু ও সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাদারীপুর, শরীয়তপুর এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে। পদ্মা সেতু নির্মাণ পরিকল্পনায় বর্তমান বছরের জানুয়ারি মাসে মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২২ মাসের মধ্যে বিস্তারিত ডিজাইন সম্পন্ন করা এবং ২০১৩ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সেতুর বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়নের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় ও ল্যান্ড একুইজিশন প্লান, রিসেটেলম্যান্ট অ্যাকশন প্লান এবং এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট প্লান প্রণয়ন করে মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় প্রেরণ করা হয়। সে অনুযায়ী গত জানুয়ারি মাসে মাদারীপুর জেলার ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব পাস এবং ৭ এপ্রিল মাদারীপুর জেলা থেকে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ১৪৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকার প্রাক্কলন প্রেরণ করা হয়েছে। তবে পদ্মা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষের একটি সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন জটিলতার কারণে শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে অদ্যাবধি কোন প্রাক্কলন জমা দেয়া হয়নি।