পৃথিবীতে প্রথম ধান দেখা যায় যেখানে

ধান একটি আদি কৃষিজ পণ্য। এর চাষাবাদ পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ এবং উৎপাদনও অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশি হয়। পৃথিবীর কোন্ এলাকায় প্রথম ধান দেখা যায় এটি নিয়ে এ পর্যন্ত বিস্তর গবেষণা ও বিতর্ক হয়েছে কৃষি বিজ্ঞানীদের মধ্যে। তবুও মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে চায়। তাই এটি জানার জন্য মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ধানকে বলা হয় পানিখেকো ফসল। পানি লাগবে সবচেয়ে বেশি এটির ফলস ফলাতে, তাই এটি পৃথিবীর নিম্নাঞ্চলে হয় বলে বেশিরভাগ বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

ধান একটি মৌসুমী ফসল। ফলে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়। ধানের বৈজ্ঞানিক নাম ঙজণতঅ ঝঅঞওঠঅ এবং এজঅগওঘঊঅঊ পরিবার হতে উদ্ভূত এটি। গবেষকদের ধারণা, বিশ্বে প্রায় ৩০০-৪০০ প্রকারের ধান নিয়মিত চাষাবাদ করা হয়। কিছু ধানের চাউল মোটা আবার কিছু ধানের চাল চিকন ও সরু। চাউল মোটা-সরু যেরকমই হোক না কেন পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ধানের কম-বেশি চাষ করা হলেও এর উৎপত্তিস্থল নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। বেশির ভাগ বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে, ধানের উৎপত্তি সম্ভবত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উর্বর মৃত্তিকাযুক্ত অঞ্চলে সম্ভবত এ কৃষির উদ্ভব হয়। এ অঞ্চলটিই পৃথিবীর প্রধান ও প্রথম ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত। এ জন্য ধানের ভূমি বলা হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে। পুরো এশিয়া মহাদেশে পৃথিবীর ৯১% ধান উৎপাদিত হয় আর বাকি ৯% ধান উৎপাদিত হয় অন্য মহাদেশগুলোতে। তাপমাত্রা ২০দ্ম-২৭দ্ম সেলসিয়াস, বৃষ্টিপাত ১০০-৩৬৫ সেন্টিমিটার, উর্বর পলিযুক্ত এঁটেল দোআঁশ মাটি, নদ-নদীর অবস্থান ও প্রায় সমতল ভূ-ভাগ থাকার কারণে ধান চাষের শ্রেষ্ঠ অঞ্চল হিসেবে বিশ্বে এ অঞ্চলটি সর্বাধিক পরিচিত। আউস, আমন, বোরো, ইরি, জাপানিকা, ইন্ডিকা প্রভৃতি জাতের ধানগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ধান।

এসএম আলমগীর হোসেন
সহকারী অধ্যাপক
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
বিক্রমপুর আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ।