হুমায়ুন আজাদকে হারিয়ে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

জন্নজয়ন্তীতে বক্তারা
হুমায়ুন আজাদের মতো সৎ ও সাহসী শিক্ষক হারিয়ে দেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা নির্ধারণের সময় তাঁর নীতি ও আদর্শের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাঠ্যপুস্তকেও প্রয়াতের সাহিত্যকর্ম ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। প্রয়াত হুমায়ুন আজাদের ৬২তম জন্নজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার আয়োজিত আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম এ কথা বলেন।
বহুমাত্রিক লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ স্নরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, সমাজ থেকে মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতা দুর করতে ঠিক জায়গায়ই হুমায়ুন আজাদ তীর ছুড়ে মারতে পেরেছিলেন। এ সাহসিকতার পরিণামে জীবনও দিতে হয়েছে তাঁকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, হুমায়ুন আজাদের ওপর আক্রমণ ও হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে দোষীদের বিচার করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বর্তমান সরকারের কাছে এ প্রত্যাশা সবার। তিনি বলেন, হুমায়ুন আজাদের স্নৃতিকে ধারণ করে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। এ শক্তি সত্য বিকাশে কাজে লাগাতে হবে।
এম এম আকাশ বলেন, যুদ্ধাপরাধী, বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী, হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলাকারীদের বিচার করাসহ বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি বলেন, এসব বিচার এই সরকারকেই করতে হবে।
অনুষ্ঠানে হুমায়ুন আজাদ সংসদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি পেশ করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন মুনতাসীর মামুন, রফিক উল্লাহ খান, নুহ-উল আলম লেলিন, হুমায়ুন আজাদের স্ত্রী লতিফা কোহিনুর, সাজ্জাদ কবীর প্রমুখ। হুমায়ুন আজাদ সংসদ ও হুমায়ুন আজাদ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন আয়োজক সংসদের আহ্বায়ক আজিজ হাসান।
গ্রামে নানা আয়োজন: মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হুমায়ুন আজাদের জন্নবার্ষিকীতে গতকাল তাঁর গ্রামের বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে নানা কর্মসুচির আয়োজন করা হয়। সকালে তাঁর সমাধিতে পুষ্কপার্ঘ্য অর্পণ করেন বিভিন্নস্তরের মানুষসহ নানা অঞ্চল থেকে আসা তাঁর ছাত্রছাত্রী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এরপর তাঁর বাড়ির উঠানে ‘জ্যোতির্ময় আঙিনায়’ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।