মুন্সীগঞ্জে কলা চাষ কমে যাচ্ছে

কাজী দীপু, মুন্সীগঞ্জ:
মুন্সীগঞ্জ জেলার কলার এতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় এ এলাকার কলার বেশ নাম ডাক ছিল। জেলার রামপালের কলা সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত। এখান থেকে বিভিন্ন জাতের কলা বিদেশেও পাঠানো হতো। এমন এক সময় ছিল যখন এ এলাকার চাষযোগ্য জমি প্রায় সবটুকুতেই হতো কলা চাষ। তবে কখন কিভাবে রামপালে কলা চাষ শুরু হয তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলার ৫৭৫.৯৫ একর জমিতে কলা চাষ হয়। রামপাল ইউনিয়নের রগুরামপুর এলাকার মো. আউয়াল বেপারির সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তার পরিবার এক সময় কলা চাষী ছিল। এমনকি তার বাড়ির আশপাশও নানা জাতের কলা হতো। এসবের মধ্যে ছিল সবরি কলা, কবরি কলা, সাগর কলা, চাপা কলা আনাজি কলা ইত্যাদি। শুধু বাড়ির আশপাশে নয় তাদের চাষযোগ্য সবটুকু জমিতেই কলা চাষ হতো। কালের আর্বতনে সেখানে আজ বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে। রামপাল বাজারের ব্যবসায়ী রমিজউদ্দিন শেখ ওআমজাদ শেখ জানান, তারাও এক সময় কলা চাষী ছিলেন। এখন তাদের জমিতে সবজির চাষ হয়। তবে পানের বরজের আশপাশে তিন-চারটি কলা গাছ লাগিয়ে থাকে নিজেদের প্রয়োজনে। কলা চাষে আগ্রহ কমে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, নানা রকম রোগ বালাই এবং চোরের উপদ্রবও বেড়ে গেছে।

তাছাড়া আশপাশে যারা কলা চাষ করতো প্রতি বছরের বন্যায় তাদের কলা বাগান বিনষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোকতারও অভাব ছিল। এরকম নানা কারণে রামপালের কলা চাষ আজ বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে রামপাল ইউনিয়নের দিকে তাকালে দুএকটি ভিটা ছাড়া আর কোনো কলাবাগান চোখে পড়ে না। আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের কুমারপাড়ার আলাউদ্দিন মোল্লা জানান, দীর্ঘ ৬০-৬৫ বছর ধরে তিনি কলা চাষ করে আসছেন। স্থানীয় জনসাধারণ এই এতিহ্য ধরে রাখতে চায়। তাই এই এতিহ্য যেন বিলীন না হয় সেজন্য সরকার ও জনগণের এগিয়ে আসা উচিত বলে কলাচাষীরা মনে করেন।