বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪)

buddhadevaরবীন্দ্রোত্তর কালের অন্যতম প্রধান কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সমালোচক, অনুবাদক ও সম্পাদক। জন্ম ১৯০৮ সালে, কুমিল্লা শহরে। পিতৃপুরুষের আদি নিবাস ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে হলেও তার শৈশব ও কৈশোরের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয় নোয়াখালীতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষায় ও সাহিত্যের কৃতী ছাত্র। এখানে অধ্যয়নকালেই তিনি সতীর্থ কবি অজিত দত্তের সহযোগে প্রকাশ করেন ‘প্রগতি’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা। অচিরেই কলকাতার ‘কল্লোল’ গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং ১৯৩১ সালে স্থায়ীভাবে কলকাতায় চলে গেলে সে সম্পর্ক হয় আরো ঘনিষ্ঠ ও প্রসারিত।
বুদ্ধদেব বসু ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কলকাতার রিপন কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৩৫ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘কবিতা’ নামে কবিতা সম্পর্কিত একটি সমৃদ্ধ সাময়িকী। আধুনিক বাংলা কবিতার দৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় এ পত্রিকার অবদান অপরিসীম। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রিত অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। দেশে ফিরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হিসেবেও শিক্ষকতা করেন।
বুদ্ধদেব বসু প্রধানত কবি হিসেবে খ্যাত হলেও তার গদ্যভঙ্গিও বিশিষ্টতার অধিকারী। রবীন্দ্রনাথের পরে সাহিত্যের সব শাখাতেই অঙ্গুলিমেয় যে ক’জন সাধনা করেছেন, বুদ্ধদেব বসু নিঃসন্দেহে তাদের অন্যতম।
তিনি বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে দেড় শতাধিক গ্রন্থের প্রণেতা। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম : ‘বন্দীর বন্দনা’ (কবিতা), ‘কঙ্কাবতী’ (কবিতা), ‘তিথিডোর’ (উপন্যাস), ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’ (কাব্যনাটক), ‘কালের পুতুল’ (প্রবন্ধ), ‘শার্ল বোদলেয়ার : তাঁর কবিতা’ (অনুবাদ), ‘কালিদাসের মেঘদূত’ (অনুবাদ), ‘কবি রবীন্দ্রনাথ’ (প্রবন্ধ) ও ‘হাউই’ (অনুবাদ)। বুদ্ধদেব বসু ১৯৭৪ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।