রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন বি. চৌধুরী ও ড. কামাল

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মাঠ রাজনীতিতে নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে রাজনীতির মঞ্চ থেকে বিদায় নিচ্ছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি, প্রখ্যাত আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন। সদ্য সমাপ্ত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ও নিজদলের ভরাডুবির পরিপ্রেক্ষিতেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচনের দুদিন পর বি. চৌধুরী বিকল্পধারার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেও পরবর্তী সময়ে দলের সিনিয়র নেতাদের অনুরোধে স্বপদে ফেরেন তিনি। তবে দলের নির্বাহী দায়িত্ব আর পালন করছেন না। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক নূরুল আমিন বেপারিকে এবং ছেলে মাহী বি. চৌধুরীকে দেয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব। দলের আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত বি. চৌধুরী ও মেজর (অব.) মান্নান (মহাসচিব) স্বপদে থাকলেও মাঠের রাজনীতিতে তারা আর থাকছেন না। তারা নেপথ্যে থেকে নেতৃত্ব দেবেন বলে জানা গেছে। এদিকে বি. চৌধুরী ইতিমধ্যে
পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন, আগামীতে জাতীয় সংসদসহ কোনো নির্বাচনেই আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। অপরদিকে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আর কোনোদিন কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। বি. চৌধুরীর প্রসঙ্গে বিকল্পধারার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী জানান, তিনি (বি. চৌধুরী) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও আগামীতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আর কোনো সম্ভাবনা নেই তাঁর। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত না হতো তাহলে বি. চৌধুরী তখনই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতেন বলে জানান তিনি।
এদিকে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বি. চৌধুরী জানান, ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন না হলে তিনি আর কখনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না। এত অর্থও নেই, শরীরও কুলোয় না। চিকিৎসকরাও নাকি তাঁকে রাজনীতি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সর্বশেষ এমপি নির্বাচিত হন বি. চৌধুরী। এরপর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী দল থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হলে উপনির্বাচনে ওই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে এমপি হন ছেলে মাহী বি. চৌধুরী। এদিকে ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে ঢাকা-৬ ও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বি. চৌধুরী। দুই আসনেই তাঁর অবস্থান থাকে তৃতীয় স্থানে। ঢাকা-৬ আসনে ‘কুলা’ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ২১৫ ভোট। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৭০৯ ভোট। নির্বাচনে খারাপ ফলাফল করায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে বি. চৌধুরীর আগেই আর নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। মাঠের রাজনীতিতে নিজের অবস্থানের কথা আগে থেকেই অনুধাবন করতে পেরে তিনি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি নির্বাচনের আগেই ঘোষণা দেন ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। তরুণ প্রজন্মের নেতাদের উৎসাহিত করতেই নাকি তার এ সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর হোটেল ইম্পেরিয়ালে জাতীয় যুক্তফ্রন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল জানান, নিজের স্থলে নতুনদের জায়গা করে দিতেই তাঁর এ সিদ্ধান্ত। তবে ড. কামাল নির্বাচনে মাঠ ত্যাগ করলেও এখনো গণফোরামের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন তিনিই। জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো যাচ্ছে না। আগের মতো রাজনীতিতেও মন দিতে পারছেন না তিনি। যতটুকুও ছিল তাও সংসদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের মহা ভরাডুবির পর থেকে উবে গেছে। শুধু নিয়ম রক্ষার খাতিরে তিনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন বলে জানান দলের এক নেতা। দলের আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত তিনি দলের সভাপতি থাকছেন। শোনা যাচ্ছে, গণফোরামের পরবর্তী সভাপতি হতে পারেন দলের সাধারণ সম্পাদক পংকজ ভট্টাচার্য।