দেশ পরিচালনা করে খুশি ফখরুদ্দীন

নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর লম্বা ছুটিতে যাবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। গত দুইবছর দেশ পরিচালনা করে তিনি খুশি। তিনি বলেন, যে উদ্দেশ্যে এসেছিলাম তা করতে পেরেছি। এতে খুশিই লাগছে। একটি সুন্দর নির্বাচন করতে এসেছিলাম। তাই করে যাচ্ছি।

বুধবার প্রধান উপদেষ্টা তার তেজগাঁও কার্যালয়ে বিকালে সাংবাদিকদের জন্য চা-চক্রের আয়োজন করেন। চা পান আর নাস্তার মাঝে মাঝে তিনি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের সাথে খোলামেলা কথাবলেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অবসর নেয়ার পর বিদেশী কোন সংস্থায় চাকরি করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার এমন কোন পরিকল্পনা নেই। কোন সংস্থার সঙ্গেও আমার কোন কথা হয়নি। ভবিষ্যৎই বলে দেবে আমি কি করব। তবে বিদেশী সংস্থায় চাকরি নিচ্ছি বলে যে কথা উঠেছে তা ঠিক নয়। এখনো এসব বিষয়ে কিছুই ভাবিনি।

বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে যে গুণগত পরিবর্তনের কথা বলেছিল তা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিশ্চয় হয়েছে।

রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আপনি মনে করেন কিনা – এমন প্রশ্ন করা হলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। ভবিষ্যতেও নিশ্চয়ই এই পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলো যে নিবন্ধন করেছে সেটাও একটা পরিবর্তনের অংশ।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে গ্রুপ ছবি তোলেন। এরপর চলে যাওয়ার সময় হাত নেড়ে বলেন, আমার জন্য আপনারা দোয়া করবেন। প্রায় একঘন্টা তিনি এভাবে সাংবাদিকদের সাথে সময় কাটান।

প্রথমে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানানোর সময় সবার উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত কষ্ট শিকার করে দেশ-বিদেশে আমার সঙ্গে ঘুরেছেন। এজন্য আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে আমাদের সেতুবন্ধন হয়েছে।

নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তিনি কি করবেন – সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করব এটাই লক্ষ্য। পরে কি করব তা এখনো চিন্তা করে দেখিনি। তবে একটা লম্বা ছুটি নেব ভাবছি। ভবিষ্যতে যে পরিস্থিতি সামনে আসবে তা দেখেই সিদ্ধান্ত নেব।

তিনি বলেন, আমার অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু মনের পরিবর্তন হয়নি। আগেও যেভাবে সাংবাদিকদের দেখেছি এখনও সেভাবেই দেখি।

প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা হওয়াটা তার জন্য কোন সুপরিপল্পিত ছিল না। এটি একটি সুযোগ। আমার কাছে সুযোগ এসেছে কাজ করার। আমি সেই সুযোগ নিয়েছি। কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার বিবেক বুদ্ধি দিয়ে সব কিছু করার চেষ্টা করেছি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দুই বছরের একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বছরের প্রথম দিকে দেশে খাদ্য শস্য নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছিল। সে দিকে আমি নজর দিয়েছিলাম। সে সময় দিনাজপুরে ধান কাটা দেখতে যাই। কৃষকদের ধান কাটা দেখি। তাদের প্রচেষ্টার ফলে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। কৃষকদের সেই প্রচেষ্টা আর উদ্যামের কথা আমার মনে থাকবে। বর্তমানে দেশে ৩৩ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ আছে বলে তিনি জানান।