কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন বিচিত্র পথের যাত্রী

আহমাদ মাযহার
সাতচল্লিশের দেশভাগ পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্যের নতুন একটা কেন্দ্র গড়ে উঠতে শুরু করল ঢাকায়। আগে বাংলা সাহিত্যের কেন্দ্র ছিল অখণ্ড বাংলার রাজধানী কলকাতা। সাতচল্লিশ পররর্তী সময়ে ঢাকা শুধু কেন্দ্রই হলো না ঢাকাকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যে জেগে উঠতে শুরু করল নতুন জীবনবোধ। বিশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত যে মধ্যবিত্ত মুসলিম সমাজ গড়ে উঠছিল তাদের আত্মঘোষণা ভাষা পেতে শুরু করেছিল সাতচল্লিশ পরবর্তী ঢাকা শহরে। এখানে কলকাতা থেকে এসেও যোগ দিলেন কেউ কেউ। রাবেয়া খাতুন বাংলা সাহিত্যের নতুন কেন্দ্র এই ঢাকার প্রথম যুগের লেখক। কথাটাকে একটু বদলে হয়তো বলা যেতে পারত যে, তিনি ঢাকাকেন্দ্রিক সাহিত্য জগতের প্রথম যুগের নারী লেখক। কিন্তু তাঁকে নারী লেখক বলে উল্লেখ করা হলো না ইচ্ছে করেই। নারী লেখক বললে ধরে নেয়া হয় যে, তাঁদের লেখায় খানিকটা ঘাটতি থাকলেও সেটাকে ধর্তব্যের মধ্যে নেয়া হবে না। রাবেয়া খাতুন নারী হলেও তাঁকে ঐ রকম ছাড়প্রাপ্য অর্থে নারী লেখকের গোত্রে ফেলা যায় না। কারণ শুরু থেকেই তিনি কলম ধরেছিলেন শক্ত হাতে। তবে নারী হয়ে জন্মেছিলেন বলে নারী-পুরুষের সম্মিলিত যে জীবনকে সমগ্র অর্থে মানবজীবন বলা হয়ে থাকে তার অনুভবে বাড়তি সুবিধা তিনি অর্জন করতে পেরেছিলেন।

কথাটাকে একটু পরিষ্কার করে নেয়া যাক। আমাদের সমাজ এগিয়ে চলেছে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। রাবেয়া খাতুন যখন লিখতে শুরু করলেন, প্রবেশ করলেন কর্মজীবনে, সে-সময়ে জীবনের স্বাভাবিক নিয়মেই বুঝে নিতে সক্ষম হলেন এই দৃষ্টিভঙ্গিকে। কারণ পুরুষের সঙ্গে তিনি সমান তালে চলেছেন, ভেবেছেন সাহিত্য নিয়ে। সাহিত্যিক আড্ডায় মেতে উঠেছেন তাঁর সমকালের সেরা লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন পুরুষ। কিন্তু নারী ছিলেন বলে ব্যক্তিক যে সংকটের মধ্য দিয়ে তাঁকে পার হতে হতো তাতে জীবনকে আরও বৃহত্তরভাবে তিনি অনুভব করতে শিখেছিলেন। এ কারণেই রাবেয়া খাতুনকে নারী লেখকদের দলে সাধারণভাবে ফেলে দেয়া হয় না।

রাবেয়া খাতুন বাংলাদেশের অতিপ্রজ কথাসাহিত্যিকদের অন্যতম। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তাঁর সমকালের কজন লেখক সাহিত্যচর্চায় এত দীর্ঘকাল এমনভাবে নিবিষ্ট থাকতে পেরেছেন? তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমসাময়িক লেখকদের নামগুলোর দিকে যদি তাকাই তাহলে খানিকটা অনুভব করতে পারব তাঁর শক্তি কতটা। ব্যক্তিগতভাবে শামসুদ্দীন আবুল কালাম, শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, জহির রায়হান, জাহানারা ইমাম, রিজিয়া রহমান প্রমুখ লেখকের সঙ্গে তিনি ছিলেন ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এসব খ্যাতিমান লেখকের সঙ্গে সমান তালে চলেছে তাঁর কলম। এই দীর্ঘ সময় পরিসরে রাবেয়া খাতুনের কলমে কখনো বিরতি পড়েনি।

কথাসাহিত্যিক হিসেবেও তাঁর মধ্যে রয়েছে বিচিত্র মাত্রা। তিনি উপন্যাস লিখেছেন পঞ্চাশটিরও বেশি, এ-যাবৎকাল পর্যন্ত সংকলিত ছোটগল্পের সংখ্যা চারশোরও অধিক, ছোটদের জন্য লেখা গল্প-উপন্যাসের সংখ্যাও কম নয়, রাবেয়া খাতুনকে যদি বাংলাদেশের ভ্রমণসাহিত্যের প্রধানতম লেখকও বলা হয় তাহলে হয়তো বেশি বলা হবে না। কর্মজীবনে যে-সব মানুষের সান্নিধ্যে এসেছেন, যাঁরা তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছেন বিভিন্ন সময় স্মৃতিকথার মধ্য দিয়ে তাঁদের ব্যক্তিত্বকে পাঠকের কাছে হাজির করেছেন গভীর মমতায়, আন্তরিক শ্রদ্ধায় ও মুক্ত প্রাণে।

প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস মধুমতী (১৯৬৩) চিনিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের শক্তিমান এক কথাসাহিত্যিককে। এই উপন্যাসে ক্ষয়িষ্ণু তাঁতি সম্প্রদায়ের জীবন সংকটের সঙ্গে নাগরিক উঠতি মধ্যবিত্ত জীবনের জিজ্ঞাসাকে উন্মোচিত করেছিলেন তিনি। কথাসাহিত্যিক হিসেবে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন এমন একটা সময়ে যখন ঢাকা অঞ্চলের মানুষ অবস্থান করছিল আধুনিকতা ও গ্রামীণতার সন্ধিক্ষণে। ঢাকাকেন্দ্রিক মধ্যবিত্ত সমাজের সঙ্গে তিনি গ্রামজীবনের শিথিল সম্বন্ধকে ধরে রেখেছেন উপন্যাস ও ছোটগল্পের আধারে। সে-সময় পুরনো ঢাকা কাঠামোগত দিক থেকে নগর হয়ে উঠলেও গাঢ় হয়ে ওঠেনি তার যথার্থ নাগরিক জীবন। তবে এখানকার জীবনযাত্রার সঙ্গে গ্রামের জীবনযাত্রার ছিল বিস্তর পার্থক্য। সেকালের ঘটমান সমাজমানসে ক্রিয়াশীল ছিল যে চেতনা-প্রবাহ তার আনেক অন্তরঙ্গ ছবি উঠে এসেছে তাঁর উপন্যাসে ও গল্পে। পুরনো ঢাকার সেই স্বাতন্ত্র্যকে রাবেয়া খাতুন স্বচ্ছভাবে তুলে আনতে পেরেছিলেন রাজাবাগ (১৯৬৭), বায়ান্নো গলির এক গলি (১৯৮৪) কিংবা সাহেববাজার (১৯৬৯) প্রভৃতি উপন্যাসে। মুক্তিযুদ্ধ তাঁর সংবেদনশীল হৃদয়কে বারবার স্পৃষ্ট করে। সুতরাং বারবার মুক্তিযুদ্ধ তাঁর গল্প-উপন্যাসে প্রাণ পায়। নয় মাসের অবরুদ্ধ দিনগুলোর দিনলিপিও একদিকে হয়ে ওঠে সহৃদয় হৃদয় সংবেদ্য সাহিত্য, অন্যদিকে হয়ে ওঠে প্রামাণ্য দলিল।

তাঁর জন্ম হয়েছিল এমন এক গ্রামে যেখানে বাঙালির চিরকালের লোক-সংস্কৃতির সম্পদ আপনা আপনি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। রাবেয়া খাতুনের সহজাত প্রতিভা আত্মস্থ করে নিয়েছিল সে-সম্পদকে। ফলে ছোটদের জন্য যা-কিছু লিখেছেন তা এক দিকে যেমন প্রাণবন্ত হয়েছে অন্যদিকে হয়েছে লোকঐতিহ্যের অনুষঙ্গে সমৃদ্ধ। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার ও জসীমউদ্দীন নির্দেশিত পথে চলা রাবেয়া খাতুনের শিশুসাহিত্যের মাধুর্যের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ্য বিষয়। কথকতার সৌন্দর্য তিনি যেমন রূপকধর্মী গদ্যে হাজির করতে পারেন তেমনি নিপুণতায় বাক্সময় করতে পারেন আধুনিক নগরজীবনের শিশুমনস্তত্ত্বকেও। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে তিনি লেখক এ্যাডভেঞ্চার কাহিনীর। দুঃসাহসিক অভিযান (১৯৬৭)-এর নিদর্শন। নগরজীবনের পটভূমিকায় লেখা সুমন ও মিঠুর গল্প (১৯৭৮)-এ তো শিশুসাহিত্যের আধুনিক ক্ল্যাসিকই হয়ে উঠেছে। ছোটদের লেখায় মুক্তিযুদ্ধ সরাসরি উপস্থিত রয়েছে একাত্তরের নিশান (১৯৯২)-এ; মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দীপ্ত রচনা তীতুমীরের বাঁশের কেল্লা (১৮৮১) এবং ঈশা খাঁও (২০০৩) ছোটদের কাছে সমাদৃত হয়েছে।

একটা সময় ছিল যখন হেকিম বা কবিরাজদের কদর করা হতো সমাজে। আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়নের ইতিহাস খুব বেশিদিন আগের নয়। বলা যায়, রাবেয়া খাতুনের মোহর আলীরাই শেষের প্রজন্ম। মোহর আলী (১৯৮৫) উপন্যাসে সমাজের অপসৃয়মাণ সে জীবন বোধকে ধরে রাখা হয়েছে।

আবার সাম্প্রতিক জীবনধারাকেও তিনি ধারণ করেন সজীবতায়। দূরে বৃষ্টি (২০০৩), ঠিকানা বি এইচ টাওয়ার (২০০৫), কুয়াশায় ঢাকা নগর বধু (২০০৩), রমনা পার্কের পাঁচ বন্ধু (২০০৩) ইত্যাদি উপন্যাসে বিশ্বায়নকবলিত নগরজীবনের সংকট ও স্বপ্নকে বা স্বপ্নভঙ্গকে ধারণ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে একটা কথা আমরা সাম্প্রতিককালে শুনছি। কারণ যে প্রত্যাশা বিশ শতকের চল্লিশ-পঞ্চাশের দশকের বাঙালি মুসলমান সমাজকে উজ্জীবিত করেছিল তার পতন থেকেই ঘটেছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সূচনা। গণতন্ত্রের প্রত্যাশায়, অধিকার অর্জনের আকাক্সক্ষায় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে উপনীত হয়েছিলাম আমরা। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র পেয়েছিলাম। কিন্তু যে ধর্মকেন্দ্রিক চেতনা পাকিস্তানকে ধ্বংস করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করেছিল তা ছদ্মবেশে রয়েই গেল। স্বাধীন বাংলাদেশেও এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখনো চলছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কথাটির মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধকেই বহাল রাখার কথা বলা হয়ে থাকে। রাবেয়া খাতুন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত একজন লেখক। তাই প্রথম বধ্যভূমি (২০০৪) উপন্যাস লেখেন ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে, ফেরারী সূর্য (১৯৭৫), ঘাতক রাত্রি (১৯৯৯), হিরণ দাহ (১৯৯৫), বাগানের নাম মালনিছড়া (১৯৯৫), হানিফের ঘোড়া (১৯৯৫) লেখেন মুক্তিযুদ্ধের শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলো নিয়ে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আঁচ পাওয়া যায় এই উপন্যাসগুলোতে। এখানেও মূলত মধ্যবিত্ত ব্যক্তি জীবনেরই রূপকার তিনি।

ক্ষীয়মাণ গ্রামীণ তাঁতি সম্প্রদায়ের বেদনা নিয়ে মধুমতী (১৯৬৩) নামে যে উপন্যাসটি তিনি লিখেছিলেন তাকে ঠিক বিশুদ্ধ গ্রামীণ উপন্যাস বলা যায় না। এখানে উঠতি মধ্যবিত্ত মনের রোমান্টিক চেতনাও একই সঙ্গে ক্রিয়াশীল ছিল। তুলনায় বরং পল্লীজীবনের কথা তিনি বলেছেন ই ভরা বাদর মাহ ভাদর (১৯৮৮) উপন্যাসে। সরল গ্রামজীবনকেও যে তিনি গভীরভাবে জানেন তার পরিচয় এই উপন্যাসটিতে পাওয়া যায়। আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারে উপন্যাসটি ব্যঞ্জনা লাভ করেছে।

রাবেয়া খাতুনের সাহিত্য যাত্রার প্রথম পর্বে বাংলাদেশে গড়ে উঠতে শুরু করেছিল চলচ্চিত্রের বর্ণালি জগৎ। তাঁর স্বামী মরহুম ফজলুল হক নিজে ছিলেন চলচ্চিত্রকার। তা ছাড়া চলচ্চিত্রকার হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগেই ফজলুল হক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘সিনেমা’ নামে চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা। সেই সূত্রে এবং নিজের লেখা উপন্যাসের চলচ্চিত্র রূপলাভের সূত্রে রাবেয়া খাতুন চলচ্চিত্র জগতেরও মানুষ। সেই সুবাদে এই জগতের মানুষদের সম্পর্কে অনেক কাছে থেকে জেনেছেন। ফলে তিনি লিখে ফেলতে পারেন রঙিন কাচের জানালা (২০০১) বা কখনও মেঘ কখনও বৃষ্টি (২০০৪) উপন্যাস। আসলে রুপালি পর্দার জীবনের অন্তরালে তিনি মধ্যবিত্ত জীবনে ব্যক্তির সংকটকেই উন্মোচন করেন এবং ঔপন্যাসিক হিসেবে নিজের জীবন উপলব্ধিকে প্রকাশ করেন।

ছোটগল্পকার হিসেবে তিনি বিচিত্র পথের যাত্রিক। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি লিখছেন। অতিপ্রজ লেখক বলে হয়তো তাঁর ছোটগল্পগুলোকে সানুকম্প বিচার করে দেখা হয় নি। যথার্থ নান্দনিক মাত্রা বিচারের মাধ্যমে বাছাই করে গল্পগুলোর সংকলন প্রস্তুত করা হলে হয়তো আরও শক্তিমান গল্পকারকে শনাক্ত করতে পারব আমরা। বাংলাদেশের সমালোচনা সাহিত্যের দীনতার কারণে রাবেয়া খাতুনদের মতো লেখকদের সৃষ্টিশীলতার গতিপ্রকৃতিকে অনুসরণ করে দেখা হয়নি কখনো।

রাবেয়া খাতুন ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। শুধু ভালোই বাসেন না। ভালোবাসেন সেই ভ্রমণের আনন্দ ও উপলব্ধিকে পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে। সে কারণে প্রচুর ভ্রমণকাহিনীর তিনি লেখক। বাঙালি মুসলমান সমাজ চিরকালই ছিল গৃহকোণবাসী। হিন্দু সমাজে যেমন নিকটদূরের তীর্থযাত্রার প্রচলন রয়েছে মুসলমান সমাজে তা নেই। তীর্থযাত্রা বলতে বিত্তশালীগণ যেতেন হজে। কিন্তু সে যাত্রার সমৃদ্ধ ভ্রমণকাহিনী পাওয়া যায় না তেমন একটা। বিশ শতকের মধ্যভাগে এসে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যাওয়ার সূত্রে কেউ কেউ দেশভ্রমণ করেছেন। সে ভ্রমণের বৃত্তান্ত লিখেছেনও কেউ কেউ। কিন্তু এতেও সমৃদ্ধ ভ্রমণসাহিত্য গড়ে উঠতে পারেনি। রাবেয়া খাতুন ভ্রমণসাহিত্য রচনাকে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করেছেন বলে তাঁর ভ্রমণসাহিত্যের বইও অনেক। হে বিদেশী ভোর (১৯৯০), মোহময়ী ব্যাংকক (১৯৯১), টেমস থেকে নায়েগ্রা (১৯৯৩), কুমারী মাটির দেশে (১৯৯৪), হিমালয় থেকে আরব সাগরে (১৯৯৯), কিছুদিনের কানাডা (২০০০), চেরি ফোটার দিনে জাপানে (২০০১), কুমারী মাটির দেশ অস্ট্রেলিয়ায় (২০০৪), মমি উপত্যকা এবং অন্যান্য আলোকিত নগর (২০০৫) তাঁর উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ রচনা। আরও অনেক লেখা পত্রপত্রিকার পাতায় ছড়িয়ে আছে, অপেক্ষায় আছে বই হয়ে প্রকাশের জন্য।

সরাসরি পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী তিনি লেখেননি। কিন্তু বেশ কিছু আত্মজৈবনিক স্মৃতিমূলক রচনা লিখেছেন। একাত্তরের নয় মাস (১৯৯০) বইয়ে লিখেছেন একাত্তরের শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলোর কথা। স্মৃতিকথায় নিজের কথা নয়, নিজের হয়ে ওঠায় যে-সব মানুষের প্রভাব ও ভূমিকা রয়েছে প্রধানত তাঁদের কথা বলেছেন। স্মৃতিকথামূলক লেখাতেও তাঁর ঔপন্যাসিক সত্তারই ভিন্ন রূপ পাই যেন। নিজের ব্যক্তিজীবন নয়, পরিবারের ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উজ্জ্বল যে-সব ব্যক্তির সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তাঁদের মমতাময় ছবি পাওয়া যায় স্বপ্নের শহর ঢাকা (১৯৯৪), স্মৃতির জ্যোতির্ময় আলোয় (২০০৫), চোখের জলে পড়ল মনে (২০০৮) বইয়ে।
২৭ ডিসেম্বর ছিল রাবেয়া খাতুনের জন্মদিন। তাঁকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা। দীর্ঘ দীর্ঘ জীবন হোক তাঁর। কলম থাকুক সচল।

[ad#co-1]