মুন্সিগঞ্জে আরেকজন গ্রেপ্তার, আসামিদের ধরতে সীমান্তে বার্তা

বিএনপির দুই সমর্থক খুন
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের জাজিরা গ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়ে শ্বশুর-জামাতা নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাতে আকবর বেপারী (৩৫) নামের আরেকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের চারটি দল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চাঁদপুর জেলায় অভিযান চালাচ্ছে। এ ছাড়া আসামিরা যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় ও বিমানবন্দরে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।
চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি, আধারা, চরকেওয়ার, শিলই ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি জানান, বুধবারের ওই সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলের কাছের একটি আলুক্ষেত থেকে ১৪টি বোমা ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। এর আগেও ১০ জন আহত হয়েছিল। এ ছাড়া প্রায় প্রতি রাতেই চরাঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে চোরাগোপ্তা বোমা বিস্কোরণের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, চরাঞ্চলে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করা না গেলে আসন্ন আলু মৌসুমে বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে। চরাঞ্চলের কোটি কোটি টাকার আলু এখন মাঠে। এই আলু উত্তোলনের সময় স্বার্থান্বেষী মহল বরাবরই ফায়দা লোটে। এবারও ওই মহলটি ওত পেতে বসে আছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম আবদুল্লাহ জানান, আকবর বেপারীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চারটি দল অভিযান চালাচ্ছে। সীমান্ত এলাকা ও বিমানবন্দরে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে।
জাজিরা গ্রামে গত বুধবার ভোরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আলমাস বেপারী ও শাহজাহান খান নিহত হন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ও ককটেলের আঘাতে আরও অন্তত ২৫ জন আহত হন। হতাহত ব্যক্তিরা দলীয় কর্মী বলে বিএনপির স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন। এ ঘটনার জন্য তাঁরা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের দায়ী করেন।