মুন্সীগঞ্জে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি

অধিগ্রহণের টাকাও পাননি জমির মালিকরা
মো: আবু সাঈদ সোহান মুন্সীগঞ্জ
৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুন্সীগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধের নির্মাণকাজ অনেকটা গতিহীন হয়ে পড়েছে। ২০০৫ সালে এ কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের টাকা বুঝে পায়নি অনেক জমির মালিক। তারা বিভিন্ন দফতরে ঘুরে ফিরলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এ দিকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাঁধের কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। শহরবাসী এতে যেমন হতাশ তেমনি জমির মালিকরাও শঙ্কিত।
শহর রক্ষাবাঁধটি মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে উত্তর ইসলামপুর কালীগঙ্গা নদীর পাড় দিয়ে রমজানবেগ হয়ে মুন্সীরহাট কাটাখালীকে ভেতরে রেখে চম্পাতলা দিয়ে পঞ্চসার হয়ে মোক্তারপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে লঞ্চঘাটে পৌঁছবে। বর্তমানে লঞ্চঘাটের সামনে ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণসহ নদীতীর সংরক্ষণের ৭০০ মিটার কাজ আংশিকভাবে সম্পন্ন হলেও পুরো কাজের প্রক্রিয়া রয়েছে অìধকারে। আরো কিছু অংশ টেন্ডার হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের টাকা এখনো দেয়া হয়নি। তারা উন্নয়নের স্বার্থে এবং স্খানীয় দালালদের কাছে পণবন্দী হয়ে নিজেদের জমি দিলেও টাকা তুলতে বিভিন্ন দফতরে ধরনা দিচ্ছেন। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাটি দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও মাটির স্খলে বালু ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বাঁধের স্খায়িত্ব নিয়ে শহরবাসী শঙ্কিত। এ কাজে সহায়তা নেয়া হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গড়া সিন্ডিকেটের। অর্থের বিনিময়ে তারা সহযোগিতা করেছেন।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে তার নিয়োগকৃত ম্যানেজারকে পাওয়া গেলে তিনি উল্টো এ প্রতিবেদককে ভয়ভীতি দেখান। নদীতে লাশ ভাসার কাহিনী শোনান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও ওপেকের আর্থিক সহায়তায় এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি বন্যা প্রতিরোধ কার্যক্রমের সাথে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্খা উন্নয়ন, পয়:নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্খাপনা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও পরিবেশ উন্নয়ন ব্যবস্খাকে সমন্বয় করবে। ফ্লাড ওয়ালসহ প্রায় ২২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে শহর রক্ষাবাঁধের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তার মধ্যে জিওবি দেবে ২ কোটি ৮০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, এডিবি থেকে আসবে ২০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার এবং ওপেক দেবে ৫ কোটি ৯৭ লাখ ৯ হাজার টাকা। তবে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও সহজতর এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণ করার পরিকল্পনা থাকায় শহর রক্ষাবাঁধের প্রাক্কলিত টাকা প্রায় ৫০ কোটিতে দাঁড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আরো জানা যায়, শহর রক্ষাবাঁধের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যপূর্ণ কাজ হবে। সেখানে মানুষজন নদীর পানিতে গোসল করার সুব্যবস্খা পাবে। পাড়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো জায়গা থাকবে। দীর্ঘ সড়ক পথ থাকবে। প্রকল্পের মূল অংশের মধ্যে রয়েছে­ ৩ দশমিক ৮০ কিলোমিটার বন্যা বাঁধ নির্মাণ, ৭ দশমিক ৮০ কিলোমিটার বন্যা বাঁধ পুন:আকৃতিকরণ, ১১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার বন্যা বাঁধের ক্রেস্ট পাকাকরণ, ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ, শূন্য দশমিক ৯৮ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ ফ্লাড ওয়াল পুনর্বাসন, ৩ দশমিক ৬০ কিলোমিটার বাঁধের þেöাপে রিভেটমেন্ট, ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ফ্লাড ওয়াল ও ২১টি হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার প্রভৃতি।
এ দিকে লঞ্চঘাটের কাছে বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় বিনোদনবঞ্চিত শহরবাসী সেখানে সপরিবারে বেড়াচ্ছেন। প্রতিদিন বিকেলে সেখানে অনেক লোকের সমাগম হচ্ছে।
কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান জানান, আমি চাই দ্রুত কাজ শেষ হোক। কিন্তু সরকার, দাতাগোষ্ঠী, প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ হওয়ার কারণে শহর রক্ষাবাঁধ নির্মাণে দেরি হওয়া স্বাভাবিক। এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ বিষয়টি জটিলতা ও সময় বাড়িয়ে দিয়েছে।