পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

2nd-padmaপাটুরিয়া-গোয়ালন্দ পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুর জন্যে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ১শ’ ৩৬ কোটি টাকা।

সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে গ্রীন সিগন্যাল পাওয়ার পর এ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা তৈরি করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবনাটি একনেকে অনুমোদনের জন্যও পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগির প্রকল্পটি অনুমোদন করা হবে।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ৫ কিলোমিটার, প্রস্থ হবে ১৮ দশমিক ১ মিটার। দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক হবে সাড়ে ১৫ কিলোমিটার। নদী শাসনের কাজ হবে দুই প্রান্তে ১৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার। প্রাক্কলিত ব্যয় ১০ হাজার ১শ’ ৩৬ কোটি টাকার মধ্যে ৩ হাজার ৪শ’ ৬৭ কোটি টাকার যোগান দেবে সরকার। প্রকল্পের বাকি ৬ হাজার ৬শ’ ৬৯ কোটি টাকার জন্য প্রকল্প অনুমোদনের পর দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য দাতা হিসেবে ধরা হয়েছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি)। এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ যাতে এখন থেকেই দাতাদের প্রতিশ্রুতির জন্য কাজ করতে পারে সেজন্য প্রকল্পের একটি প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে।

প্রথম পদ্মা সেতুর জন্য জাইকা যে সম্ভাব্যতা যাচাই রিপোর্ট তৈরি করেছিল তার ভিত্তিতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। তবে এতে বলা হয়েছে, পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার ওপর প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সেতুর জন্য প্রয়োজনে পৃথকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে প্রথম পদ্মা সেতুর জন্যে স্থান নির্ধারণী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সময় পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ পয়েন্টকেও বিবেচনায় আনা হয়।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ লাভজনক হবে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। অবহেলিত এ জনপদে শিল্প স্থাপিত হবে। মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। মংলা বন্দর কর্মচঞ্চল হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জিডিপি বাড়বে। জাতীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। তাছাড়া প্রস্তাবিত সেতুটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে পরিকল্পিত এশিয়ান হাইওয়ে প্রাইওরিটি রুট নং- এএইচ-১ এর উপর অবস্থিত হবে। সে কারণে প্রকল্পটি জাতীয়

ও আন্তর্জাতিকভাবে অগ্রাধিকার পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবনায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংককে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ব্যাংকের মতে সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামগ্রিকভাবে কৃষি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড জোরদার করবে।

প্রসঙ্গত, প্রথম পদ্মা সেতুর নকশা বাছাইয়ের কাজ চলছে। সম্প্রতি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রথম পদ্মা সেতুর নকশা বাস্তবায়নের রূপরেখা উপস্থাপন করে নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মনসেল-এইকম। এই অনুষ্ঠানে তারা পাঁচটি ধারণা নকশা উপস্থাপন করে। আশা করা হচ্ছে, ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মূল সেতু ও নদী শাসন কাজ শুরু হবে। আর নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে।

http://www.ittefaq.com/content/2009/05/06/news0630.htm