মুন্সীগঞ্জে গুলিতে বিএনপি সমর্থক জামাই-শ্বশুর নিহত

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চল আধারা ইউনিয়নের জাজিরা গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একদল ক্যাডার প্রতিপক্ষ বিএনপি সমর্থক একই পরিবারের দুই সদস্যকে গতকাল গুলি করে হত্যা করেছে। এ হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। নিহত আলমাছ বেপারী (৬০) ও শাহজাহান (৪৫) সম্পর্কে শ্বশুর ও জামাই।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীভিত্তিক দ্বন্দ্বের জের ধরে গতকাল ভোরে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালায়। জাজিরা গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থক এ সন্ত্রাসী দলটি বিএনপি সমর্থক শাহজাহানের ওপর হামলা চালায় তার বাড়িতে এসে। এতে গুরুতর আহত হন নূরু খান (৭৫), সফিকুল ইসলাম (৪৫), আউয়াল খান (৫৫), নুরুল ইসলাম (৫০), আব্দুল লতিফ (৬৫), নবী বেপারী (২৮), বিল্লাল হোসেন (২৭)। তাদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত আলমাছের ছেলে নবী বেপারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার ৩ ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ হত্যাকা-ের পর এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে
জানা গেছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহজাহান সপ্তাহখানেক আগে খুলনা থেকে নিজ গ্রাম জাজিরায় আসেন। প্রতিপক্ষের লোকজন তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গতকাল ভোর সাড়ে ৫টায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ক্যাডার কমল বেপারী, মানিক, মেজবাহ বেপারী, মুজা বেপারী, সিরাজ বেপারী, হিটলার, মামুন, লাভলু, হাফিজ উদ্দিন, তারেক, শরীফ উদ্দিনসহ শতাধিক লোক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে আলমাছ বেপারীর বাড়ি এসে বিএনপি নেতা শাহজাহানকে বেরিয়ে আসতে বলে। পরে তারা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে গিয়ে শাহজাহানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। শ্বশুর আলমাছ এগিয়ে এলে তিনিও ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ সময় তার ছেলে নবী বেপারী গুলিবিদ্ধ হন। তাদের আর্তচিৎকারে নিহতদের স্বজনরা এগিয়ে এলে তারাও গুলিতে আহত হন। এ ধরনের আক্রমণের আশঙ্কার কথা আগে থেকে পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন। কিন্তু পুলিশ নির্লিপ্ত ছিল বলে তারা অভিযোগ করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম আবদুল্লাহ জানান, জাজিরা গ্রামে এ ধরনের নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমাদের আগে থেকে কোনো ইনফরমেশন ছিল না। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আতঙ্ক ও গ্রেপ্তারের ভয়ে গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।