চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

শহীদ-ই-হাসান তুহিন মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এ উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন চেয়ারম্যান, আটজন ভাইস চেয়ারম্যান ও পাঁচজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজনই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির। এখানে চেয়ারম্যান পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও গণফোরাম নেতা মোহাম্মদ হোসেন বাবুল, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুজ্জামান আনিস এবং বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন খান স্বপনের সঙ্গে। এছাড়া অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন শহর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান শিকদার, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ফয়সাল বিপ্লব, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম মল্লিক, মুজিবুর রহমান ও মোফাজ্জল হোসেন। মোহাম্মদ হোসেন বাবুল ও আনিসুজ্জামান আনিস হলেন সদর উপজেলার হেভিওয়েট চেয়ারম্যান প্রার্থী।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন বাবুল চেয়ার প্রতীক নিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। নির্বাচনী প্রচারে তিনি ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ১৪-দলীয় নেতা।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিস জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তিনি দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে উপজেলা নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলীর পক্ষে ব্যাপক নির্বাচনী কর্মকা- পরিচালনা করেন। তার রয়েছে ব্যাপক সাংগঠনিক দক্ষতা।
তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন খান স্বপন রিকশা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির দু’বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অল্প বয়সে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে জেলায় রয়েছে তার পরিচিতি। সদরের বাবা আদম (রা) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি গণসংযোগ শুরু করেন। দলীয় সমর্থনসহ তরুণ প্রজন্মের সমর্থন পেলে এবং জাতীয় নির্বাচনের মতো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আশাবাদী। তিনি চান সন্ত্রাস দমন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়ন।
ফয়সাল বিপ্লব কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা। তার বাবা মো. মহিউদ্দিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। দলীয় প্রভাব তার নির্বাচনের পক্ষে যাবে বলে অনেকেই মনে করছে।