পদ্মা সেতু নির্মাণে ৯১৮ হেক্টর জমি ব্যবহার হবে

padma-bridgeপদ্মা সেতুর জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে
পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে সরকার মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের ১৬৩ দশমিক ০৩ হেক্টর জমি হুকুম দখল করবে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের ২৬ দশমিক ৩০ হেক্টর আর শরীয়তপুরের ১৩৬ দশমিক ৭৩ হেক্টর জমি রয়েছে। বাকি ৭৪২ দশমিক ০৭ হেক্টর সরকারি জমি ব্যবহার করা হবে। পদ্মা সেতুর জন্য সরকার মোট ৯১৮ দশমিক ১০ হেক্টর জমি ব্যবহার করবে।
সূত্রে জানা গেছে, চার লেন আর রেল লাইনের ব্যবস্থা রেখে ২৫ মিটার প্রস্থের মূল পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে আরো ১২ দশমিক ১৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। এর মধ্যে মাওয়ার দিকে শূন্য দশমিক ২১৩ কিলোমিটার আর জাজিরার দিকে ১১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার।
সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে সরকার পদ্মা সেতুর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা, পুনর্বাসন পরিকল্পনা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এরই আলোকে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের ডিসিদের জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকা ও প্রধান সামুদ্রিক বন্দর চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি সড়ক পথে প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল, দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মংলাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের জন্য মহাসড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট অংশ ভাটিয়াপাড়া থেকে বেনাপোল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় ২০১০ সালের মধ্যে শুরু হবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে পদ্মা সেতু অবস্থিত হওয়ায় প্রকল্পটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পরিকল্পিত এশীয় হাইওয়ে প্রায়োরিটি রুট নাম্বার এ এইচ-১ এর ওপর অবস্থিত।
সেতু নির্মাণ হলে দেশের অর্থনীতিতে এক দশমিক দুই শতাংশ জিডিপি যোগ হবে। আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিটি বাড়বে দুই শতাংশ। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এরই মধ্যে নকশা প্রণয়নে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি।