ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের পরামর্শ দিলেন বিদায়ী গভর্নর

salehস্থানীয় বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ।

চার বছর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায়ের প্রাক্কালে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ পরামর্শ দেন।

বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কি সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এখন সরকারের আশু চ্যালেঞ্জ। তবে এর পাশাপাশি দেশে দ্রুত শিল্পায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে রেখে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতের আরও উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সালেহউদ্দিন আহমেদ গভর্নর হিসেবে শেষ অফিস করবেন। বিগত বিএনপি সরকরের সময়ে ২০০৫ সালের পহেলা মে তিনি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ ভালো। বিশ্ব মন্দার প্রভাব এখনও বাংলাদেশের ওপর তেমন পড়েনি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খুবই ভালো। বিরাট সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই দেশ।”

বিদায়ী গভর্নর বলেন, অবকাঠামো খাতের সমস্যা দূর করা গেলে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়িয়ে স্থানীয় বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।”

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন সরকারের চার মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকার সঠিক পথেই এগুচ্ছে। অর্থনীতির প্রাণ কৃষি খাতকে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে এ খাত। সত্যিকার অর্থে দেশের উন্নয়ন করতে হলে কৃষির দিকেই বেশি নজর দিতে হবে।”

গভর্নর বলেন, “আমাদের দেশেই বিশাল বড় বাজার রয়েছে। এ বাজারের চাহিদার বিষয়টিতে লক্ষ্য রেখে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো গেলে বিদেশ নির্ভরতা কমে আসবে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্ত্ব�শাসন প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা খুবই দক্ষ। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও বেশি স্বাধীনতা থাকা দরকার।”

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সব কিছু বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। মার্কেটে শৃংখলা রাখতে হলে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা অবশ্যই রাখতে হবে।”