মুন্সিগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রীকে চাপাতি দিয়ে জবাই, শিক্ষক পলাতক

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রন্ছ এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার মাইমুনা হক (১৩) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রীর জবাই করা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাইমুনার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কোরআন শরিফ পড়াতে গিয়ে তাকে চাপাতি দিয়ে জবাই করেছেন মাদ্রাসাশিক্ষক সরওয়ার হোসেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চাপাতিটি উদ্ধার করেছে।
মাইমুনার বড় বোন উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া হক জানায়, তারা দুই বোন বাড়িতে পার্শ্ববর্তী আল মাদ্রাসাতুল মদিনাতুল উলুম নামের মাদ্রাসার শিক্ষক সরওয়ারের কাছে কোরআন শরিফ পড়ত। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলার কারণে কয়েক দিন ধরে সাদিয়া পড়া বন্ধ রেখেছে; কিন্তু মাইমুনার পড়া চলছিল।
প্রতিদিনের মতো গতকাল বিকেল পৌনে চারটার দিকে বাড়িতে কোরআন শরিফ পড়াতে আসেন সরওয়ার। আধা ঘণ্টা পর পড়ার কক্ষে গিয়ে সাদিয়া দেখে, শিক্ষক নেই। মাইমুনা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দৌড়ে গিয়ে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা বাবাকে খবর দেয় সে। পরে তাঁরা গিয়ে দেখেন, মাইমুনার জবাই করা মৃতদেহ পড়ে আছে। শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন। ওড়না দিয়ে ঢাকা। পাশে পড়ে আছে একটি রক্তমাখা চাপাতি।
সাদিয়ার বাবা এনামুল হক মাদবর জানান, তিন-চার মাস ধরে তাঁর মেয়েদের বাড়িতে এসে পড়াচ্ছিলেন সরওয়ার। এর আগে মাইমুনা ওই মাদ্রাসায় গিয়েই পড়ত। তাঁর জানা মতে, ওই শিক্ষকের বাড়ি যশোর জেলায়।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মামুনুর রশিদ, আকরাম হোসেন ও খোরশেদ আলমকে আটক করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। থানা হেফাজতে আটক শিক্ষকেরা প্রথম আলোকে জানান, সরওয়ার সব সময় একা থাকতে পছন্দ করতেন। কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলতেন না। গম্ভীর থাকতেন। তবে কথায় কথায় উত্তেজিত হয়ে যেতেন। দুপুরের খাবার খেয়ে প্রতিদিন কোথায় যেন চলে যেতেন। আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসতেন।
মুন্সিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুলতান উদ্দিন জানান, মেয়েটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। বিকেল পৌনে চারটা থেকে পৌনে পাঁচটার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সরওয়ারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাদিয়ার মা বেবি আক্তার গতকাল সকালে ঢাকায় গিয়েছিলেন সেখানে চিকিৎসাধীন তাঁর মাকে দেখতে। খবর পেয়ে তিনি গতকাল রাত আটটার দিকে বাড়ি ফেরেন। মেয়ের এ রকম মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি এখন শোকে মুহ্যমান।
সাদিয়া ও মাইমুনা ছাড়া এনামুল-বেবি দম্পতির জুবায়ের নামের ছয় বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।