পদ্মার ভাঙ্গনে আধা কিলোমিটার ফসলি জমি বিলীন

কাজী দীপু মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলায় কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে বেথুয়া থেকে যশলদিয়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকায় আধা কিলোমিটার ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে ভাগ্যকুল বাজারের তিন শতাধিক দোকানপাট, কবুতর খোলা, চারিপাড়া, দক্ষিন কামারগাঁও, ভাগ্যকুল, যশলদিয়া ও কান্দিপাড়া গ্রামের প্রায় দুই সহস্রাধিক ঘরবাড়ি।

চারিপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী লাল মিয়া হাওলাদার জানান, গত এক মাসে আব্দুল পাঠানের বাড়ি সংলগ্ন ২০০ ফুট এলাকার কড়ই বাগান, মিজান গাজী পরিবারের ৫ কানি জমি বিলীন হয়ে গেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে অতিমাত্রায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে ভাগ্যকুল ও বাঘরা ইউনিয়নে নতুন করে পদ্মার ভাঙ্গন । প্রতি মুহুর্তে নদী তীরর্বতী বিভিন্নস্থানে বিশালাকৃতির ফাটলের সৃষ্টি হয়ে তা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পদ্মার নতুন আগ্রাসনে আতংকিত এলাকাবাসী তাদের ঘরবাড়ি সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভাগ্যকুল গ্রামের ফজল শেখ জানান, গত ২ দিন আগে তার বাড়িসহ ২০/২২ টি বাড়িঘর সরানো হয়েছে। সহায় সম্বল হারিয়ে গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত বৃদ্ধ হাসান মাতব্বর পদ্মায় কেড়ে নেয়া বিশালাকৃতির এক চরন দেখিয়ে বলেন, মাত্র ১০/১৫ মিনিটের ব্যবধানে তা বিলীন হয়েছে।

এদিকে ভাঙ্গন প্রতিরোধর জন্য গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তাব উর্ধবতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানালেন ভাগ্যকুল বাজার কমিটির সভাপতি আয়নাল হোসেন। ওই সময় মাত্র দুই মাসের মধ্যে ১৬’শ একর ফসলি জমি, গাছপালা ও বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়।