সামছু ফকিরের ভক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার সামছু ফকিরের একজন ভক্ত। অনেক আগে থেকেই সামছু ফকিরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে। একাধিকবার তাঁদের দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, সামছু ফকিরের আধ্যাত্মিক শক্তি আছে। তিনি পার্থিব সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি ঘনিষ্ঠ সুত্রে এ কথা জানা গেছে। তবে তাঁর একান্ত সহকারী সচিব মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, মন্ত্রী ওই পীরের ভক্ত বা মুরিদ কি না তিনি জানেন না। তবে সামছু ফকিরের সঙ্গে তিনি দেখা করতে গেছেন। প্রায় ১০ মিনিট তাঁদের মধ্যে একান্তে কথা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে কী করেছেন, কেন গেছেন, সেটা তিনি জানেন না। ওই সময় মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি সেখানে ছিলেন বলে জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানামুখী চাপে আছেন। সম্প্রতি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিরোধী দলসহ সরকারের প্রভাবশালী মহল তাঁর পদত্যাগ দাবি করছে।
আমাদের গজারিয়া (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ বড় রায়পাড়া গ্রামের সামছু পাগলার আস্তানায় গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় হঠাৎ করে হাজির হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, মন্ত্রীর আগমনে এলাকাবাসীর মধ্যে অন্য রকম আবেশ দেখা গেছে।
গতকাল বুধবার বড় রায়পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সামছু পাগলা তাঁর পুরোনো টিনের চৌচালা ঘরে চৌকিতে সাদা চাদর পাতা বিছানায় টুকিটাকি জিনিসপত্র ঠিকঠাক করছেন। বাড়ির পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন সুরম্য আস্তানার বাইরের অংশে ভক্তদের ভিড়। সামছু পাগলা খুব কম লোকের সঙ্গেই কথা বলেন। সংবাদকর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, ‘গোপন কথা তোমরা ফাঁস কইরা দিবা।’ মঙ্গলবার মন্ত্রীর আগমন বিষয়ে তিনি এর বেশি কিছু বলেননি।
এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল ও আবদুস সামাদ জানান, সাহারা খাতুন নির্বাচনের আগে ও পরে বেশ কয়েকবার এ আস্তানায় এসেছেন। কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার পর মঙ্গলবার আসেন। গতকাল বিকেল তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত অনেক দর্শনার্থীর আগমন দেখা যায়। এর মধ্যে গত নির্বাচনে সাংসদ পদপ্রার্থী (মুন্সিগঞ্জ-৩) নাজমুন নাহার বেবিও ছিলেন। গজারিয়ার স্থগিত নির্বাচনে এগিয়ে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কলিমউল্লাহও এখানে আসেন।
সামছু পাগলার পাশের বাড়ির আরাফাত, আবদুস সামাদসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, স্বাধীনতার পরপর মৃত কাশেম আলীর ছেলে সামছুল হক ওরফে সামছু পাগলা এক যুগ ধরে সারা দিনে একবার চা পান করা ছাড়া আর কোনো খাদ্য গ্রহণ করতেন না। বিঘা দশেক জমি বর্গা দিয়ে সংসার চলে। স্ত্রী রেজিয়া এক বছর আগে মারা গেছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে তাদের মতো থাকে। জানা যায়, পঞ্চাশোর্ধ সামছু পাগলার এখানে অনেকে আসেন বিপদ কাটাতে। গজারিয়ার উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার মন্ত্রী আস্তানায় মিনিট পাঁচেক অবস্থান করে ঢাকা ফিরে যান।