বিগত দুই বছরে মুন্সিগঞ্জ জেলা পেয়েছে সর্বোচ্চ প্রায় ২৮ লাখ টাকা

রাষ্ট্রপতির তহবিল থেকে অনুদান
রাষ্ট্রপতির তহবিল থেকে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সবচেয়ে বেশি অনুদান পেয়েছে মুন্সিগঞ্জ জেলা। এর মধ্যে সদর উপজেলার অধিবাসীর সংখ্যাই বেশি। ২০০৭ সালে ঢাকা বিভাগের ৬৭৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেয়া অনুদানের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের ৩০৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়। ঐ বছরেই সিলেট বিভাগ পেয়েছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং খুলনা বিভাগ পেয়েছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একইভাবে ২০০৮ সালে মুন্সিগঞ্জের ৪৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অনুদান পেয়েছে ৯ লাখ ৬ হাজার টাকা। ঐ বছর সিলেট বিভাগ পেয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার এবং খুলনা বিভাগ পেয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার টাকা। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এই অর্থ বিতরণ করেন। রাষ্ট্রপতির গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ হওয়ায় অনুদান বিতরণে তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে।

গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শেষদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-২ এর সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার এ তথ্য জানান।

১৯৭৮ সালের ২০ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক রাষ্ট্রপতির তহবিল নীতিমালা করা হয়। নীতিমালায় বলা আছে, এই তহবিল থেকে মঞ্জুরির কোন সর্বোচ্চ সীমা থাকবে না। রাষ্ট্রপতির ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মঞ্জুরি যে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে দেয়া যেতে পারে। এই মঞ্জুরি আবর্তক হবে না এবং ভবিষ্যতে আরো মঞ্জুরি দেয়ার কোন অঙ্গীকার বহন করবে না। এই তহবিল থেকে খরচাদি নিরীক্ষার জন্য পেশ করা হবে। রাষ্ট্রপতির সচিবালয় এই তহবিল থেকে খরচের পূর্ণ হিসাব রাখবে।

রাষ্ট্রপতির তহবিল তালিকা থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ অনুদান দেয়া হয় ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকা। লঞ্চ দুর্ঘটনা, বিশিষ্ট ব্যক্তির চিকিৎসা, বড় ধরনের দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন খাতে অনুদান দেয়া হয় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে ৬৪৪ ব্যক্তি ও ৩৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই টাকা বিতরণ করা হলেও বাকি ৪০ লাখ টাকার মধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলা এককভাবে পায় ১৭ লাখ ২২ হাজার টাকা। আরো দেখা যায়, মুন্সিগঞ্জ জেলায় ভরণ-পোষণ, মেয়ের বিয়ে, বোনের বিয়ে, চিকিৎসা, গৃহ নির্মাণ, লেখাপড়া ও দুঃস্থ মহিলার জন্য সেলাই মেশিন ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে ২০০৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫৪ ব্যক্তি ও ৪টি প্রতিষ্ঠানকে এই টাকা দেয়া হয়। এছাড়া একই বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪৮ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেয়া হয় ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ২০০৮ সালেও মুন্সিগঞ্জের ১৪২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ ৬ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়।

বিভাগ অনুযায়ী দেখা গেছে, ২০০৭ সালে ঢাকা বিভাগ পেয়েছে ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ পেয়েছে ৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা, রাজশাহী বিভাগ পেয়েছে ৫ লাখ ১১ হাজার টাকা, খুলনা বিভাগ পেয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বরিশাল বিভাগ পেয়েছে ১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ও সিলেট বিভাগ পেয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। ২০০৮ সালে ঢাকা বিভাগ পেয়েছে ৬১ লাখ ১০ হাজার ১০০ টাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ পেয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, রাজশাহী বিভাগ পেয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, খুলনা বিভাগ পেয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার টাকা, বরিশাল বিভাগ পেয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ও সিলেট বিভাগ পেয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা।