মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব

রাজধানীর পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জ। মুন্সিগঞ্জ-৩ (মুন্সিগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলা) আসনে মহাজোটের দুইজন প্রার্থী থাকায় ভোটারদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের। লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট মুজিবর রহমান আগে ছিলেন জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি। তিনি বুঝতে পারেন এ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন পাওয়া একেবারেই অসম্ভব। কারণ এ আসনে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি’র প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম। তাই মুজিবর রহমান ঢুকে পড়েন জাতীয় পার্টিতে। উদ্দেশ্য ছিল যদি মহাজোটের শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টি এ আসনটি পায় তাহলে মহাজোটের মনোনয়ন জুটবে তার ভাগ্যে। কপালগুণে মহাজোটের মনোনয়ন তার ভাগ্যে জুটেও যায়। কিন্তু একই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে সাবেক সচিব এম ইদ্রিস আলী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নৌকা প্রতীক পেয়ে যান। এখনো পর্যন্ত তিনি নৌকা প্রতীক নিয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। যে কারণে এই নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা নৌকা- লাঙ্গলের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন। দুই প্রতীকের উভয় প্রার্থীই নিজেকে মহাজোটের প্রার্থী বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আগে গজারিয়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং মুন্সিগঞ্জ পৌরসভাসহ সদরের ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে সংসদের এ আসনের সীমানা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু আগের ইউনিয়নগুলোর সাথে এবার সদর উপজেলার আরো তিনটি ইউনিয়ন এবং মীরকাদিম পৌরসভাকে যুক্ত করে আসনটির সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এই নির্বাচনী এলাকায় এবার ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ১৮ হাজার ৭৬৫ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৪১ এবং পুরুষ ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭২৪।

মঙ্গলবার ইত্তেফাক প্রতিনিধি সরেজমিনে গজারিয়া এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে মহাজোট প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কথা জানতে পারেন। চর বাউশিয়া গ্রামের ফল বিক্রেতা আবদুল হক মিয়া জানান, তিনি এ আসনের পাঁচজন প্রার্থীর কাউকে চিনেন না। তবুও তিনি ভোট দিতে যাবেন। তবে মহাজোটের প্রার্থী আসলে কে তা নিয়ে তিনি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছেন। পুরান বাউশিয়া গ্রামের পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা আলম চাঁন জানান, প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের চেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমরা ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছি। বর্তমানে দেশের যে অবস্থা তাতে নির্বাচন হওয়া দরকার। নির্বাচিত সরকারই পারবে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে। নতুন চর চাষী গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল হক মোল্লা জানান, নির্বাচনের আর মাত্র ১২ দিন বাকি। কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাকে তিনি কখনই দেখেননি। এর মধ্যে আবার এ আসনটি নাকি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন আমরা কাকে ভোট দেবো? মুন্সিগঞ্জ শহরের শ্রীপল্লী এলাকার প্রশান্ত ঘোষাল জানান, নির্বাচনের আগেই ভোটারদের কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার কে কোন দল বা জোটের প্রার্থী। মানিকপুরের লোকমান হোসেন ও বাগমা মুদালীপাড়ার আবদুল মতিনও মহাজোটের দুইজন প্রার্থী হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে মহাজোটের প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে বসে নেই গজারিয়ার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থকরা। তারা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কোমর বেঁধে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজুর রহমান খান জানান, এ আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এমন কোন সিদ্ধান্ত তাদের জানা নেই। তাই তারা নৌকার পক্ষে কাজ করছেন।