অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বেয়াদবি মাফ করবেন, স্যার

আকিদুল ইসলাম : সিডনি থেকে
অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঠিক দু’দিন পর তার কন্যা মুনা চৌধুরীর ই-মেইল পেলাম। মুনা জানালেন, বি চৌধুরী রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন। বাকি জীবনটা কাটাবেন জ্ঞান বিতরণ করে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়ে নিজের দীর্ঘতম জীবনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করতে চান আগামী প্রজন্মকে।

উন্নত দেশের রাজনীতিকরা অবসর নেয়ার পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করে বেড়ান। নির্বাচনে পরাজয়ের পরও নিজের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করে অনেকেই চলে যান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আঙ্গিনায়। প্রবেশ করেন সামাজিক উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলোর ঘরে। আমাদের দেশে সে সংস্কৃৃতি গড়ে ওঠেনি। রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার কিংবা পরাজয়ের দায় কাঁধে নিয়ে রাজনীতির উঠোন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বক্তৃতা দেয়ার মতো অসামান্য পাণ্ডিত্যইবা আমাদের দেশের ক’জন রাজনীতিক ধারণ করেন? বি চৌধুরীর মতো মনীষী, পরিচ্ছন্ন ও শুদ্ধ রাজনীতিক সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করলে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোকিত পুরুষ হয়ে থাকতে পারবেন, আমি ভাবি। মেইলের উত্তর দিয়ে আমার উচ্ছ্বাসের কথা জানাই। মুনা আমাকে অনুরোধ করেন, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগাযোগ করার জন্য। আমি জানি, একটি দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতিকে অতিথি বক্তা হিসেবে পেলে ওরা নেচে উঠবে। আমি যোগাযোগ করি। ওরা নেচে ওঠে।

একজন রাজনীতিককে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রাজনীতিই করতে হবে কেন? একজন কবি কেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত লিখে যাবেন কবিতা? প্রতিটি মানুষকেই একটি সময়ে গিয়ে থেমে যেতে হয়। যাওয়া উচিত। থেমে যাওয়া মানে সমাপ্তি নয়। থেমে যাওয়া মানে উত্তর প্রজন্মের মাঝে পরিভ্রমণ। মাহাথির মোহাম্মদ জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেই থেমে গেছেন। নেলসন ম্যান্ডেলা ইচ্ছে করলে আরো ১০ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারতেন। থাকেননি। তারা বেঁচে আছেন উত্তর পুরুষের মননে। বিশ্বাসে। তারা দুজনই এখন দীপ্যমান ইতিহাস।

বেয়াদবি মাফ করবেন স্যার, অতীতে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অনেক প্রতিভাবানের জীবনে ট্র্যাজেডি নেমে এসেছে। স্যার, আমার কম্পিউটারে এখনো আপনার অসামান্য জীবনপঞ্জি যতেœ রাখা আছে। অনুমতি দিলে আবার অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগাযোগ করতে পারি।