মুন্সীগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং বোরো চাষীরা বিপাকে

বিদ্যুতের অভাবে বোরো চাষীরা বিপাকে পড়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ চালিত সেচ স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। সেচের আওতায় চলতি মৌসুমে ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত চাষাবাদ হয়েছে ২১ হাজার হেক্টর জমিতে। ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই বোরো চাষ। ৩ হাজার ১ শ’ ৯৩ টি নলকূপের মাধ্যমে এই জমিতে সেচ দেয়া হয়। এর মধ্যে ৫শ’২৫টি বড় সেচই বিদ্যুৎ চালিত। কিন্তু অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্পগুলো বন্ধ থাকছে। তাই চাষীরা এখন দুশ্চিন্তায়।

লৌহজংয়ের কালিয়ানি বিলের কৃষক রমিজ জানান,এই বিলের শত শত একর জমির ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুতের অভাবে। এখানকার সেচগুলো বিদ্যুৎ চালিত। কিন্তু বিদ্যুৎ এখানে পাওয়া যায় ৫/৭ ঘন্টা মাত্র। ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা যাওয়ার কারণে পাম্পও অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। লৌহজংয়ের কালিয়ানি বিল ছাড়াও উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়ন,কুমারভোগ ও আশাপাশের এলাকার জমির ধান গাছ এখন বিবর্ণ।

মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আব্দুর রশিদ জানান,এখানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন সমিতির আওতায় রাতে ৬০ মেগাওয়াট এবং দিনের বেলায় ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গড়ে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র।

লৌহজংয়ের কৃষক হিরু মিয়া জানান,অন্যান্য এলাকার চেয়ে লৌহজংয়ে বিদ্যুৎ সরবারহ করা হয় সবচেয়ে কম। এই বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে লৌহজংয়ের বোরো চাষীরা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া শ্রীনগর এবং সিরাজদিখান উপজেলার কৃষকদেরও দাবি, সেচ চালানোর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো না গেলে বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হীরা লাল ধর জানান, ৫/৭ ঘন্টা লোড শেডিং হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ চালিত সেচের আওতায় জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ডিজেল চালিত জমির সেচ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।