গজারিয়ায় এগিয়ে তোতা

উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া। আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার ভোটার সংখ্যা লক্ষাধিক। এর মধ্যে মহিলা ও পুরুষ ভোটার সংখ্যা প্রায় সমান সমান। স্থানীয় এই নির্বাচনে ভোটাররা নির্বাচিত করবেন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। এই তিনটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৭ প্রার্থী। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আট জন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে চার জন ও ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে লড়াই করছেন পাঁচ জন। রাজনৈতিক বিবেচনায় এই প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরাই এগিয়ে।

চেয়ারম্যান প্রার্থী
গজারিয়ায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতায় রয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে বিএনপির দুজন ও জাতীয় পার্টির একজন এবং বাকিরা আওয়ামী লীগের। জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত থাকায় উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে তেমন একটা আলোচনা করার সুযোগ হয়নি। ফলে যে যার মতো করে মনোনয়ন দাখিল করেন। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় থাকায় দলীয় সিদ্ধান্ত দেয়ারও সুযোগ হয়নি। তাই দুএকজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকে যান অনেকেই। প্রার্থীরা যে যার মতো করে পোস্টার, ব্যানার, মাইকিংয়ের মাধ্যমে নেমে পড়েন প্রচারে। ঘুরতে থাকেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। সকলেরই প্রত্যাশা নির্বাচিত হওয়ার। আর এ লক্ষ্যে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। তবে এ পর্যন্ত গজারিয়ার আটটি ইউনিয়নের ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে তিনজনের নাম। এদের মধ্যে রেফায়েতুল্যাহ খান তোতা ও আমিরুল ইসলাম হলেন আওয়ামী লীগ নেতা। আর অন্যজন জাতীয় পার্টির মোঃ কলিমুল্যাহ। গজারিয়ার সর্বস্তরের ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রয়েছেন রেফায়েতুল্যাহ খান তোতা।

এগিয়ে রেফায়েতুল্যাহ খান (তোতা মিয়া)
গজারিয়ার ইমামপুর ইউনিয়নে তার জন্ম। পড়াশোনায় এমএ পাস। উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার রয়েছে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জাতীয়ভাবে উপজেলা নির্বাচন আলোচনায় আসতেই তোতা স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতি নিতে থাকেন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার জন্য। আলোচনা করতে থাকেন উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে। এরপর জাতীয় নির্বাচন শেষে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে নেমে পড়েন ব্যাপক প্রচারণায়। রেফায়েতুল্যাহ তোতার রয়েছে নিজস্ব কিছু ভোটব্যাংক। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে বাউশিয়া ইউনিয়নে। এখানে ভোটার রয়েছে ১৬ হাজারের উপরে। আর এই ইউনিয়নটি রয়েছে তার দখলে।

জানা যায়, রেফায়েতুল্যাহ তোতা তার নিজস্ব ভোটব্যাংক হিসেবে বাউশিয়া, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটারসমৃদ্ধ ইউনিয়ন গুয়াগাছিয়া, ভবেরচর ও ইমামপুরকে মনে করেন। এ ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দুপ্রার্থী হাফিজ উদ্দিন খান ও মেজর জসিম তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়ে তোতাকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং প্রত্যক্ষভাবে তোতার পক্ষে প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন। উল্লেখ্য, হাফিজ উদ্দিন খান ও মেজর জসিম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তাছাড়া স্থানীয় সাংসদ ইদ্রিস আলীও তোতাকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে জানা যায়। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে আলোচনায় বসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। ১২৫ জনের কমিটি ভোটাভুটি করে এই সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ১২৫ ভোটের সব কটি পেয়ে দলীয় মনোনয়ন পান তোতা। আর তাই সবকিছুর বিবেচনায় রেফায়েতুল্যাহ খান তোতাই এগিয়ে আছেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনিই নির্বাচিত হতে পারেন গজারিয়ার চেয়ারম্যান।

ভাইস চেয়ারম্যান

গজারিয়া উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন। এদের মধ্যে একজনের রয়েছে সাংবাদিকতার পরিচয়। নাম তার মোস্তফা সারোয়ার বিপ্লব। আর বাকি তিন জনের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। এরা হচ্ছেন শাজাহান খান, মাহবুবুল আলম মজনু, আব্দুল মান্নান। শাজাহান খান ও মাহবুবুল আলম মজনু উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি। অন্য জন মোঃ আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন বিএনপি ঘরানায় থাকলেও সংসদ নির্বাচনের আগে যখন দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের জোয়ার বইতে শুরু করে তখন হঠাৎ করেই ভোল পাল্টে যোগ দেন আওয়ামী রাজনীতিতে। এলাকায় গডফাদার ও ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত এই মান্নান।

ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা)
গজারিয়া উপজেলা নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৫ জন মহিলা প্রার্থী। এই প্রার্থীরা সকলেই স্থানীয়ভাবে পরিচিত হলেও চমক সৃষ্টি করেছেন একেবারেই নতুন মুখ কিমীয়ানি কিবরিয়ানী নূপুর। নূপুর গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকে ঢাকায় পড়াশোনা করেছেন। এ লেভেল, ও লেভেল পাস করে বিদেশি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। অপেক্ষাকৃত তরুণী এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি করেছেন এক নতুন গুঞ্জন। স্থানীয় ভোটারদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছেন ব্যাপকভাবে। সাধারণ ভোটাররা জানান, এদের মতো শিক্ষিত মানুষ যদি জনপ্রতিনিধিত্বে এগিয়ে আসে তাহলে অবশ্যই দেশ দিনবদলের দিকেই এগিয়ে যাবে। নূপুর আম মার্কা নিয়ে বাকি চার প্রার্থী সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নূপুরের সঙ্গে লড়াইয়ে আসতে পারেন মিনুয়ারা আকতার। মিনুয়ারা আকতার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা। এই ইউনিয়নই মিনুয়ারা আকতারের মূল ভোটব্যাংক।

মুন্সীগঞ্জ সদরে এগিয়ে আনিস

জাতীয় নির্বাচনের পরপরই শুরু হয়েছে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী দৌড়ঝাঁপ। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীই বেশি। চেয়ারম্যান পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুজ্জামান আনিস ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও গণফোরাম নেতা মোহাম্মদ হোসেন বাবুল। আনিসুজ্জামান আনিস ও মোহাম্মদ হোসেন বাবুল হচ্ছেন সদর উপজেলার হেভিওয়েট চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ফয়সাল বিপ্লব। অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন খান স্বপন, শহর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান শিকদার, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম মল্লিক, মুজিবুর রহমান ও মোফাজ্জল হোসেন।র্

আনিসুজ্জামান আনিস
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিস জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার পর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছেন। তিনি দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে উপজেলা নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনে সাংসদ পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের ভোটে প্রথম হয়েছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি নবনির্বাচিত সাংসদ এম ইদ্রিস আলীর পক্ষে ব্যাপক নির্বাচনী কর্মকা পরিচালনা করেন। তার রয়েছে ব্যাপক সাংগঠনিক দক্ষতা। ২৪ মার্চ ১৯৯৯-এ তিনি মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার একটি আলাদা ইমেজ গড়ে ওঠে। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার একজন শক্ত এবং দক্ষ প্রশাসক হিসেবে খ্যাতি পান। তার সময় মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা সার্বিক মানের দিক থেকে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। তিনি ২০০৩ সালে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান লাভ করেন এবং ওই বছর স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপিন্সে যান। ওই সময় বাংলাদেশ থেকে ১০ জন চেয়ারম্যান ফিলিপিন্সে প্রশিক্ষণের জন্য গিয়েছিলেন। তিনি উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

[ad#co-1]