সাবেক প্রধান উপদেষ্টাদের সঙ্গে ড. ফখরুদ্দীনের নাম যোগ হলো

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পরই ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নাম যোগ হলো সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানদের নামের সঙ্গে। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও বিচারপতি লতিফুর রহমান। তবে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের আগে রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের পটপরিবর্তনের মাধ্যমে তাকে বিদায় নিতে হয় ২২ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পন্ন না করেই।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই এ দেশে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সরকারের সময় ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ১৪০, আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা ১০০, জাতীয় পার্টি ৩৫ এবং জামায়াত ১৮টি আসন পায়। এ নির্বাচন দেশে ও বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা পায় অবাধ ও নিরপেক্ষতার জন্য। তবে নির্বাচনের ফলের পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ‘সূক্ষ্ম’ কারচুপির অভিযোগ করেন। আর জাতীয় পার্টি বলেছিল, আমরা সমান সুযোগ পাইনি। বর্তমানে সাহাবুদ্দীন আহমদ মিডিয়া এড়িয়ে একান্তই নীরবে-নিভৃতে আছেন।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তবুও এ সংসদেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস হয়। আর এর মাধ্যমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তার সময়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ ১৪৬, বিএনপি ১১৬, জাতীয় পার্টি ৩২ ও জামায়াত ৩টি আসন পায়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এ নির্বাচন প্রশংসিত হয়। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একে গভীর ষড়যন্ত্রের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন।
২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেন বিচারপতি লতিফুর রহমান। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেই ১০-১২ জন সচিব বদলি করে প্রশাসনে আলোচনার ঝড় তোলেন। তার নেতৃত্বাধীন অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩, আওয়ামী লীগ ৬২, জামায়াত ১৭ ও জাতীয় পার্টি ১৪টি আসন পায়। এ নির্বাচনও প্রশংসিত হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ নির্বাচনে ‘স্থূল’ কারচুপির অভিযোগ তোলেন। নির্বাচনের পর লতিফুর রহমান তেমন কোনো কথা বলেননি। ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেয়ার কিছুদিন আগে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ত্যাগ করেন।
বিএনপি সরকারের ক্ষমতা ত্যাগের পর এক সঙ্কটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর ওয়ান ইলেভেনের মাধ্যমে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হয়। নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর ২২ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল করেন। দুই বছর সময় নিয়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৬২ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ৩২টি আসন পায়। এ নির্বাচন সারাদেশ ও বিশ্বে খুবই প্রশংসা লাভ করে। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়। ড. ফখরুদ্দীন আহমদ রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন তন্ময়ে উঠছেন। তিনি লেখালেখি করে সময় কাটাবেন বলে জানিয়েছেন।