মুন্সীগঞ্জে জাটকা ধরার হিড়িক তিন সপ্তাহে আট টন আটক

মুন্সীগঞ্জে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে জাটকা নিধনের যেন হিড়িক পড়ে গেছে। গত তিন সপ্তাহে সাড়ে আট টন জাটকা আটক করেছে আইনশৃড়খলা বাহিনী। এর মধ্যে এক ইঞ্চি লম্বা জাটকাও রয়েছে। এসব ঘটনায় জেলে, ব্যবসায়ীসহ ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। ৩৫০ মিটার জাল ও মাছ ধরার ট্রলার আটক করা হয়েছে পাঁচটি।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত লৌহজংয়ের মাওয়াঘাট, শ্রীনগরের ভাগ্যকুল ও সদরের মিরকাদিম আড়তসহ বিভিন্ন স্থান ২৫টি অভিযান চালিয়ে সাত হাজার ৯৩৯ কেজি জাটকা আটক করা হয়। এর মধ্যে ছয় হাজার ৬৯৭ কেজি নিলামে বিক্রয় করে সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৯ টাকা। বাকি এক হাজার ২৪২ কেজি জাটকা বিভিন্ন মাদ্রাসা-এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। জাটকার সঙ্গে আটক করা ৩০ জনের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আট টন জাটকার মধ্যে সাড়ে সাত টন জাটকা চার থেকে ইঞ্চি পাঁচ লম্বা। বাকি আধা টন হচ্ছে এক ইঞ্চি লম্বা। আটক জাটকা ইলিশে পরিণত হলে এর মূল্য হতো সাড়ে সাত কোটি টাকা।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, জাটকা নিধনের সঙ্গে কিছু জেলে ও খুচরা ব্যবসায়ী ধরা পড়লেও মূল হোতা আড়তদারেরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এই আড়তদারেরাই জেলেদের পেছনে দাদন খাটায়। আর দাদনের টাকা পরিশোধ করতে গিয়েই জেলেরা জাটকা ধরতে বাধ্য হচ্ছে।
জেলেদের জাটকা ধরা প্রসঙ্গে শ্রীনগরে ভাগ্যকুলের আড়তদার অজিত মালো বলেন, ‘গরিব মানুষ, জীবিকার জন্য জাটকা ধরছে। আমরা তাদের মানা করি, কিন্ত- তার পরও কেন যে তারা ধরে?’ তবে তিনি জেলেদের জাল ও নৌকা কেনাসহ খরচের জন্য ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দাদন দেওয়ার বিষয়টি স¦ীকার করেন। একই কথা বলেন আড়তদার আনন্দ মালো, সিদ্দিক খাঁ ও আলী সারেং।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম জানান, তাঁদের জনবল কম। এ দিয়েই জাটকা নিধনকারীদের ধরার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ বছর ইলিশের পোনা একটু বেশি হয়েছে উলে¬খ করে তিনি বলেন, জেলেদের জালে বেশি ধরা পড়ছে। এ জন্য তিনি মু›িসগঞ্জের মাওয়া, ভাগ্যকুল ও চরঝাপটাসহ পয়েন্টগুলোতে নৌবাহিনী ও কো¯টগার্ডের টহল দেওয়ার দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, জেলেদের বিরত রাখতে চাল দেওয়া হচ্ছে। আবার যারা ধরা পড়ছে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।