সুত্রাপুরের তিন বিক্রমপুরী

‘আগের সব নির্বাচনে অনেকেই ভোট দেওয়ার বিষয়ে নীরব থাকতেন বা ভোট দিতেন না। কিন্তু এবার দেখেছি, ভোটাররা দেশের কথা চিন্তা করে আর নীরব থাকবেন না। এই ভোটাররা এখন নীরবতা ভেঙে জেগে উঠেছেন। আর এই জেগে ওঠা ভোটারদের কারণেই এই আসনে আমাদের প্রার্থীও অত্যন্ত শক্তিশালী। এখানে এখন দ্বিপক্ষীয় লড়াই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে একেবারে ত্রিপক্ষীয়।’
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সুত্রাপুর ও কোতোয়ালির একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৬ আসন সম্পর্কে এমনই প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বললেন সুত্রাপুর থানার বিকল্পধারার সদস্য সচিব শেখ জামাল হোসেন পাটোয়ারী। শেখ জামালের মতো সুত্রাপুরের অনেকেরই ধারণা, ঢাকা-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিপক্ষীয়।
এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপির পাশাপাশি বিকল্পধারার প্রার্থীর সঙ্গেও লড়াই হবে। আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির প্রার্থী ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজানুর রহমান খান দীপু।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এই তিন প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক দল ও আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও তাঁদের মধ্যে রয়েছে অন্য রকমের এক মিল। জানা গেছে, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, সাদেক হোসেন খোকা ও মিজানুর রহমান খান দীপু তিনজনের বাড়িই মুন্সিগঞ্জ জেলায় এবং বিক্রমপুরে। আবার এই তিন প্রার্থীরই শৈশব ও কৈশোরের পুরোটা কেটেছে ঐতিহ্যবাহী এই পুরান ঢাকার সুত্রাপুরেই। তাই সুত্রাপুরবাসী আসন্ন সংসদ নির্বাচনের এই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তিন বিক্রমপুরবাসীর ত্রিপক্ষীয় একটি লড়াই হিসেবে অভিহিত করছে।
বদরুদ্দোজা চৌধুরী: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পেশায় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিগত জোট সরকারের সময় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং একপর্যায়ে পদত্যাগ করে নতুন দল গঠন করেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ। এই দল থেকে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
সাদেক হোসেন খোকা: ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় পেশা ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এর আগে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০২ সালের ১৫ মে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া এই নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী।
মিজানুর রহমান খান: মিজানুর রহমান খান দীপু দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তাঁর পেশা ব্যবসা। তবে ক্রীড়াঙ্গন, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও ব্যবসায়ী সংগঠনে তাঁর সরব কার্যক্রম রয়েছে। বয়সে তরুণ ও রাজনীতিতে একেবারে নবীন এই প্রার্থী এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সুত্রাপুর ও কোতোয়ালির ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র শিল্প মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই আসনের ত্রিপক্ষীয় লড়াই নিয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয়। এখানে ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির জবাবে কোনো কিছুই বলছে না। এ কারণেই প্রার্থীদের সমর্থকেরা বলছে, এই নীরব ভোটাররাই আগামী ২৯ তারিখ যাঁকে ভোট দেবেন, তিনিই হয়তো এই ত্রিপক্ষীয় লড়াইয়ে জিতে যাবেন।
আরও যাঁরা প্রার্থী: তরীকত ফেডারেশনের এম আহসান আতিক, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শামসের আলী তালুকদার ও ইসলামী আন্দোলনের মানোয়ার খান।