পদ্মা সেতুর পাঁচটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন

13603_1পদ্মা সেতু নির্মাণে পাঁচটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করেছে সরকারের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সরকার এ পাঁচটি বিকল্প থেকে একটি নকশা অনুমোদন করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার শেরাটন হোটেলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের উপস্িথতিতে নকশা উপস্থাপন করে নিউজিল্যান্ডভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মনসেল এয়োকমের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কেন হুইলার।
মনসেল নকশার যেসব বিকল্প উপস্থাপন করে, তার মধ্যে একটিতে ট্রেন ও সড়ক পরিবহন পাশাপাশি চলার কথা বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর আদলে শুধু কংক্রিট ব্যবহার করে সেটা করা হবে। বাকি চারটি বিকল্পে কংক্রিট ও স্টিলের সমন্বয়ে অনেকটা ‘দ্বিতল’ পদ্ধতি করার কথা বলা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ওপর দিয়ে সড়ক পরিবহন চলবে এবং নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। পরামর্শকেরা এই ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁদের যুক্তি, এ পদ্ধতিতে সেতু নির্মাণে সময় কম লাগবে, রক্ষণাবেক্ষণও সহজ হবে। এ ছাড়া নিচে ট্রেন চালালে সেতুর উচ্চতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেললাইন করতেও সুবিধা হবে। খরচও কমে যাবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, এ পদ্ধতি ব্যয়বহুল হবে। তা ছাড়া ওপরে সড়ক পরিবহন, নিচে ট্রেন চালানোর ধারণা বিশ্বে খুব একটা প্রচলিত নয়। সেতু বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞরা দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিতভাবে বিকল্প নকশা সম্পর্কে তাঁদের মতামত জানিয়ে দেবেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জুন মাসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে নকশা অনুমোদন করা হবে। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা।
বিশেষজ্ঞ কমিটিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জামিলুর রেজা চৌধুরীসহ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা রয়েছেন।
নকশা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় তা ২০১৩ সালের মধ্যে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে মাদারীপুরে ভুমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে। এ কাজে ব্যয় হবে ১৪৭ কোটি টাকা। শরীয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায়ও পুনর্বাসনের কাজ আগামী জুলাই মাসের মধ্যে শুরু হবে বলে তিনি জানান।
জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, বিশ্বের অনুমোদিত ও প্রচলিত নকশার ভিত্তিতেই সেতু তৈরি করতে হবে। একেবারে নতুন পদ্ধতিতে সেতু করতে হলে আরও ভাবতে হবে। তিনি নদীশাসন ও ভুমিকম্প প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করতে হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুল আজিজ বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে হলে সময়মতো প্রতিশ্রুত ঋণ ছাড় করানো ও যথাযথ দলিলপত্র তৈরি করা জরুরি।
সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও সচিব আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যোগাযোগসচিব এস এম আলী কবীর, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান। এ সময় সেতু নির্মাণে সহায়তাকারী বিশেষজ্ঞ দল, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, সেতু বিভাগের সাবেক নির্বাহী পরিচালক, আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্িথত ছিলেন।
এ সেতু তৈরিতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। সরকারের বাইরে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাপান ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, কুয়েত ফান্ড, আবুধাবি ফান্ড অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার, প্রস্থ ২৫ মিটার।