পদত্যাগ করলেন বিকল্প ধারার বরিশাল অঞ্চলের ৭ প্রার্থী

বি. চৌধুরী এবং মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে অশুভ আঁতাত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বরিশাল অঞ্চলে বিকল্প ধারার মনোনয়ন পাওয়া ৭ প্রার্থী। একই সঙ্গে তারা দল থেকে পদত্যাগ এবং দক্ষিণাঞ্চলে বিকল্প ধারার রাজনীতিরও পরিসমাপ্তির ঘোষণা দেন। বুধবার বিকল্প ধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী সাবেক এমপি অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ খানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সম্মেলনে অধ্যক্ষ রশিদ খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-২ আসনে বিকল্প ধারার প্রার্থী বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ড. আবদুর রহমান খোকন, বরিশাল-২ আসনের প্রার্থী সায়মা জলিল, পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী শামসুল জালাল চৌধুরী, ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মোঃ আবুল কাশেম তালুকদার, ভোলা-১ আসনের প্রার্থী আবু আজম খান এবং ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী মোঃ সিরাজুল ইসলাম। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ খান বলেন, বিগত ২ বছর ধরে তাদের বলা হয়েছে, বিকল্প ধারা মহাজোটে আছে এবং আসন্ন নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় অন্তত ৭ জনকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন এনে দেয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে মহাজোটে না থাকা এবং যুক্তফ্রন্টের নামে ভাঁওতাবাজি করেন দুই নেতা বি. চৌধুরী ও আবদুল মান্নান। তারপরও তারা নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থেকে দলের অবস্থান সুসংহত রাখেন। ১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ডেকে নিয়ে তাদের প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি তাদের প্রয়োজন হলে দল থেকে পদত্যাগও করতে বলেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে দলের মুখপাত্র মাহী বি. চৌধুরীকে বিষয়টি অবহিত করলেও তিনি এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি। পরে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে তারা জানতে পারেন, বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নীলনকশার অশুভ আঁতাত করে নিজেদের দুটি আসনে বিজয় নিশ্চিত করেছেন বি. চৌধুরী ও আবদুল মান্নান। ওই আঁতাতের অংশ হিসেবেই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু সমাজের বিবেকবান অংশ হিসেবে কোন ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না ভেবে তারা কেবল নির্বাচন থেকেই নয়, বিকল্প ধারা থেকেও পদত্যাগ করছেন। বরিশাল অঞ্চলের সবক’টি জেলা-উপজেলায় থাকা নেতাকর্মীরাও তাদের সঙ্গে একযোগে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। আজকের পর বরিশালে বিকল্প ধারা বলতে আর কিছু রইল না। যেহেতু এখন আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আইনগত কোন উপায় নেই তাই তারা সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের এ ঘোষণা দিচ্ছেন। সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ রশিদ খান বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের পর সাধারণ মানুষের ইচ্ছা এবং আকাক্সক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে একজন ভালো মানুষ হিসেবে আমরা বি. চৌধুরীর কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তার বর্তমান কর্মকাণ্ডে এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, পদ-পদবি কেন্দি ক ব্যক্তিস্বার্থ আর ক্ষমতার রাজনীতি ছাড়া তিনিও কিছুই বোঝেন না। মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা আজ কেবল বিকল্প ধারাকেই নয়, এই দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে পথে বসাতে একটুও কুণ্ঠাবোধ করেননি।’